নড়াইলে রাতে আধারে ৮’শ চারাগাছ কেটে ফেলেছে দূবৃত্তরা

209

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইল সদন উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের চৌগাছা গ্রামের পিতৃহীন জাহাঙ্গীর আলম জাহিদের ৫’শ নানা ধরনের ছোট-বড় গাছের চারা কেটে ফেলে তার স্বপ্ন ভেঙ্গে ফেলেছে দূবৃত্তরা। বাড়ির পাশের দেড় একর জমিতে গত চার বছর ধরে নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য সাজানো বাগান শেষ করে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) রাতে একদল দূবৃত্ত একই গ্রামের আরো ২ জন কৃষকের ২ একর জমির মোট ৮’শ নানা বয়সী গাছের চারা রাতের আধারে কেটে মাটিতে মিশিয়ে ফেলে রেখে গেছে। দুঃখে আর কষ্টে কান্না থামাতে পারছেন না বাগেরহাটের পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যানের চাকুরীরত জাহিদ। বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি এসে কিছুক্ষণ পরেই রাত সাড়ে ৯টার দিকে সে এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে জানতে পারে তার জমির লাগানো গাছ ধ্বংস করা হয়েছে।
এলাকাবাসি জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে জাহিদের জমিতে লাগানো প্রায় ৫’শ মেহগুনি, রেইনট্রি, একাশিয়া গাছ কেটে ধ্বংস করে দিয়েছে। একই ভাবে পাশের মাফুজুর রহমান ও সালাম খাঁ’র ৩’শ চারাগাছ কেটে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। দূবৃত্তদের সনাক্ত করতে পারেনি এলাকাবাসি।
ক্ষতিগ্রস্ত জাহাঙ্গীর আলম জাহিদ জানান, ২০১৩ সাল থেকে চাকুরীর পাশাপাশি কষ্ট করে বাড়ি আসার ফাঁকে ফাঁকে গাছগুলো লাগিয়েছেন তিনি। তার মা বৃদ্ধা সুফিয়া বেগম গাছ গুলো পরিচর্যা করেন। আগামি ৮-১০ বছর পরে একে একটি গাছ কয়েক হাজার টাকায় বিক্রি হতো। বড় হলে আগামি কয়েক বছরের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ টাকার সম্পদ হতো।
নিজের নাতিকে জড়িয়ে গাটা গাছ গুলোর কাছে দাড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন সুফিয়া বেগম। তিনি বলেন, স্বামী হারিয়ে ছেলেকে নিয়ে অনেক কষ্টে এই গাছগুলো লাগিয়ে সন্তানদের মতো লালন করে বড় করেছিলাম।এক রাতেরই আমাদের সবশেষ করে দিলো। এর চেয়ে আল্লাহ্ আমারে নিয়ে গেলেও ভালো হতো।
প্রতিবেশিরা জানান, অনেক কষ্ট করে জাহিদের বৃদ্ধা মা গাছগুলোর যতœ করেছে। শত্রু থাকলেও মানুষ এভাবে কারো ক্ষতি করতে পারেনা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব নয় বলে এলাকাবাসির ধারনা।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, ঘটনাটি শুনেছি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।