নড়াইলে শিক্ষক সম্মেলনে শিক্ষা জাতীয়করণের দাবি

201

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইল বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারি ঐক্য পরিষদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই শিক্ষা জাতীয়করণের ঘোষনার দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরা স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
বাংলাদেশে সর্বপ্রথম নড়াইলে শিক্ষা জাতীয়করণের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারি ঐক্য পরিষদ গঠিত হয় এবং তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় স্থানীয় জেলা শিল্পকলা একাডেমি হল রুমে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি ও মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো: রওশন আলী’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নড়াইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো: সোহরাব হোসেন বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিল্পপতি, সমাজসেবক ও নড়াইলকে উন্নয়নের মুল¯্রােতধারায় এগিয়ে নেওয়ার ব্রতকামি ব্যক্তিত্ব শেখ আমিনুর রহমান।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সহ-সভাপতি আব্দুল হাই সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মো: মনিরুজ্জামান মল্লিক,ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাও. মো: আনোয়ার হোসেন, ইতনা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ বিশ্বনাথ চক্রবর্তী প্রমুখ।
সম্মেলন শেষে নড়াইলের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ৬ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। ৬দফা দাবির মধ্যে রয়েছে চাকুরী ক্ষেত্রে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি নেই; বোনাস মাত্র পঁশিচ শতাংশ প্রদান করা হয় ;
বাড়ি ভাড়া মাত্র পাঁচশত টাকা থোক দেওয়া হয়; চিকিৎসা ভাতা মাত্র একহাজার টাকা দেওয়া হয়; উৎসব ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা অদ্যাবধী হয়নি; অবসর গ্রহনের পর সরকার ঘোষিত নুন্যতম সঞ্চয় পেতে কমপক্ষে পাঁচ ছয় বছর সময় লাগে। সে দিনগুলিতে শিক্ষকদের মানবেতর জীবন যাপনসহ চিকিৎসা, সন্তানদের শিক্ষা ব্যয়, জীবিকা ব্যয় ইত্যাদি যোগাড় করতে না পেরে অনেকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন।
স্মারকলিপিতি আরো উল্লেখ্য করা হয়- একই ভৌগলিক সীমানার আওতায়, এক দেশে একই প্রকৃতি ও শিরোনামের চাকুরীতে থেকে এ বঞ্চনা যেমন অধিকার ক্ষুন্ন করে আবার অন্যদিকে বর্তমান প্রাপ্ত সরকারি প্রচলিত সুযোগ সুবিধা দিয়ে সন্তান সন্ততি নিয়ে জীবনের বোঝা বহন খুবই কষ্টের হয়। এসব অধিকারের প্রশ্নে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু তনয়া দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া অঙ্গিকার “আমি সরকার গঠন করলে শিক্ষদের রাজপথে দাড়াতে হবে না, তাঁদের সকল দাবি মেনে স্বতন্ত্র স্কেলে বেতন ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে” মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ সংলাপ আমরা শতভাগ বিশ্বাস করি বলেই আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে শিক্ষা জাতীয়করণের ঘোষনাটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দিলে দরিদ্র শিক্ষক সমাজ চির কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ ও ঋণি থাকবে।