গাছ আছে, রসও আছে কিন্তু গাছিরা নেই

150

নড়াইল কণ্ঠ : গোপালগঞ্জে গাছ আছে, আছে রসও কিন্তু গাছ কাটার গাছি নেই। তাই প্রতি বছর শীতের সময় মানুষ দুর দুরান্ত থেকে রস কিনে এনে পিঠে-পায়েশ খাওয়াতে হয় আত্মীয় স্বজনদের। তার মধ্যে অর্ধেকটা থাকে পানি। অথচ অনেকের ভিটায় রয়েছে অনেক খেজুর গাছ। গাছিদের অভাবে সে সব গাছ কাটা হয় না।
সোমবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বাজুনিয়া এলাকার বৃদ্ধ রোকন বিশ্বাস একটি চায়ের দোকানের সামনে বসে আক্ষেপ করে এ কথাগুলো বলছিলেন। তিনি আরো বলেন, তার গ্রাম ও ইউনিয়নসহ উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। আজ থেকে ৭/৮ বছর আগে শীত মওসুমে গাছিরা এ সব গাছ পরিষ্কার করে কেটে তা থেকে রস আহরণ করতেন। সে সময় প্রচুর রসও হতো। প্রতিদিন গাছিকে দিয়ে যে অর্ধেক টুকু পেতেন তা দিয়ে শীতের সময় পিঠে-পায়েশ খেয়ে সারা বছরের গুড় বানিয়ে রাখতেন। সে ঘটনা এখন গল্প হয়ে গেছে। এখন শীতের সময় নাতি-নাতনীদের দূর-দূরান্ত থেকে প্রতি লিটার রস ৫০ টাকা দরে কিনে এনে পিঠে-পায়েশ খাওয়াতে হয়। তার মধ্যে অর্ধেকটাই থাকে পানি। তা দিয়ে পিঠে-পায়েশ বানালে আগের মতো আর স্বাদ লাগে না।
কাঠি গ্রামের কৃষক আজাদ জানায়, নিজেদের গাছ থাকতেও তারা আর আগের মতো পিঠে-পায়েশ খেতে পারেন না। গাছিরা কোন কিছুর বিনিময়ে এখন খেজুর গাছ কাটতে চান না।
এ ব্যাপারে বাজুনিয়া গ্রামের কালাচাঁদ গাছি জানান, এখন গাছ কেটে যে রস ও গুড় পাওয়া যায় তা দিয়ে সংসারের খরচ চালানো সম্ভব নয়। কারণ যে হারে নিত্য প্রয়োজনী দ্রব্য মূল্য বেড়েছে তাতে অন্য পেশায় না গিয়ে উপায় নেই।
কাজুলিয়া বাজারের প্রবীণ গুড় ব্যবসায়ী সুজন বসু ও বাবুল শিকদার জানায়, এ উপজেলায় প্রতি বছর প্রায় দেড় শ’ টন খেজুরের গুড়ের চাহিদা রয়েছে, যা পার্শবর্তী খুলনা ও যশোরর বিভিন্ন এলাকা থেকে এনে বিক্রি করতে হয়।
এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় কমপক্ষে ৭/৮ হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। যা ঠিক মতো গাছিরা পরিচর্যা করলে বছরে শতাধিক টন খেজুরের গুড় উৎপাদন হতো।