নড়াইলের তিন গরীব বন্ধুর বুয়েটে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন: স্বপ্ন ভঙ্গের আশঙ্কা

2920

আগামি ডিসেম্বর মাসের ২ তারিখ থেকে ভর্তি শুরু

নড়াইল কণ্ঠ : সকল প্রতিবন্ধকতা পার করে সজীব, দীপ্র ও সৈকত তিন বন্ধু বুয়েট, কুয়েট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করলেও তাদের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন ভঙ্গ হতে বসেছে। স্বপ্ন ছোঁয়ার অদম্য ইচ্ছা শক্তি নিয়ে এসএসসি, এইচএসসিতে ভালো ফলাফলের পর এ তিন বন্ধু দেশ সেরা বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্বদ্যিালয় এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যোগ্যতা অর্জন করলেও তাদের ভর্তি এবং লেখাপড়া চালিয়ে যাবার সামর্থ তাদের হত দরিদ্র পরিবারের নেই। কারন শুধু ভর্তি হলেই হবে না। এরসাথে প্রয়োজন মাসিক খরচ। তথ্য প্রযুক্তির এই সময়ে কম্পিউটারসহ আনুসঙ্গিক আরও অনেক সাপোর্ট। তিন বন্ধু জানিয়েছে তারা বুয়েটে লেখাপড়া করতে আগ্রহী। আগামী ডিসেম্বর মাসের ২ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত তাদের ভর্তি কার্যক্রম চলবে। কিন্তু ভর্তির দিন যতই নিকটে আসছে ততই তাদের আশংকা বাড়ছে। তারা স্বপ্ন ছুঁতে পারবে তো?
লোহাগড়া উপজেলার রায়গ্রামের হত দরিদ্র জগদীশ বাইনের পূত্র সজিব বাইন, সদরের বড় মিতনা গ্রামের সুপদ ঘটকের পূত্র সৈকত ঘটক এবং নড়াইলের সীমান্তবর্তী এগারখান গ্রামের প্রদীপ বিশ্বাসের পূত্র দীপ্র বিশ্বাস নড়াইল সরকারি ভিক্টারিয়া কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পায়। তারা এসএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ অর্জন করে। ভিক্টোরিয়া কলেজ, পার্শ্ববর্তী বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজ এবং ভাংগুড়া কলেজের কয়েক শিক্ষকের অসামান্য সাহায্য-সহযোগিতার কারনেই তারা এ সাফল্য পেয়েছে।
সৈকতরা দুই ভাইবোন। দিদির বিয়ে হয়ে গেছে। বাড়ির ভিটা ছাড়া তাদের ২০শতক জমি থাকলে সৈকতের লেখাপড়ার জন্য এ জমি বছর খানেক আগে ৫০ হাজার টাকা অন্যের কাছে বন্দক রাখা হয়েছে। বাবা অন্যের জমিতে শ্রম বিক্রি করে সংসার চালায়। মা সংসারের চাকা সচল রাখতে হাঁস-মুরগি পালন করেন, মৌসুমে অন্যের পাটের আঁশ ছাড়িয়ে এবং অন্যের জমিতে বীজতলা তুলে বাড়তি অর্থ রোজগার করে। দীপ্র বিশ্বাসদের বাড়ির ভিটা ছাড়া মাত্র ১০ শতক জমি রয়েছে। বাবা কখনও ভ্যান চালায়। কখনও কৃষি শ্রমিক হিসেবে অন্যের জমিতে শ্রম বিক্রি করে। মা বাড়িতে দর্জির কাজ ও হাঁস-মুরগি পালন করে। আবার মৌসুমে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজও করেন। সজিবরা ৫ ভাই-বোন। তিন বোন দুই ভাই। বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে। ভাইদের মধ্যে সে বড়। ছোট ভাই ক্লাস ৯ম শ্রেণিতে পড়ে। নিজেদের মাত্র ১ বিঘা জমি রয়েছে। অন্যের জমি বর্গা করে তাদের কোনো রকম সংসার চলে।
সজীব, দীপ্র ও সৈকত জানায়, নড়াইল ভিক্টোরিয়া, বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজ এবং ভাংগুড়া কলেজের কয়েক শিক্ষক কলেজের বাইরে তাদেরকে ফ্রি পড়িয়েছেন এবং কোচিং করিয়েছেন। শুধু তাই নয় তাদের তত্ত্বাবধানে এবং সঠিক দিক নির্দেশনায় আজ এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি।
বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অসীম চক্রবর্ত্তী জানান, আমরা সাধ্যমত এদের সহযোগিতা করছি। তিনি জীবনযুদ্ধে এগিয়ে চলা অদম্য তিন শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন পূরণে সমাজের বিত্তবান, শিক্ষানুরাগীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা কামনা করেছেন।