গোপালগঞ্জে নিজ জেলায় অযত্নে আর অবহেলায় পড়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য

107

নড়াইল কণ্ঠ : বিশ্ব বরেণ্য রাজনীতিবিদ, বাঙ্গালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বাধিকারের মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বরণে নির্মিত একটি ভাস্কর্য। গোপালগঞ্জ সরকারী বঙ্গবন্ধু কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এটিই স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাস্কর্য। কিন্তু বর্তমানে অবহেলা আর যত্নের অভাবে এর বেহাল দশা। অথচ সরকারী বঙ্গবন্ধু কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে অবস্থিত এই প্রতিকৃতিতেই শোক দিবসসহ বিভিন্ন দিবসে আনুষ্ঠানিক ভাবে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সরকারী বঙ্গবন্ধু কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা।
২০০৯ সালে সরকারী বঙ্গবন্ধু কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদের উদ্যোগে সকল সাধারন ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক মন্ডলীর সম্মেলিত প্রচেষ্টায় শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় কলেজ প্রাঙ্গণে নির্মিত হয় এই ভাস্কর্যটি। ভাস্কর্যটি ঠিক নিচেই বঙ্গবন্ধুর একটি উদ্বৃতি দিয়ে লেখা রয়েছে, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম” “এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম” জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই ভাস্কর্যটি ফলক উন্মোচন করেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি। ভাস্কর্যটি নির্মাণ ও উদ্বোধন বেশ ঝাকজমকপূর্ন পরিবেশে হলেও বিগত বছর গুলোতে একটি বারও ভাস্কর্যটির রক্ষণাবেক্ষণ বা মেরামত করা হয়নি।
ভাস্কর্যটি পা থেকে মাথা পর্যন্ত ফাঁটলসহ মরিচাপূর্ন অবস্থায় রয়েছে। নিজ জন্মস্থানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যটি এমন অবহেলা আর অযত্নে পড়ে রয়েছে এটা দেখে গোপালগঞ্জবাসীর লজ্জা পাওয়া উচিত বলে মনে করেন অভিজ্ঞ মহল।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু কলেজের এক শিক্ষার্থীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, প্রতিদিনই বাইরে থেকে ঘুরতে আসা লোকেরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির এই অবস্থা দেখে সরকারী বঙ্গবন্ধু কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমালোচনা করে, হাসি-ঠাট্টা করে এতে করে আমাদের লজ্জায় পড়তে হয়। তিনি অবিলম্বে এই প্রতিকৃতির সংস্কার ও সংরক্ষনের জোর দাবী জানায়।
গোপালগঞ্জ সরকারী বঙ্গবন্ধু কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মতিয়ার রহমান এর অফিসে টেলিফোনে বার বার যোগাযোগ করলেও কেউ ফোনটি রিসিভ করেন নাই। যার কারনে বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে অবিলম্বে এই প্রতিকৃতির সংস্কার করে সরকারী বঙ্গবন্ধু কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি যথাযথ সম্মানের ব্যবস্থা করবে বলে আশা সাধারণ শিক্ষার্থীদেরসহ অভিজ্ঞ মহলের।