দুই লিগের বেশি খেলতে না পারার নিয়মে খুব বড় সমস্যা দেখছেন না মাশরাফি

200

নড়াইল কণ্ঠ : দু’টির বেশি বিদেশী কোন ফ্য্রাঞ্চাইজিভিত্তিক টুয়েন্টি টুয়েন্টি লিগে খেলতে পারবেন না বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। এমন নিয়ম করে ফেলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টুয়েন্টি টুয়েন্টি ক্রিকেটের পঞ্চম আসর চলাবস্থায় এই ইস্যুটি এখন আলোচনার টেবিলে। এ ব্যাপারে নিজের মতামত দিয়েছেন বাংলাদেশ ওয়ানডে ও বিপিএলের রংপুর রাইডার্স দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।
সকালে রাজধানীর বারিধারায় মাদক বিরোধি এক অনুষ্ঠানে মাশরাফি কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো এই ইস্যুটিকে কিভাবে দেখছেন তিনি। এ ব্যাপারে ম্যাশ বলেন, ‘দু’টির বেশির লিগ খেলতে পারবে না। প্রথমত আমার কাছে মনে হয় বাংলাদেশ দলে যারা খেলছে বা যারা ভবিষ্যতে খেলবে তাদের স্বপ্ন অবশ্য বাংলাদেশের হয়ে খেলা। এখানে আমার কাছে মনে হয় না বিরাট কোনো ইস্যু আছে। বাংলাদেশের ক’জনই বা বাইরে খেলে? হয়তো সাকিব খেলে। সে আইপিএল খেলে, মোস্তাফিজ আইপিএল খেলা। আইপিএল ছাড়া অন্য লিগগুলোয় হয়তো সাকিব খেলে। আমার কাছে মনে হয় না এটা বড় কোনো সমস্যা। জানি না কী সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্ত যদি হয়েও থাকে এটা মনে হয় না বড় কোনো সমস্যা। সবাই চায় বাংলাদেশের হয়ে খেলতে, নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে। এখানে সমস্যা হওয়ার কথা না।’
দু’টির বেশি বিদেশী লিগ নিয়ে বোর্ডের সাথে আলোচনা করা যেতে পারে বলে মনে করেন মাশরাফি, ‘সব খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা হয়নি। অবশ্যই আলোচনার সুযোগ আছে। সুযোগ যে নেই তা তো নয়। আমার কাছে মনে হয় বোর্ডের সঙ্গে কথা বললে পরিষ্কার হওয়া যাবে। আমি শুনেছি কাল। আলোচনা করে এটা ঠিক হতে পারে। এর আগেও শুনেছি, আন্তর্জাতিকভাবেই এটা হতে যাচ্ছে, কোন দেশের খেলোয়াড়ই দুটির বেশি খেলতে পারবে না।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের দায়িত্ব ছাড়তে ইতোমধ্যে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। তাই ভবিষ্যতে কোচ নিয়োগের দৌড়ঝাপ শুরু করবে বিসিবি। নয়া কোচ নিয়োগের আগে জাতীয় দলের শীর্ষ খেলোয়াড়দের সাথে আলোচনা করা হবে কিনা জানতে চাওয়া হলে মাশরাফি বলেন, ‘আজ পর্যন্ত কোনো কোচ যখন নেওয়া হয়েছে, গত ১৬-১৭ বছরে আমার অন্তত মনে পড়ে না আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া হয়েছে। এখনো তাই বলব, মনে করছি না আমাদের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন আছে। আমাদের দায়িত্ব মাঠে খেলা। যিনিই আসুন তার পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলা। কে আসবে সেটাও ব্যাপার নয়। যিনি আসবেন তার সাক্ষাতকার নেবে নিশ্চয়ই বিসিবি, তাকে চিন্তা করেই নেওয়া হবে।’
দেশি বা বিদেশী যেকোন কোচের অধীনেই খেলতে প্রস্তুত বলে জানালেন মাশরাফি। তবে বিসিবির সিদ্বান্তকে চূড়ান্ত বলে মনে করেন তিনি, ‘দেশি কোচ হবে কি না পরিষ্কার এখনো জানি না। যদি হয় ওভাবেই খেলব। আমরা বিসিবির অধীনে আছি। বিসিবি যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই থাকতে হবে। আর এখনো হাথুরুর চলে যাওয়াটা নিশ্চিত হয়নি। তার আসার কথা। আলোচনা করে যদি থেকে যায় তাহলে তো আলহামদুলিল্লাহ। এটা নিয়ে প্রশ্ন শেষ। যদি না থাকে তবে বিসিবি চিন্তা করবে যে কে আসবে। দেশি কোচ, সরওয়ার স্যার এক সময় ছিলেন। সুজনভাই জেমি সিডন্সের সময়ে সহকারী কোচ হিসেবে ছিলেন। যে কোচই আসেন তার অধীনে মানিয়ে নিতে সক্ষম হব আমরা।’
তারপরও হাথুরুসিংহে না থাকলে, নতুন কোচের পরিকল্পনার সাথে দ্রুত মানিয়ে নেয়াই শ্রেয় বলে মনে করেন মাশরাফি। বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ম্যাশ বলেন, ‘যখন একটা পরিবর্তন আসে তখন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেটা মেনে নিতে হবে। অবশ্যই গত তিন বছর হাথুরুর অধীনে খেলে তার পরিকল্পনা, দল কেমন হবে অনেকটাই মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল। তিনি যদি না থাকেন নতুন কোচ যে আসবে তার সঙ্গে যত তাড়াতাড়ি মানিয়ে নেওয়া যায়। ২০১৯ বিশ্বকাপ বেশি দূরে নয়। ২০১৮ সালে বিদেশে অনেক দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আছে। সেগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে বিশ্বকাপের জন্য। একটা পরিবর্তন তো হবেই। পরিবর্তনটা যে নেতিবাচক দিকে যাবে তা নয়। আমাদের চেষ্টা করতে হবে এটা ইতিবাচক দিকে নেওয়ার।’
৩ খেলা শেষে ১ জয় ও ২ হারে ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চমস্থানে রংপুর। দলের বর্তমান অবস্থাকে কঠিনই বলছেন মাশরাফি, ‘আমাদের জন্য কঠিন। আমার পয়েন্ট তালিকায় ভালো অবস্থানে নেই। সে দিক দিয়ে হতাশাজনক। আমাদের পুনর্গঠিত করারও সুযোগ আছে। সেটা করে পরের ম্যাচে মাঠে নামতে পারলে ইতিবাচক ফল আশা করছি। কঠিন সময়ে ধৈর্য ধরা কঠিন। ছয় দিনের একটা বিরতি হওয়ায় আমাদের এই ধৈর্যটা ধরতে হচ্ছে।’
এবারের বিপিএলের নিয়মনুযায়ী একাদশে পাঁচজন বিদেশী খেলোয়াড় খেলাচ্ছে ফ্য্রাঞ্চাইজিগুলো। এজন্য দেশি খেলোয়াড়রা কম সুযোগ পাচ্ছেন। তাই ভালো পারফরমেন্স করতে পারছে না দেশি খেলোয়াড় বলে মনে করেন ম্যাশ, ‘আগেও বলেছি। আপনারাও জানেন বাস্তবতা কী? টপ অর্ডারে যারা ব্যাটিং করছে, প্রতিটি দলই বিদেশি ব্যাটসম্যানদের নামাতে চাচ্ছে। বিজয় দেখেন ওপরে ব্যাটিংয়েরই সুযোগ পাচ্ছে না। আরও অনেকে আছে। যখন সুযোগ পাচ্ছে তখন ইনিংস লম্বা করার পরিস্থিতি থাকছে না। ক্রিজে গিয়েই শট খেলতে হচ্ছে। ক্রিকটে এসব ছোটখাটো বিষয় অনেক ম্যাটার করে। কাল জহিরুল যে ইনিংসটা খেলেছে, সেই ম্যাচের নায়ক। রিয়াদ কয়েকটা ছোট ছোট কার্যকারী ইনিংস খেলেছে। খুলনার জায়েদ রাহি খুব ভালো বোলিং করছে। একেবারে যে হচ্ছে না, তা নয়। তবে সুযোগ কমে চাচ্ছে। প্রতিটি দল বিদেশি খেলোয়াড়দের ব্যবহার করতে চাচ্ছে। আমাদের সুযোগ তাই কমে যাচ্ছে।’