আমরা সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেইনি, ইভিএমে প্রস্তুত নই: সিইসি

156

নড়াইল কণ্ঠ : প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, আমরা এখনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলিনি। তবে প্রতি জাতীয় নির্বাচনেই সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকে। এটা একটা বাস্তবতা। কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেইনি। জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করার জন্য আমরা প্রস্তুত নই। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে বুধবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে সিইসি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

আগামী নির্বাচনে কোন বাহিনী থাকবে? সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত কি আপনারা নিয়ে ফেলেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, আমরা এখনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলিনি। প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনেই সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকে। এটা একটা বাস্তবতা। কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত কমিশন বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেইনি। অনেক সময় আছে, এতো তাড়াতাড়ি আপনারা এ সিদ্ধান্ত চান কেন? এখনো এক বছরের বেশি সময় আছে সেই অবস্থানে পৌঁছতে। এতো আগে তো সেই সিদ্ধান্ত দেয়া যাবে না।’ সংলাপে অধিকাংশ দলই সেনার কথা বলেছে। সংলাপের সুপারিশ এবং সেনা মোতায়েন নিয়ে আপনাদের মনোভাব কী এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের এই মনোভাবটা কমিশন মিটিংয়ের আগে আমি বলতে পারব না। আমাদের মনোভাব তো আমার মনোভাব হবে না। যেহেতু এটা নিয়ে কমিশনের সাথে এখনো আলোচনা করিনি। তাই এখনই বলা যাবে না। আমাদের কী মনোভাব।’
একজন কমিশনার সেনা মোতায়েনের কথা বলেছেন- এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি পত্রিকা পড়ে দেখেছি উনি বলেছেন, এটা কমিশনের সিদ্ধান্ত নয়। সেটা আমি লক্ষ করেছি। উনি মনে করেন যে, সেনা মোতায়েন করার প্রয়োজন হবে। এটা তার একটা ব্যক্তিগত মতামত। উনি তো খুব বেশি ভুল বলেছেন মনে হয় না। এটা আমরা সময়মতো বলব। সময়মতো অবশ্যই আপনাদের মাধ্যমে জাতিকে জানাব যে, আমরা কিভাবে করব। মানে সেনা মোতায়েন কিভাবে করব। সেনা মোতায়েন করার বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত তা জানাব, আমাদের কমিশন মিটিংয়ের পর। তখন বিস্তারিতভাবে সেনা মোতায়েনের অবস্থানটা কি হবে, না হবে।
ইভিএম প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, আমি তো আগেও বলেছি যে, আমরা কিন্তু জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে জন্য ইভিএম নিয়ে প্রস্তুত না। এটা আমরা স্থানীয় পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালাব। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম প্রয়োগ করার জন্য আমরা একেবারেই প্রস্তুত না।
সংলাপের পর আপনারা রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন করতে যাচ্ছেন। জাতীয় নির্বাচনের আগে রংপুরের মধ্য দিয়ে জাতিকে কি কোনো বার্তা দেবেন- এ ব্যাপারে তিনি বলেন, অবশ্য আমাদের প্রত্যেকটা নির্বাচন সিটি করপোরেশন নির্বাচন তো বটেই, অন্যান্য নির্বাচনও আমরা একেবারেই নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করব। জাতীয় নির্বাচনে যাতে মানুষের মধ্যে, ভোটারদের মধ্যে আমাদের প্রতি আস্থার অবস্থান সৃষ্টি হয়, আমরা সেজন্য অবশ্যই কাজ করে যাব ও যাচ্ছি।
সেই বার্তাটা কি রংপুর দিয়ে আসবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেই বার্তা তো শুরু হয়ে গেছে। কুমিল্লা থেকে এসেছে। অন্যান্য নির্বাচন যেগুলো করেছি জাতীয় পর্যায়ে দুটো নির্বাচন করলাম এবং ভবিষ্যতে যে নির্বাচনগুলো করব, রংপুর সিটি করপোরেশনসহ সবগুলো নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা সেই বার্তাগুলো পৌঁছে দিতে চাই।
রংপুরে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে। প্রার্থীরা যাতে আচরণবিধি মেনে চলেন সেই ব্যাপারে কমিশন কী বার্তা দেবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু দলীয়ভাবে নির্বাচন হবে, সেহেতু দলের এবং দলীয় প্রার্থীদের আচরণ আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আচরণবিধি তারা মেনে চলবে এবং চলেছে। আমরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে বলতে পারি যে, প্রার্থীগণ নির্বাচনী আচরণবিধি বিধান মেনে চলেছে এবং ভবিষ্যতে তারা মেনে চলবেন এটা আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন।
রংপুর নির্বাচন নিয়ে যাতে কোনো বিতর্কের সৃষ্টি না হয়, সেজন্য স্থানীয় এমপি, নেতা ও প্রশাসনকে আপনারা কী পরামর্শ দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ১৯ তারিখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যারা আছেন তাদেরকে নিয়ে একটা মিটিং করব। আমরা রংপুরে গিয়ে প্রার্থীদের সাথে কথা বলব। যারা নির্বাচন পরিচালনা করবেন তাদের সাথে সভা করব। একাধিকবার তাদের সাথে আমরা মিলিত হবে। এর মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের যে বার্তা তা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করব।