নড়াইলে কাজ না করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ

646

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা কলেজ, ইতনা উদায়ন স্কুল ও ইতনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটে এক লাখ ৭৩ হাজার ৯৬৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, কাজ না করে টিআরের ওই টাকা পুরোটাই আত্মসাৎ করা হয়েছে।নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা কলেজ, ইতনা উদায়ন স্কুল ও ইতনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটে এক লাখ ৭৩ হাজার ৯৬৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, কাজ না করে টিআরের ওই টাকা পুরোটাই আত্মসাৎ করা হয়েছে।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বরাদ্দপত্রে দেখা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ওই তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মাটি ভরাটের জন্য ৫৭ হাজার ৯৮৯ দশমিক ৬৪ টাকা করে মোট এক লাখ ৭৩ হাজার ৯৬৯ টাকা বরাদ্দ হয়। গত মে মাসে এই অর্থ ছাড় করা হয়। কাজ শেষ করার মেয়াদ ছিল ৩০ জুন।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সৈয়দ মো. আজিমউদ্দিন বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতিরা বরাদ্দ হওয়া পুরো টাকাই গত ৩০ জুনের মধ্যে তুলে নিয়েছেন। ইতনা কলেজের অধ্যক্ষ বিশ্বনাথ চক্রবর্তী বলেন, চার-পাঁচদিন আগে ওই বরাদ্দ হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে নিশ্চিত হয়েছি। এ নিয়ে গত শনিবার কলেজ পরিচালনা পর্ষদের জরুরি মতবিনিময় সভা হয়। সভায় ওই অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ।কলেজের মাঠে মটি ভরাট প্রকল্পের পিআইসির সভাপতি ইতনা গ্রামের বাসিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য নজরুল ইসলাম ভুইয়া। তিনি এ প্রকল্পের বিষয়ে বলেন, এ প্রকল্পের বিষয়ে কিছুই জানি না। দুইদিন আগে শুনলাম পিআইসির সভাপতি আমি। কোথাও স্বাক্ষর করিনি। টাকাও তুলিনি। এখন শুনছি এ প্রকল্পগুলো স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের। ইতনা উদায়ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, বরাদ্দ হওয়ার বিষয়টি পাঁচ-ছয়দিন আগে জেনেছি। এ ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেছি। ইউএনও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ প্রকল্পের পিআইসির সভাপতি শিকদার সাহিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এ প্রকল্পের বিষয়ে কোনো কিছু জানি না। এখন শুনছি পিআইসির সভাপতি আমি। আমি কোথাও স্বাক্ষর করিনি। টাকাও তুলিনি। কয়েক মাস আগে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের এক ভাতিজা আমার পরিচয়পত্রটি নিয়েছেলেন, ঢাকার থেকে প্রকল্প আনবেনÑএ কথা বলে।  ইতনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নায়ার সুলতানা বলেন, বরাদ্দ হওয়ার বিষয়টি তিনদিন আগে জেনেছি। এ বিষয়ে এখানো অন্ধকারে আছি। বিদ্যালয়ের পেছন পাশে মাটি ভরাটের খুব দরকার ছিল। টাকাটি পেলে বিদ্যালয়ের বড় উপকার হতো। এ প্রকল্পের পিআইসির সভাপতি আকবর কাজী। আকবর কাজীকে এলাকায় খোঁজ করে পাওয়া যায়নি।   খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিটি প্রকল্পের পিআইসি পাঁচ সদস্যের। অন্য চার সদস্যও এসব প্রকল্পের বিষয়ে কিছুই জানেন না।ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সংশ্লিষ্টরা জানান, কীভাবে এবং কার মাধ্যমে ওই বরাদ্দ হয়েছে তা তাঁরা জানেন না। সম্প্রতি বিষয়টি জানতে পেরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বরাদ্দপত্রটির ছায়ালিপি (ফটোকপি) তাঁরা উদ্ধার করেছেন। পিআইও দপ্তর সূত্র জানায়, ওই প্রকল্পগুলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে কেউ তদবির করে বরাদ্দ এনেছেন।এ প্রসঙ্গে স্থানীয় ইতনা ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান টগর  বলেন, এ প্রকল্পগুলো আমরাই এনেছি। যাঁকে দিয়ে প্রকল্প বরাদ্দের জন্য কাজ করিয়েছি, তিনি ওই তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রকল্প দিয়েছেন, তা আমি জানতাম না। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রকল্পের কাজ করে দিব।