নড়াইলে কুমড়িগ্রামকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’র হস্তক্ষেপ কামনা

122

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইলে পাঁচমিশালী গ্রাম কুমড়ি। এখানে জাতীয় সংসদ সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা, সন্ত্রাসী, লুটকারী, ধর্ষণকারী’র পাঁচমিশালী’র সমন্বয় বসবাস। আমি দেশের বাইরে বসবাস ও ব্যবসা করতাম। ভেবেছিলাম গ্রামের বাড়িতে এসে মাছের ঘের করে এলাকা তথা নিজের ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখব। এ পাঁচমিশালী জাত তা সমূলেই কর্তন করে দিল। এখন জীবন বাঁচনই বড় দায় হয়ে দাড়িয়েছে। আছেন কেউ সমাজে বা রাষ্ট্রে আমাদের গ্রামের এই পাঁচমিশালী জাতের নখের ছোবল থেকে উদ্ধার করতে?

খায়-দায় জব্বার, মোটা হয় চান মিয়া। প্রবাদটি ছোট বেলায় মুরব্বীদের মুখে শুনেছি। প্রমাণ পাচ্ছি হাড়ে-হাড়ে পড়ন্ত বেলায়। বাড়ি আমার নড়াইল জেলার লোহাগড়ার কুমড়ি গ্রামে। মনে কর, আমার ছেলেকে তুমি দিনে-দুপুরে গুলি করে হত্যা করলে। মামলা হলো তুমি খুনি আসামী। প্রশাসনের নাকের ডগায় ঘুরে বেড়াচ্ছ। কেউ তোমাকে ছুঁইতে পারছেন না। কেন? অথচ আমাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে প্রশাসনকে কব্জা করে ধর্ষণ, নির্যাতন, মাছের ঘের লুট, বাড়ি লুট অব্যহতভাবে করে চলেছ। কি চমৎকার নিয়তির বিধান, কি চমৎকার দেশের আইন ও মানবাধিকার। জানমাল ইজ্জত বাঁচাতে দোষ না করে দোষি হয়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে আমাদের। ব্যাপারটি খায়-দায় জব্বার মোটা হয় চান মিয়া’এর মত হলো না? নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক কুমড়ি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের এমন একজন কাঁদতে কাঁদতে উপরোল্লেখিত বর্ণনা দেন।

এ ২টি বিবরণ শোনার পর একজন মানবাধিকার কর্মী হিসেবে বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য সরেজমিনে গেলাম। পাসের ইউনিয়ন ও অন্য গ্রামের মানুষের সাথে আলাপ করে জানতে পারলাম ঘটনাটি ঐ গ্রামের কিছু চিহ্নিত মানুষ বরবরই ঔরকম। আর খতিয়ে দেখতে গিয়ে জানাগেল, বর্তমান জেলার সর্বশ্রেষ্ঠ সন্ত্রাসী ও বাজে এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এই কুমড়ি গ্রামকে।

এলাকাবাসি অসমর্থিত সূত্র থেকে জানাযায়, অভয়ারণ্য সন্ত্রাসী কুমড়ির মানুষ জানমাল সম্ভ্রম বাঁচাতে ও হয়রানিমূলক হামলা-মামলা থেকে বাঁচতে এলাকা ছাড়া। অভিযোগ রয়েছে, খুন ধর্ষণসহ কয়েকটি মামলার পরেও আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় খুনি লুটেরা ধর্ষকরা বহাল তবিয়াতে ঘুরে বেড়াচ্ছে এলাকায়। শুধু তাই নয়, এরাই নাকি প্রতিনিয়ত মাছের ঘেরের পাহারাদারদের নির্যাতন ও জিম্মি করে মাছের ঘেরে বিষ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার চিংড়ি ও সাদা মাছ লুট করে নিয়ে বিক্রি করছে।

আরো জানাগেছে, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কুমড়ি গ্রাম চাঁচুড়ী বিল কুমড়ি অংশে রয়েছে ছোট-বড় হাজার উর্দ্ধে চিংড়ি ও সাদা মাছের ঘের। বিলটিতে কয়েকজন বড় আকারের মাছ চাষী কোটি কোটি টাকা লগ্নী করে। এ কারণে এলাকার মানুষ কর্মসংস্থান পেয়ে অতীতের খুন খারাবি থেকে নিজেদের সরিয়ে এনে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। কেউ বা আবার এলাকায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মাছের ঘের বড় ঘেরের পাড়ের জমি লিজ নিয়ে শাক সব্জী চাষ করে আসছিল। এভাবেই বিল পাড়ের কুমড়িসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষ স্বাচ্ছন্দে জীবন যাপনে অভ্যস্ত  হয়ে পড়েছিল।

গত ২৩ আগাস্ট ২০১৫ তারিখে বিকালে প্রকাশ্যে দিবালোকে খুন হয় বজলে হত্যা মামলার বাদি সৈয়দ ইলিয়াস আলী (৫০)। পুলিশ হত্যা মামলার কোন আসামীকেই আজও ধরেনি। ইতিমধ্যে কিছু  আসামী হাই কোর্ট থেকে জামিনে এসে এলাকায় পুন:রায় সুসংগঠিত হয়ে এলাকায় এককভাবে আধিপত্য বিস্তার করে  বাদিও তাদের স্বজনদের অপহরণ ধর্ষণ ডাকাতি চাঁদাবাজি বাড়ি মাছের ঘের লুটপাটের হত্যা প্রচেষ্টা পঙ্গুকরণ ভয়ভীতি অব্যহত রেখেছে। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্বারা মাছের ঘেরের শ্রমিক সাজেদা বেগম (৩২) গণধর্ষণের স্বীকার হলেও উক্ত মামলায় ভবিষ্যৎ অন্ধকার? ইতোমধ্যেই পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা ধর্ষিতা সাজেদাকে এলাকা ত্যাগে বাধ্য করেছে। হেমায়েত শেখ  ও বালা শিকদারকে  ধারালো অস্ত্রদিয়ে হত্যা প্রচেষ্টা চালায়, বর্তমানে সে মুমূর্ষস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তিকে দৈহিকভাবে নির্যাতন অব্যহত রেখেছে এদের মধ্যে জিলান আলীসহ অনেকে।

এ বিল এলাকায় সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ি ও কার্প জাতীয় সাদা মাছ চাষের যে বিপ্লব এসেছিল সেখানেও সন্ত্রাসীদের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। ঘের শ্রমিক করিম গাজীর লিজকৃত ২ একর মাছের ঘেরে সন্ত্রাসীরা বিষ প্রয়োগ করে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মাছ লুট ও ক্ষতিগ্রস্থ করে। এ কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা সাজেদাকে গণধর্ষণের স্বীকার হতে হয়।

এছাড়া, রবিউল বিশ্বাসের ৩ একর ৪টি ঘের, মাহমুদ শিকদারের ৩ একরের ১টি ২ বার বিষ প্রয়োগ, আজিজার শিকদারে ১ একর ১টি, বালা শিকদারের ১৫০শতক ১টি, রমজান আলীর ১একজর ১টি, লিটন মোল্যা ১একর ১টি, কবির শিকদার ৩একর ৩টি, মিজান শিকদার ২একর ১টি, বিল্লাল শেখ ২একর ১টি, বাবু শেখের ১৩একর ২টি, খায়ের শেখের ৩০একর ৫টিসহ মোট ঘের গুলি থেকে আনুমানিক ৩ কোটি টাকার চিংড়ি ও সাদা মাছ লুট করে বিভিন্ন আড়ত ও হাটবাজের বিক্রয় করে।

ক্ষতিগ্রস্থদের অভিযোগে জানাযায়, বিষ প্রয়োগে ক্ষতিগ্রস্থ করে প্রায় ৫০লক্ষ টাকার মাছ। এ সমস্ত ঘটনায় লোহাগড়া থানায় মামলা হলেও আসামীরা গ্রেফতার হয়নি। সন্ত্রাসীদের লুটকৃত মাছ ও অন্যান্য মালামলের ভাগবাটয়ারায় উপরন্ত ক্ষতিগ্রস্তদের নামে বিভিন্ন্ সময়ে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের লুটপাট নির্যাতন ও ক্ষতিগ্রস্তদের নামে মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলায় পুলিশের ভয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা সহায় সম্পত্তি ফেলে একের পর এক এলাকা ত্যাগে বাধ্য হচ্ছে।

ইতপূর্বে এদের দ্বারা প্রতক্ষ্য ও পরোক্ষভাবে হত্যার স্বীকার হয় বজলে শিকদার, মিকাইল শেখ, তনু ফকির, বাদশা শেখ, তোতা খান, কালা মিয়া, আমেনা বেগমসহ আরো কয়েকজন।

চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের কুমড়ির সন্ত্রাস কবলিত মানুষ জানমাল ইজ্জত বাঁচাতে ও হয়রানিমূলক হামলা মামলা থেকে বাঁচতে ও সহায় সম্পদ এলাকা ছাড়া মানুষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ ও র‌্যাবের  উর্ধতন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজীয়ন ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ঐএলাকার ভুক্তভোগিরা।