নড়াইলের কালিয়া পৌর নির্বাচনে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট প্রত্যাহার

0
104
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

নড়াইল কণ্ঠ : পৌর নির্বাচনে নড়াইল-১ আসনের এমপি কবিরুল হক মুক্তির আচরণ বিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে উল্টো নৌকা প্রতীকের সমর্থকদের হয়রানি করার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রবিউল ইসলামকে সন্ধ্যায় প্রত্যাহার করে নিয়েছেন জেলা প্রশাসক। জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফ বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেছেন।

জানা যায়, এর আগে আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী ওয়াহিদুজ্জামান হীরা কালিয়া পৌর নির্বাচনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছিলেন। রবিবার (২০ ডিসেম্বর) আনুমানিক রাত ৯.৪৫ টায় নৌকা প্রতীকের ক্ষুদ্ধ সমর্থকরা পৌর নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রবিউল ইসলামকে অপসারণের দাবিতে কালিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফ মুঠোফোনে জানান, যেহেতু ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রবিউল ইসলামকে নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে, তাই তাকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।’

অভিযোগে জানা যায়, রবিবার (২০ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ৯ টার সময় এমপি মোঃ কবিরুল হক মুক্তি বিএনপি নেতা সাবেক এমপি ডাঃ মনিরুল ইসলাম টিপুর ছোট কালিয়ার বাড়িতে নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গ করে উঠান বৈঠক করছিলেন। বিষয়টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রবিউল ইসলামকে অবহিত করা হলে তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে কালক্ষেপণ করে এমপি মুক্তির নির্বাচনী উঠান বৈঠকে না গিয়ে উল্টো একই গ্রামের  প্রার্থীর আত্মীয় ও নৌকার সমর্থক সুফিয়ানের বাড়িতে গিয়ে তার পিতা শরিফুল ইসলাম (সাইফুল্লাহ) কে কোন কারণ ছাড়াই অযথা হয়রানিমূলক কথাবার্তা বলে চাপের সৃষ্টি করেন। এরপর নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ৩নং ওয়ার্ডে নির্বাচনী অফিসে আনুমানিক রাত ৯.৩০টার সময় নৌকার সমর্থকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
আরো জানা, তিনি আচারণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে রহস্যজনক কারণে একের পর এক এমপি কবিরুল হক মুক্তি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী  মুশফিকুর রহমান লিটনের পক্ষে উঠান বৈঠক ও জনসংযোগ করার সুযোগ করে দিচ্ছেন। অপরদিকে, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এমপি মুক্তির আচরণবিধি ভঙ্গের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে নৌকা প্রতীকের ভোটার ও সমর্থকদের ভীত সন্ত্রস্ত করে তুলছেন। এতে নির্বাচনী গণসংযোগ,পথসভা,উঠানসভা বিঘœ হচ্ছে বলে নৌকার সমর্থকরা বিরক্ত। ফলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষপাতিত্বের যন্ত্রণায় ক্ষুব্ধ নৌকার সমর্থকরা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটকে প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য বিক্ষোভ মিছিল করেন।

আ’লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো.ওয়াহিদুজ্জামান হীরা বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রবিউল ইসলামের যন্ত্রণায় আমরা ভালোভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারছি না। অপরদিকে, এমপি কবিরুল হক মুক্তির আচরণ বিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। তাই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও অপসারণের জন্য  জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছি।’ এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রবিউল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,‘আমি এমপি মহোদয়ের বিরুদ্ধে আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগ পাওয়া মাত্র ঘটনা স্থলে যেয়ে সত্যতা পায়নি, তাই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তার অপসারণে দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে এ কথা স্বীকার করে তিনি আরো বলেন, আমার বিরুদ্ধে নৌকার সমর্থকদের হয়রানি করাসহ যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য নয়।’