নড়াইলের কালিয়ায় চাঞ্চল্যকর আজমল হত্যা মামলা সিআইডির তদন্ত শুরু

435

বাদীকে অপহরণের অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের

মো.শাহীদুল ইসলাম শাহী, কালিয়া : নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ী ইউনিয়নের কালডাঙ্গা গ্রামের যুবক চাঞ্চল্যকর আজমল ফকির হত্যা মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডিতে হস্তান্তরের পর আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের কাছ থেকে মামলার যাবতীয় নথি বুঝে পাওয়ার পর মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) থেকে পুরোদমে কাজ শুরু করেছে সিআইডির তদন্তকারী দল। এর আগে পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে কালিয়া থানা পুলিশের কাছ থেকে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।
মঙ্গলবার দিনব্যাপী বৃহত্তর যশোর জোনের সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার সামছুল আলমের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সিআইডি) রেশমা সুলতানা ও তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক কাঞ্চন বিশ্বাস উপজেলার চাঁচুড়ী ইউনিয়নের আটলিয়া গ্রামের ঘটনাস্থল এলাকায় যেখানে আজমল ফকিরকে হত্যা করা হয়েছিল,সেই স্থান পরিদর্শনসহ ঘটনার পারিপার্শ্বিকতার বিষয়ে খোঁজখবর এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এ সময় ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য ঘটনাস্থলের আশপাশের প্রত্যক্ষদর্শী স্বাক্ষী হিসেবে চা দোকানদার শফিক শেখ,কাঁচামাল ব্যবসায়ী ওবায়দুললাহ বিশ্বাস,মুদি দোকানদার তসলিম মোল্যা,দর্জি শিপন বেগ, ভিক্টোরিয়া বেগম ভিকটিমের মা ছবুরা বেগম,ভাই রিফায়েত ফকির,রিপন ফকির ও শিশু হাকিমুল ফকিরসহ ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্তকারী দল। তারা দিনভর ওই এলাকা পরিদর্শন শেষে মামলার বিভিন্ন তথ্যউপাত্ত সংগ্রহ করেন।
এদিকে, মামলার বাদী আঃ মান্নান ফকিরকে ২৪ অক্টোবর উপজেলার কালডাঙ্গা মাদ্রাসা বাজারের চায়ের দোকান থেকে সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে অপহরণ করার অভিযোগে উঠেছে। এ ব্যাপারে ৪ নভেম্বর চাঁচুড়ী ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মশিয়ার রহমানসহ ৬ জনকে আসামী করে কালিয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন মান্নান ফকিরকে স্ত্রী ছবুরা বেগম।
প্রসঙ্গত, ২৫ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬ টার দিকে আজমল ফকিরকে (১৮) উপজেলার আটলিয়া গ্রামে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। এ হত্যাকান্ড নিয়ে শুরু থেকেই এলাকায় নানা গুঞ্জন রয়েছে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে পরিকল্পিত এ হত্যাকান্ডের অভিযোগ এনে ২৮ আগস্ট সকালে নিহতের সম্পর্কে চাচা পাভেল মোল্যা বাদী হয়ে চাঁচুড়ী ইউনিয়নের আ’লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর রহমানের ভাই মশিয়ার রহমান ও ৬ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আসলাম মোল্যাসহ ১১ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে সংশ্লিষ্ট থানাকে মামলাটি রেকর্ড করে তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। খুনিরা প্রভাবশালী হওয়ার কারণে কালিয়া থানায় মামলা না নেওয়ায় আদালতে মামলাটি দায়ের করতে বাধ্য হয়েছেন বলে বাদীর অভিযোগ। অপরদিকে,একইদিনে রাতে নিহতের পিতা মান্নান ফকির ২৫ জনকে আসামী করে কালিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলার সব আসামিরাই বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম হিরকের সমর্থক নিরীহ লোকজন। একই ঘটনায় দুইপক্ষ থেকে দু’টি মামলা দায়ের হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী ও সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার সামছুল আলম নড়াইল কণ্ঠকে বলেন,‘ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পারিপার্শ্বিকতার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছি ও কয়েকজন সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছি। তদন্তের স্বার্থে এর বাইরে আর কিছু বলা সম্ভব নয়’।
একই প্রসঙ্গে নিহতের মাতা ছবুরা বেগম নড়াইল কণ্ঠকে বলেন,‘ সিআইডির তদন্তকারী দল আমার সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। আমি ও আমার প্রত্যক্ষদর্শী ছেলে সাক্ষ্য দিয়েছি যে, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে চাঁচুড়ী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা মশিয়ার রহমানের নেতৃত্বে সোহেল মোল্যা ,মিকান মোল্যা, তারেক মোল্যা,সাইফুল শেখ ও তরিকুল মোল্যাসহ একদল দুর্বৃত্ত আমার নিরীহ ছেলে আজমল ফকিরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। একই সঙ্গে মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বাদী আমার স্বামী আঃ মান্নান ফকিরকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে হত্যাকারীরা। খুনীরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি।