নড়াইল জেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র স্বপদে বহাল

532

নড়াইল কণ্ঠ : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা পরিষদ অধিশাখা দুর্নীতি দমন কমিশনের এক মামলার ৭বছরের দন্ডপ্রাপ্ত নড়াইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: সোহরাব হোসেন বিশ্বাসের সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহার করে তাকে স্বপদে বহাল করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ। যার ফলে নড়াইল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: সোহরাব হোসেন বিশ্বাস এখন আর স্বপদে বহাল হতে কোন বাধা রইলো না। দুদকের একই মামলার ৭ বছরের দন্ডপ্রাপ্ত বর্তমান নড়াইল পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, কাউন্সিলর শরফুল আলম লিটুও স্বপদে বহাল হতেও কোন বাধা রইলো না।
বুধবার (০১ নভেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারী করে। বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) নড়াইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: সোহরাব হোসেন বিশ্বাস স্বপদে বহাল হয়েছেন।
উল্লেখ্য, মাননীয় সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের রায় অনুযায়ী মো: সোহরাব হোসেন বিশ্বাস এর আপীল পেনন্ডিং থাকায় এবং তিনি বর্তমানে জামিনে থাকায় নড়াইল পরিষদের চেয়ারম্যান মো: সোহরাব হোসেন বিশ্বাস এর সাময়িক বরখাস্ত সংক্রান্ত স্থানীয় সরকার বিভাগের গত ০৫ অক্টোবর তারিখের ১৯৫০ নং প্রজ্ঞাপন দ্বারা প্রত্যাহার করে।
গত ০১ নভেম্বর (বুধবার) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা পরিষদ অধিশাখা হতে আনজুমান আরা উপসচিব স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারী করা হয়। যার স্মারক নং ৪৬.০০.৬৫০০.০৪২.২৭.০০২.১৭.২০৯১, তারিখ: ১ নভেম্বর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ।
উল্লেখ্য, গত ২৬ সেপ্টেম্বর নড়াইলের রূপগঞ্জ পশুহাট ইজারা সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় যশোরের স্পেশাল জেলা জজ আদালত সোহরাব হোসেন বিশ্বাসসহ ৭ আসামির প্রত্যেককে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও আত্মসাৎ করা টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য ব্যক্তিরা হলেন নড়াইল পৌরসভার তৎকালীন কমিশনার জাহাঙ্গাীর বিশ্বাস(বর্তমান মেয়র), শরফুল আলম লিটু (বর্তমান কাউন্সিলর), মুশফিকুর রহমান বাচ্চু, আহম্মদ আলী খান, রফিকুল ইসলাম ও তেলায়েত হোসেন। ওই দিন সোহরাব হোসেন আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিও করা হয়। মামলার অপর আসামিদের ওই দিনই কারাগারে পাঠানো হয়।মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পাবলিক প্রসিকিউটর) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে আসামি সোহরাব হোসেন নড়াইল পৌরসভার মেয়র ছিলেন। ওই সময় রূপগঞ্জ পশুহাট ইজারার দরপত্র আহ্বান করা হয়। এইচ এম সোহেল রানা পলাশ নামের এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৬৫ হাজার ৫৫৫ টাকায় ওই হাটের ইজারা পান এবং তিনি দরপত্রের নিয়ম অনুযায়ী বিডি হিসেবে ৩৩ হাজার টাকা জমা দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দরপত্র মূল্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে ইজারা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন এবং মেয়র হিসেবে সোহরাব হোসেন তা মঞ্জুর করেন। এরপর ইজারাদাতাকে তাঁর জমাকৃত টাকা ফেরত দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নতুন করে ইজারা আহ্বান না করে সবাই অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে ওই হাট তিন বছর ধরে খাস দেখিয়ে এক লাখ ৯৬ হাজার টাকা আদায় করেন এবং অর্থ আত্মসাৎ করেন।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন সমন্বিত কার্যালয় যশোরের সহকারী পরিচালক ওয়াজেদ আলী ২০০৯ সালের ৭ আগস্ট ৮ জনকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন। মামলার বিচার চলাকালীন মতিয়ার রহমান নামের এক আসামি মৃত্যুবরণ করেন।
সরকারি কৌঁসুলি সিরাজুল ইসলাম বলেন, মামলার দুটি ধারায় আদালত সবাইকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন। এর একটি ধারা হচ্ছে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরটি অর্থ আত্মসাৎ।