জাতীয় উৎপাদনে পর্যটন শিল্প ৪.২ভাগ অবদান রেখে চলেছে -মেনন

3093

নড়াইল কণ্ঠ : বেসরকারী বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি বলেছেন, ‘জাতীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রে পর্যটন শিল্প ক্ষেত্র ৪.২ ভাগ অবদান রেখে চলেছে। এই অবদানের ক্ষেত্রে ব্যক্তি মালিককানাধীন রিসোর্ট, গলফ, হোটেল, মোটেল এগুলো বিরাট ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশে এখন বিভিন্ন প্রান্তে হোটেল, মোটেল রিসোর্ট গড়ে উঠছে। বিশে^র বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকরা এসব রিসোর্টে সময় কাটাচ্ছেন। এতে করে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি জাতীয় আায়ে পর্যটন ক্ষেত্র বিশেষ অবদান রাখছে।
তিনি আরো বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬,১৭,১৮ সালকে পর্যটন বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। একজন পর্যটকের সাথে ১১টি মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ একজন পর্যটক রিসোর্ট থাকে, হোটেল থাকে, কর্মচারীরা কাজ করে, বাজার থেকে জিনিস কেনা হয়, বিমানে অথবা বাসে চলে। এভাবেই কর্মসংস্থানের সৃুষ্টি হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে পর্যটন সম্পর্কে আমাদের সেই সচেতনতা নেই, যে কারনে অনেক সময় আমাদের বাধার সম্মুখীন হতে হয়’।
মন্ত্রী গত শুক্রবার বিকাল ৩টায় নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পানিপাড়ায় অরুনিমা রিসোর্ট গলফক্লাবে মধুমতি নদীতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানঅতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
রাশেদ খান মেনন নড়াইলের অরুনিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাব সম্পর্কে বলেন, অরুনিমা রিসোর্ট প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে সুন্দর একটি পর্যটন কেন্দ্র করেছে। এই অঞ্চলের মানুষের জন্য সুন্দর একটি বিনোদন কেন্দ্র করেছে। একটি আধুনিক মানের গলফ ক্ষেত্র তৈরি করেছে। পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নেয়ার জন্য এই এলাকার জনগনের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কমিউনিটি টুরিজমের প্রতি আরো বেশি নজর দেওয়া উচিত।
কিন্তু দ:খজনক হলেও সত্য যে, অরুনিমা রিসোর্ট কে নিয়ে যে ষড়যন্ত্র চলতে তা অত্যান্ত দু:খের বিষয়। আমি শুনে দু:খিত এই রিসোর্টকে কেন্দ্র করে বেশি কিছুদিন ধরে নেতিবাচক প্রচারণা চলছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসী হামলাও চলছে। এটি নি:সন্দেহে পর্যটন শিল্পের জন্য একটি আঘাত।
বাংলাদেশ ট্যুারিজম বোর্ডকে বলব, এধরনের অপবাদ ও এ ধরণের হুমকি ধামকিক যেন বন্ধ থাকে। পর্যটন শিল্পের ক্ষেত্রে কোন আঘাত জাতাীয় নীতির বিরুদ্ধাচারণ।
কালিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খান শামীম রহমান ওছির সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান, টুরি‌্যজম বোর্ডের পরিচালক নিখিল রঞ্জন রায়, নড়াইলের জেলা প্রশাসক মোঃ এমদাদুল হক চৌধুরী, নড়াইলের পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কালিয়া উপজেলা কমান্ডার মোঃ তরিকুল ইসলাম মন্নু, জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন চৌধুরী, অরুনিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবেব চেয়ারম্যান খবির উদ্দিন আহম্মেদম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইরফান আহম্মেদ প্রমুখ।
মন্ত্রী পরে মধুমতি নদীতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা উপভোড় করেন। প্রতিযোগিতা নড়াইল, গোপালগঞ্জ, খুলনা সহ বিভিন্ন এলাকা আসা ৮টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। নদীর দু’পাড়ে হাজার হাজার দর্শক আবহমান গ্রাম বাংলার এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন।

জাতীয় উৎপাদনে পর্যটন শিল্প ৪.২ভাগ অবদান রেখে চলেছে -মেনন