রবিবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে

262

নড়াইল কণ্ঠ : স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে ১৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই বৃষ্টি ২২ অক্টোবর রোববার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক জানান, শনিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকায় ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
তিনি জানান, স্থল নিম্নচাপের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
রাজধানীসহ সারা দেশে গত দুইদিন ধরে টানা বৃষ্টিপাতে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষদের বেশি বিপাকে পড়তে হয়েছে। বৃষ্টিকে মাথায় নিয়েই তাদের কাজের সন্ধানে ঘর থেকে বের হতে হয়েছে। তবে অনেকেই খুব বেশি জরুরি কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। শহরের রাস্তায় গণপরিবহনের সংখ্যাও অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেকটা কম দেখা যায়।
টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রাজধানীর অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজকের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
আবহাওয়ার অফিসের এক সতর্কবার্তায় আজ জানানো হয়, নিম্নচাপের কারণে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরিশাল,পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠী, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চর স্বাভাবিকের চেয়ে ১ থেকে ২ ফুট বেশি উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
শনিবার ২১ অক্টোবর সকাল থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে গোপালগঞ্জে ২৭১ মিলিমিটার। একই সময়ে ঢাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১৪৯ মিলিমিটার।
টাঙ্গাইলে ১৪৬ মিলিমিটার, মাদারীপুরে ১৭১ মিলিমিটার, ফরিদপুরে ১৪৯ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীর মাইজদীতে ১৯৫ মিলিমিটার, হাতিয়ায় ১০৩ মিলি মিটার, চাঁদপুরে ১৩৭ মিলিমিটার, বরিশালে ১৮৬ মিলিমিটার, পটুয়াখালীতে ১৬৪ মিলিমিটার, ভোলায় ৮৩ মিলিমিটার, খুলনায় ১৬৩ মিলিমিটার, মংলায় ১৩০ মিলিমিটার, যশোরে ১৬২ মিলিমিটার, সাতক্ষীরায় ১২৩ মিলিমিটার, চুয়াডাঙ্গায় ১০২ মিলিমিটার, কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগের ঈশ্বরদীতে ১৩৯ মিলিমিটার এবং সিরাগঞ্জের তাড়াশে ১৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হলেও রংপুর ও সিলেট বিভাগের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।
শনিবার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও ভারতের উড়িষ্যা এলাকায় অবস্থানরত স্থল নিম্নচাপটি সকাল ৯টায় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
নিম্নচাপের প্রভাবে বায়ু চাপের তারতম্য এবং গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হওয়ায় দেশের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বৃষ্টিপাতের প্রবনতা হ্রাস পাবে বলে আবহাওয়া অফিস জানায়।