নড়াইল পৌরবাসি অধিকার লঙ্ঘনের স্বীকার

891

নড়াইল কণ্ঠ : অপরিকল্পিত উন্নয়নে মানবাধিকার লঙ্ঘনের স্বীকার নড়াইল পৌরসভার ৩শতাধিক পরিবার।একটু বৃষ্টি হলেই নড়াইল পৌরবাসির ভোগান্তির শেষ নেই। গত শুক্রবার (২০ অক্টোবর) প্রবল বর্ষণে নড়াইল পৌরসভায় তিন শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। অপরিকল্পিত উন্নয়ন পরিকল্পনা,পরিবেশের কথা না ভেবে এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত না করে বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন নির্মাণ না হওয়ায় পৌরবাসীর অধিকার লঙ্ঘন দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে।
নিম্নচাপের কারনে গত শুক্রবার হতে দুদিনের বয়ে যাওয়া প্রবল বর্ষণে পৌরসভার মহিষখোলা, বরাশুলা, ভাটিয়া, ভওয়াখালী, কুড়িগ্রাম, বাহিরডাঙ্গা, আলাদাতপুর, গো-চর, দূর্গাপুর, ডুমুরতলা, নয়নপুরসহ বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে শহরের অন্যান্য এলাকায় ড্রেন থাকলেও ময়লা আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় দ্রুত পানি সরতে পারছে না। যার কারনে সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধার সৃষ্টি হয়ে থাকে। বৃষ্টিতে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন খেলার মাঠে হাঁটু পানি জমেছে। নড়াইল আব্দুল হাই সিটি কলেজ, পৌর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠেও হাঁটু পানি।
পৌরসভার মহিষখোলা এলাকার হাবিবুর রহমান জানান, মষিখোলা সিটি কলেজসহ আশেপাশের এলাকায় এখনও ড্রেন নির্মাণ না হওয়ায় বৃষ্টিতে পানি বের হতে পারছে না। নিচু এলাকা দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণ হওয়ায় পানি অপসারণের কোন ব্যবস্থা নেই। যার কারনে এই এলাকার শতাধিক পরিবার বছরের ৪/৫ মাস ধরে পানিবন্দি হয়ে থাকে।
মারকাজ মসজিদ সড়কের বাসিন্দা রমজান আলী জানান, তাদের বাড়িসহ আশেপাশের এলাকায় তিনফুট পানি জমে রয়েছে। বছরে প্রায় ৫ মাস জলাবদ্ধতার মধ্যেই বসবাস করতে হবে। ঠিকমতো পৌর কর-খাজনা দেওয়া হলেও চাহিদা মাফিক সেবা পাওয়া যায় না। নাগরিকদের কদর শুধু ভোটের সময়ই বাড়ে। ভোট শেষ হলে আর কেউ খোঁজখবর রাখে না।
পৌরসভার ভওয়াখালী এলাকার আব্দুল কুদ্দুস জানান, অপরিকল্পিতভাবে নগরায়নের কারনে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। নতুন নতুন ভবন গড়ে উঠলেও সেখানে ড্রেনের কোন ব্যবস্থা থাকছে না। যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি চিকন রাস্তার কারনে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিস কিংবা এ্যাম্বুলেন্স যাবার কোন ব্যবস্থা নেই। পরিকল্পিতবাভে নগরায়ণ না হলে আগামীদিনে সমস্যা আরো বাড়বে।
এসব এলাকায় পরিবেশ মনষ্ক পরিকল্পনায় কোন ড্রেন নির্মাণ না করায় বছরের চারমাস জুড়েই জলাবদ্ধতা থাকে। অপরিকল্পিত পরিকল্পনার জন্য সচেতন মহল দায়ি করছে নড়াইল পৌরসভা কর্তপক্ষকে। রীতি মতো পৌর কর্তপক্ষ নাগরিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে।
নড়াইল পৌরসভার প্যানেল মেয়র রেজাউল বিশ্বাস জানান, নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন নির্মাণের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন করা হবে।
উল্লেখ্য,১৯৭২ সালে গঠিত নড়াইল পৌরসভায় বর্তমান জনসংখ্যা ৭০ হাজার। ১৭ বছর আগে (১৯৯৯ সালে) প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হয় এই পৌরসভা। পৌরসভার আয়তন ২৮.৫০ বর্গকিলোমিটার এবং গ্রামের সংখ্যা ২৪টি।