বিদেশে যেতে খালেদার আদালতের অনুমতি লাগবে

158

নড়াইল কণ্ঠ : বিদেশ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশ যেতে পারবেন না। বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকার অস্থায়ী পাঁচ নম্বর আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান এই আদেশ দেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন মঞ্জুর করে এই আদেশ দেন আদালত।
প্রায় তিন মাস লন্ডনে অবস্থান করার পর বুধবার (১৮ অক্টোবর) দেশে ফেরেন খালেদা জিয়া। গত ১৫ জুলাই তিনি লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছিলেন। ঢাকায় ফেরার পরদিনই খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত হলেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর)পুরান ঢাকার বকশিবাজারে ঢাকার অস্থায়ী পাঁচ নম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন খালেদা জিয়া। প্রতি মামলায় এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকার মুচলেকায় তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়া ছাড়া বাকি আসামিদের জামিন নামঞ্জুর হয়েছে।
খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবী মো. সানাউল্লাহ মিয়া জানান, ‘খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বিদেশে ছিলেন। তিনি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এ কারণে দেশে ফিরেই তিনি আদালতে হাজির হয়েছেন। ভবিষ্যতেও তিনি নিয়মিত হাজিরা দেবেন। তবে বিচারক বলেছেন, দেশের বাইরে গেলে তাকে আদালতের অনুমতি নিয়ে যেতে হবে।’
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে খালেদার পক্ষে জামিন আবেদন করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। আবেদনে আপত্তি দেন দুদকের আইনজীবী। খালেদা জিয়া আদালতের কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, ‘যদি কোনও আসামি সময় চায় তাহলে কোর্ট চাইলে দিতে পারেন। এই বিষয়ে বিরোধিতা করার কিছু নেই। জামিন চাচ্ছি।’
দুর্নীতির দুই মামলায় গত ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। একই সঙ্গে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানির কার্যক্রম শেষ করে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপনের তারিখ ঠিক করে দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দুদক। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আর এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে দুদক জিয়া অরফানেজ মামলাটি দায়ের করে। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়।
অভিযোগপত্রে খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমান, কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে আসামি করা হয়।