নড়াইলে ভূমি সেবায় অন্যন্য ব্যক্তিত্ব আজিম উদ্দিন

799

একটু দাড়ান! ভূমি অফিসে প্রবেশের পূর্বে অনুগ্রহপূর্বক নিচের লেখাটা পড়–ন। নড়াইল সদর উপজেলা ভূমি অফিস সম্পূর্ণরূপে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম, হয়রানী ও দালালমুক্ত। আপনি ভূমি অফিসে কাউকে অবৈধভাবে টাকা দিয়ে প্রতারিত হবেন না। কেউ টাকা দাবী করলে বা অত্র কার্যালয়ের কোন কর্মচারী দ্বারা হয়রানির শিকার হলে সরাসরি সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে অবহিত করুন। মনে রাখবেন, উপজেলা ভূমি অফিস আপনার অফিস। আমরা আপনাদের সেবক মাত্র। আপনার সেবা করাই আমাদের দায়িত্ব। তাই আপনার ন্যায্য অধিকার আপনি আদায় করে নিন। আপনার সহযোগিতার আমাদের একান্ত কাম্য। ঘুষ ও দুর্নীতি মুক্ত সোনার বাংলাদেশ গঠনে আপনিও অংশদীর হোন। প্রচারে সহকারী কমিশনার (ভূমি), নড়াইল সদর, নড়াইল, মোবাঃ ০১৭৮৭-৪০০৩০০।
নড়াইল সদর উপজেলা ভূমি অফিসে প্রবেশের প্রথম গেটের সামনে একটি সাইনবোর্ডের এই লেখা দেখলে সেবাপ্রার্থীদের মন জুড়িয়ে যায়।
৩০ গজ এগিয়ে গেলেই ভূমি অফিসের দ্বিতল ভবন। সেখানে পৌছানোর পর প্রথম তলা ও দ্বিতীয় তলায় বেশ কিছু ব্যানারে শোভা যাচ্ছে ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সতর্কবাতা এবং সেবা গ্রহীতাদের অবগতির জন্য সচেতনতামুলক অনেক তথ্য।
বড় একটি সাইনবোর্ডে জমি কেনার পূর্বে সাধারণ সতর্কতা। এই সাইনবোর্ডে জমি কেনার পূর্বে কোন কোন বিষয়ে খোজখবর নেওয়া প্রয়োজন এমন ১৭টি সচেতনতামূলক বার্তা শোভা যাচ্ছে।
এছাড়া কার্যালয়ের সামনে বিশাল একটি সাইনবোর্ডে সিটিজেন চার্টারের মাধ্যমেও সেবা গ্রহীতারা সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সেবার তথ্য জানতে পারছেন।
ভূমি অফিসের নিচ তলায় প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে আরো কিছু সচেতনতামূলক ডিজিটাল ফেস্টুন। এসব ফেস্টুনে লেখা আছে ‘আপনার জমি আপনার অধিকার, উপজেলা ভূমি অফিস নড়াইল সদর থেকে আপনার সেবা বুঝে নিন’। সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য। রশিদ ব্যাতীত কোন অর্থ লেনদেন করবেন না। নিজে নিজে কারুন দালাল প্রতারক থেকে দূরে থাকুন। সরকারী সম্পত্তির অবৈধ দখল থেকে দূরে থাকুন। নিচতলা ও দ্বোতলায় বিভিন্ন কক্ষে এবং বারান্দায় এমন সচেতনতামূলক অনেক বাক্য রয়েছে যা সেবাপ্রার্থীদের নজরে পড়ছে।
জানাগেছে, নড়াইল সদর উপজেলা ভূমি অফিসে গত ২৬/০৯/১৭ তারিখে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আজিম উদ্দিন রুবেল যোগদান করেছেন। যোগদানের পর থেকে ভূমি অফিসের আমুল পরিবর্তন শুরু হয়েছে।
সদা হাস্যেজ্জ্বল, ন্যায় পরায়ন আজিম উদ্দিন এর আগে নড়াইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে অত্যান্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। নেজারত ডেপুটি কালেক্টর সহ বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে তিনি অত্যান্ত ন্যায় নিষ্ঠা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালণ করেছেন।
নড়াইল সদর উপজেলা ভূমি অফিসে যোগদানের পর তিনি অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। ভূমি অফিসের বিগত সময়ের বদনাম ঘোচাতে এবং সেবাপ্রার্থীদের দ্বোরগোড়ায় সেবা পৌছে দিতে ভূমি অফিসকে সকল প্রকার অনিয়ম,হয়রানী, ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে সকলের মতামত গ্রহণ করেন। এতে কর্মচারীদের স্বত:স্ফুর্ত সাড়াও মেলে। এরপর থেকে কার্যক্রম শুরু হয়।
উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার তাপস কুমার বসু বলেন, ‘ নতুন স্যার যোগদানের দুদিন পর গত ২৮/০৯/১৭ তারিখ থেকে অফিসের বিভিন্ন স্থানে সেবাপ্রাপ্তির তথ্য সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুন টানানো হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষ দ্রুত সেবা পাচ্ছেন এবং কোন হয়রানী বা অনিয়মের বালাই নেই আমাদের এই অফিসে’।
এই অফিসের সার্টিফিকেট পেশকার ফিরোজা পারভীন বলেন, সদর উপজেলা ভূমি অফিস থেকে খুব দ্রুত সময়েই সেবা পাচ্ছেন জনগণ। মানুষকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সেবা দিতে পেরে আমরা খুশি’।
উপজেলা ভূমি অফিসের মিউটেশন সহকারী ইউনুস আহম্মেদ জানান, সেবা প্রার্থীরা মিউটেশন করতে এসে দ্রুত সময়ের মধ্যেই সেবা পাচ্ছেন। মিউটেশনের ক্ষেত্রে ৪৫ দিন পর্যন্ত সময় থাকলেও জমির প্রয়োজনী কাগজপত্র সাপেক্ষে দুই সপ্তাহের মধ্যেই সেবা প্রদান করা হচ্ছে। সব কাজেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেবা দেয়া হচ্ছে।
সেবা নিতে আসা নড়াইল সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা আবুল খায়ের জানান, তিনি জমির মিউটেশনের জন্য এসেছিলেন। অন্যান্য সময়ে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নিলেও এবার কোন টাকা লাগেনি।
সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের সীমাখালী গ্রামের শাহীন সরদার বলেন, কিছুদিন আগেও জমির নামপত্তন করতে তিনমাস সময় লেগেছে এবং অতিরিক্ত টাকা (ঘুষ) দিতে হয়েছে। কিন্তু‘‘ নতুন স্যার আসার আসার পর মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই নামপত্তনের কাগজ হাতে পেয়েছি’।
শহরের বরাশুলার আনোয়ার হোসেন খান বলেন, জমির নামপত্তনের জন্য কাগজপত্র জমা দেয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যেই কাগজ হাতে পেয়েছি। খুবই ভাল লেগেছে। এভাবে যদি বাংলাদেশের প্রতিটি অফিস আদালত ঘুষ, অনিয়ম, দুর্নীতি ও দালালমুক্ত হতো, তাহলে আমাদের জন্মভূমি সত্যিকাথের্ই সোনার বাংলায় পরিণত হতো’।
জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো: মনিরুজ্জামান মল্লিক বলেন, ‘‘ নবাগত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আজিম উদ্দিন যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা সত্যিকারেই মানব সেবার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে দাড়িয়েছে। প্রতিটি অফিস যদি অনিয়ম, ঘুষ, দুর্নীতি ও দালালমুক্ত মুক্ত করা যায়, তাহলেই মানুষ প্রকৃতপক্ষে সেবা পাবেন। ভূমি অফিস নিয়ে মানুষের মাঝে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। আমরা বিশ^াস করি, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আজিম উদ্দিন রুবেলে মতো কর্মকর্তা প্রতিটি দপ্তরে সৃষ্টি হবে এবং অনিয়ম, ঘুষ, দুর্নীতি ও দালালমুক্ত মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে’।
নড়াইল সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আজিম উদ্দিন রুবেল জানালেন তাঁর স্বপ্নের কথা। তিনি বলেন, ‘চাকুরীতে প্রবেশের পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্যদিয়ে জনগনের কাছাকাছি আসতে পেরেছি। অতীতেও সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে এসেছি। সৎ থেকে কিভাবে মানুষকে সেবা দেয়া যায় সে চেষ্টাই করেছি। এখনও সেই চিন্তা-চেতনা নিয়েই কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। ভূমি অফিস নিয়ে মানুষের মাঝে যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। চেষ্টা থাকবে হয়রানী ও ভোগান্তিহীন সেবা প্রদানের মাধ্যমে ভূমি অফিস সম্পর্কে মানুষের মাঝে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করা। এ কাজে অফিসের কর্মচারীরা স্বত:স্ফুর্তভাবে সহযোগিতা করলেও দালালচক্রের কারনে কাজ কিছুটা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। তবে চেষ্টা চলছে দালালমুক্ত করার জন্য।
সদর উপজেলা ভূমি অফিসের পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়ন ভুমি অফিসকে অনিয়ম, দুর্নীীত ঘুষ, হয়রানী ও দালালমুক্ত করার নিরন্তন চেষ্টা থাকবে। খুব দ্রুত প্রতিটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একটি করে ব্যানার এবং একটি করে অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হবে’।
‘এছাড়া নড়াইল অফিসে একটি সততা পয়েন্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে। সততা স্টোরে , স্টাম্পসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকবে। কিন্তু কোন বিক্রেতা থাকবে না। সেবা গ্রহীতারা তাদের প্রয়োজনীয় কাগজ ক্রয় করে সেখানেই টাকা রেখে আসবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নৈতিকতাবোধের পরিচয় মিলবে। এছাড়া একটি ফিডব্যাক কর্ণার করা হবে। এই অফিস থেকে সেবা নিয়ে সেবা গ্রহীতাদের অনুভূতি জানাতে পারবে ফিডব্যাক সেন্টারে।
তিনি বলেন, বর্তমানে সেবা গ্রহীতাদের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। অফিস চলাকালীণ সময়ে ভীড় পড়ছে। বৃহস্পতিবার কর্মদিবসেও অন্তত ৮০টি নাম পত্তন হয়েছে’।
এছাড়া কৃষি খাস জমি বন্দোবস্তের জন্য ভূমিহীনরা আবেদন করলে গুরুত্বের সাথে দেখা হবে।
– প্রতিবেদক সাংবাদিক আবদুস সাত্তার, নড়াইল।