লোহাগড়ার নির্যাতিত শিক্ষক মনি কুমার ৮দিন পর হাসপাতাল ছাড়লেন

289

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইলের লোহাগড়ায় গাছে বেঁধে নির্যাতনের শিকার শিক্ষক মনি কুমার বিশ্বাস (৩৬)কে গত শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) ৮দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়লেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নড়াইল শহর থেকে তাঁকে সঙ্গে করে ৩৫ কিলোমিটার দূরে তাঁর গ্রামের বাড়ি লোহাগড়ার লাহুড়িয়ায় পৌঁছে দেন। এ সময় আসামি দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে পথে তিন জায়গায় সমাবেশ হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর রাতে উপজেলার লাহুড়িয়া গ্রামের মাঝিপাড়ায় (রাজবংশীপাড়া) ওই শিক্ষককে নির্যাতন করা হয়। রাত নয়টা রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে বাগানের মধ্যে মেহগনি গাছে বেঁধে রাত তিনটা পর্যন্ত বেধড়ক মারধর করে তাঁকে নির্যাতন করে দুর্বৃত্তরা।
তখন তাঁর স্বজনদের কাছ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও সাড়ে চার লাখ টাকার একটি চেক লিখে নেয় তারা। ১০০ টাকার একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পেও স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ছয়জনের নামে থানায় মামলা হয়। এতে একজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত ১০দিনেও মূল আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় গতকালের সমাবেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তরা।
শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা, মানবাধিকার কর্মী, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, জেলা ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের লোকজন তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার সময় লোহাগড়া সদরের জয়পুর মোড়, লাহুড়িয়া বাজার এবং ওই শিক্ষকের বাড়ির পাশের মন্দির চত্বরে সমাবেশ হয়।
এ সময় বক্তারা বলেন, নির্যাতনের শিকার শিক্ষক বাড়ি ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছিলেন,তাই তাঁকে এভাবে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়।
দ্রুত মূল আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে ওইসব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বাবুল কুমার সাহা, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অশোক কুমার কুন্ডু, লোহাগড়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি কমল কৃষ্ণ বালা, হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স ফোরামের জেলা সম্পাদক কাজী হাফিজুর রহমান, লোহাগড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল জলিল শিকদার, সাংবাদিক মলয় কান্তি নন্দী ও রূপক মুখার্জি, লাহুড়িয়া বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশিদ প্রমুখ।