নড়াইলে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নিষেধজ্ঞা অমান্য করে বাড়িভাঙ্গার স্লুইসগেট বন্ধ করলো দুর্বৃত্তরা

244

নড়াইল কণ্ঠ : নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নির্দেশে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বাড়িভাঙ্গার স্লুইসগেট খুলে দেয়ার পর তার আদেশ অমান্য করে গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা বন্ধ করে দিয়েছে স্লুইসগেট। বৃহস্পতিবার ( ১২ অক্টোবর) ভোর রাতে এ দূর্বৃত্তরা প্রশাসনকে বৃদ্ধঙ্গলী দেখিয়ে স্লুইস গেটটি খুলে দেয়। এ ঘটনায় এলাকার সচেতন মহল আইনের প্রতি আস্তা হারিয়ে রীতিমত হতবাক।
জানাগেছে, লোহাগড়া উপজেলার সর্ববৃহত বিল ইছামতির সাথে নবগঙ্গা নদীর সংযোগ স্থাপন করেছে বাড়িভাঙ্গা খাল। এই খাল দিয়েই দেশীয় প্রজাতির পুটি, স্বরপুটি, শোল, টাকি, কৈ, শিং, পাবদা, ফলই, গুইতে, বাইন, টেংরা, কাকলে সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিল থেকে নদীতে নেমে আসে।
নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের ব্রাহ্মণডাঙ্গা ও চরব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল প্রতিবছর ৫/৭ লাখ টাকায় অবৈধভাবে খালটি মাছ ধরার জন্য ইজারা দেয়।
মাছ ধরার সুবিধার্থে ওই খালের স্লুইস গেটের চারটি গেটের একটি খোলা রাখায় বিলের পানি অপসারণে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ফলে রবিশষ্যের চাষাবাদ ব্যাহত হয় এবং বোরোধানের আবাদ পিছিয়ে যায়।
এর প্রেক্ষিতে বুধবার (১১ অক্টোবর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট লোহাগড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এম আরাফাত হোসেনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় নলদী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই সাইদুজ্জামান সহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানকালে তিনটি সুইতে জালের বাঁধ অপসারণ শেষে স্লুইসগেটটি খুলে দেওয়া হয়। দুষ্কৃতকারীরা যাতে তাদের স্বার্থে গেট বন্ধ না করতে পারে সেজন্য গেট খোলার চাবি জব্দ করে নিয়ে যান নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট।
কিন্তু রাতের বেলায় বিকল্প পন্থায় রেন্স দিয়ে তিনটি গেট বন্ধ করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। যার কারনে দ্রুত বেগে বিল থেকে পানি বের হতে পারছে না।
নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিেিত স্লুইসগেট খুলে দেওয়ার পর আইনের প্রতি বৃদ্ধঙ্গুলি দেখিয়ে গেট বন্ধ করে দেয়ায় সচেতন মহল রীতিমতো অবাক হয়েছেন।
এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীনের নেতৃত্বে ওই খালের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ ভাবে মাছ ধরার আড়াআড়ি বাঁশের বাঁধ উচ্ছেদ করা হয়।
কিন্তু নির্দেশ অমান্য করে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শণ করে অভিযানের পরের দিন স্থানীয় কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল বাঁধ দিয়ে পুনরায় অবৈধ ভাবে মাছ শিকার করে আসছিলেন।
গত ৭ অক্টোবর জেলা প্রশাসক মোঃ এমদাদুল হক চৌধুরী নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের ব্রাহ্মণডাঙ্গায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। ওই অনুষ্ঠান থেকেও বাড়িভাঙ্গা খাল উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু তারপরও বাঁধ অপসারণতো দূরের কথা নতুন করে আরো বাঁধ স্থাপন করা হয়।
প্রশাসনের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বাড়িভাঙ্গা খালে আড়াআড়ি বাঁধ এবং স্লুইসগেট বন্ধ করে রাখলেও স্বার্থান্বেষী মহলের ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে এসব ঘটনার নেপথ্যে একজন প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি থাকায় বার বার আইন অমান্য করেও পার পেয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা।