চিত্রাকে দখলমুক্ত করতে নড়াইলের জেলা প্রশাসকের উদ্যোগ

207

নড়াইল কণ্ঠ : চিত্রার অপদখল অপসরণ, চিত্রার দুই পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, বাঁধাঘাট সংস্কার ও সুলতান ঘাট নির্মাণ প্রকল্প সমূহের এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন নড়াইলের জেলা প্রশাসক মোঃ এমদাদুল হক চৌধুরী। গত বুধবার (১১ অক্টোবর ) বিকেল প্রশাসনের একটি টিম সরেজমিন এ সব প্রকল্প এলাকা পরির্দশ করেন। এ সময় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ( উপ সচিব) মো: সিদ্দিকুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব) কাজী মাহাবুবুর রশীদ, নির্বাহী প্রকৌশলী,গণপূর্ত, নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সহকারী কমিশনার (ভূমি), এসি ল্যান্ড মো: আজিম উদ্দিন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, চিত্রানদীকে দূষণ ও দখলমুক্ত করার প্রয়াসে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ, বর্জ্য অপসারণ, পয়ঃপ্রণালী সংযোগমুক্ত, ঝুলন্ত ও পাকা পায়খানা অপসারণ, গৃহের বর্ধিত অংশকে অপসারণসহ সকল অশুভ তৎপরতা বন্ধ করতে সিটিজেন ভয়েস নড়াইল এ বছরের ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ হতে ৩১ মার্চ ২০১৭ পর্যন্ত চিত্রা নাগরিক সচেতনতা সৃষ্টির কার্যক্রম শুরু করে।
এ সময় জেলা প্রশাসন ও সিটিজেন ভয়েস যৌথভাবে নাগরিক সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। আজ তার যৌক্তিক অবস্থান তৈরী হতে যাচ্ছে।
সিটিজেনস ভয়েস নড়াইল এর পক্ষ থেকে নড়াইলবাসির নিকট আবেদন :
প্রাকৃতিক নিস্বর্গের এক অপূর্ব সৌন্দর্যের নাম চিত্রা। চিত্রা পাড়েই গড়ে উঠেছে নড়াইল শহর এবং এতদঞ্চলের সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐতিহ্য। কাক চক্ষুর ন্যায় স্বচ্ছ জলরাশি, শান্ত জোয়ার-ভাটা, দুই পাড়ের আদরে-অনাদরে বেড়ে ওঠা সবুজ বৃক্ষরাজি এবং কুঁজনমূখর কাকলী চিত্রা নদীর অপরূপ সৌন্দর্য্যকে আরো বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে। দেশে বহমান অপরাপর নদীগুলির তুলনায় গাড় সবুজে বেষ্টিত চিত্রা নদী অনিন্দ্য সুন্দর ও অতুলনীয়।
শ্যামল স্বপ্নছায়ায় ঘেরা এ চিত্রার তীরে বসেই প্রখ্যাত সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায় “ কমলাকান্তের দপ্তর” এবং “কৃষ্ণকান্তের উইল” গ্রন্থ রচনা করেছেন। এ নদীর পলল ভূমিতেই বেড়ে উঠেছেন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ, চারণকবি বিজয় সরকার, জারিস¤্রাট মোসলেম উদ্দিন, বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস.এম. সুলতান, নন্দিত সুরকার কমল দাস গুপ্ত, উপমহাদেশের গৌরবান্বিত চিত্রনায়িকা সন্ধ্যা রায়, সমাজসেবক ফাজেল মোল্যা, অবিভক্ত বাংলার স্পিকার সৈয়দ নওশের আলী, মাশরাফি বিন মর্তুজাসহ অসংখ্য গুণী সন্তান।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় নানা অনাচার, অবিচার চিত্রার এই অপার সৌন্দর্য্যকে বিনষ্ট ও শীর্ণকায় করে চলেছে। অবৈধ স্থাপনা, বর্জ্য নিঃসরণ, পয়ঃপ্রণালীর সংযোগ, ঝুলন্ত ও পাকা পায়খান স্থাপনাসহ নানা অনৈতিক, অশুভ তৎপরতা চিত্রাকে করছে সংকুচিত ও দূষিত।
চিত্রার পাড়ঘেরা অপার সৌন্দর্য্যরাশিকে রক্ষা করতে নড়াইলের প্রত্যেক নাগরিকের দায়বদ্ধতা অনেক। আমাদের স্বতন্ত্র পরিচিতির প্রয়োজনে আমাদের সকলকে হতে হবে সচেতন। চিত্রানদীকে দূষণ ও দখলমুক্ত করার প্রয়াসে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ, বর্জ্য অপসারণ, পয়ঃপ্রণালী সংযোগমুক্ত, ঝুলন্ত ও পাকা পায়খানা অপসারণ, গৃহের বর্ধিত অংশকে অপসারণসহ সকল অশুভ তৎপরতা বন্ধ করতে হবে।
আসুন, অতীত ভুল হতে শিক্ষা নিয়ে চিত্রা নদীকে বাঁচানোর দৃঢ় প্রত্যয় গ্রহণ করি। আমি, আপনি সকলেই মিলে চিত্রা নদীকে দূষণ ও দখলমুক্ত করি, নড়াইলকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলি।