বিটিআরসি’র অলস ৭২৫ কোটি টাকা শিক্ষায় বরাদ্দের দাবী-ক্যাব

134

নড়াইল কণ্ঠ : টেলিযোগাযোগ খাতে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের অলস ৭২৫ কোটি টাকা দিয়ে টেলিযোগাযোগ সম্প্রসারণ, তথ্য প্রযুক্তি খাতে উদ্ভাবনী সহায়তা এবং শিক্ষার্থীদের বাসে ওয়াইফাই সংযোগ প্রদানের যে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে বিটিআরসি ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় তার প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার এ অলস টাকা বাংলাদেশে ভোক্তা শিক্ষায় বিশেষ করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন, অভিযোগ নিস্পত্তি, সেবা সার্ভিসের মান নিয়ে সেবা প্রদানকারী ভোক্তাদের মাঝে ডায়লগ আয়োজন ও ভোক্তা সংগঠন শক্তিশালীকরণ খাতে বরাদ্দ প্রদানের দাবি জানিয়েছেন দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষনকারী সংগঠন কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ। সম্প্রতি ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের এ সংক্রান্ত ঘোষনার পরিপ্রেক্ষিতে এক বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের অর্থ অবশ্যই ভোক্তাদের স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত। কারন বিটিআরসি এ পর্যন্ত ভোক্তাদের স্বার্থে একটি কানাকড়িও ব্যয় করেনি। আর সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের যোগান ও তারা দিয়ে আসছে।

নেতৃবৃন্দ আরো অভিযোগ করে বলেন, বিটিআিরসি টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান হলেও সব সময়ই মোবাইল অপারেটরদের স্বার্থ সংরক্ষন করে আসছে। যার কারনে মোবাইঠ অপারেটর বা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রদানকারী কোন সংস্থার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আজ পর্যন্ত আমলে নেয় নাই। এমনকি বিটিআরসিতে অভিযোগের কোন সহজ উপায় বা হেলপ লাইন নাই। যার কারনে মোবাইল অপারেটররা বাহারী বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মুখ বন্ধ করে সাধারন ভোক্তা/জনগনের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও বিটিআরসি নিরব। অন্যদিকে বাংলাদের নিরক্ষর ভোক্তারা বুঝে না বুঝে বাহারি বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে প্রতিদিন কোটি কোটি গচ্ছা দিচ্ছে। যার সহজ প্রতিকার বিটিআরসির কাছে নেই এবং তারা এবিষয়ে কোন নজরদারি আছে কিনা ও সন্দেহ। নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিটিআরসির কর্মকান্ড দেখলে মনে হয় এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মোবাইল অপারেটর বা ব্যবসায়ীদের স্বার্থে। যার কারনে মোবাইল ফোন কল বা ইন্টারনেট এর মুল্য নির্ধারনে আজ পর্যন্ত ভোক্তা বা ভোক্তা সংগঠনের কোন মতামত নেয়া হয় নাই এবং বিটিআরসির কর্মকান্ডে ভোক্তাদের কোন অংশগ্রহনের কোন সুযোগ রাখা হয় নি, যা খুবই দুঃখজনক।

ক্যাব নেতৃবৃন্দ আরো বলেন আমরা প্রতিদিন অনেক অভিযোগ পাই বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরদের প্রতারনা ও হয়রানি এবং অতিরিক্ত চার্জ আদায় এবং প্রতারনা ফাঁদ ও মিথ্যা ও শুভংকরের ফাঁকির অফার। কিন্তু এ সমস্ত অভিযোগের প্রতিকারের জন্য বিটিআরসির কাছে পাঠানো হলেও আজ পর্যন্ত একটি অভিযোগও আমলে নেয় নি। অন্যদিকে সংস্লিষ্ঠ অপারেটরদের কাছে অভিযোগ মানে প্রথম ২ মিনিট তাদের বিজ্ঞাপন এবং পরবর্তীতে অভিযোগ জানাতে পারলেও গুনতে হচ্ছে দ্বিগুন কল চার্জ। যা সত্যই দুভাগ্য জনক।

নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন মোবাইল কোম্পানী গুলি সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা বলে বিপুল পরিমান অর্থ বিজ্ঞাপনের জন্য এবং নিজেদের পণ্য বা সেবার প্রচারের জন্য ব্যয় করলেও যাদের জন্য সে সেবা স্ইে ভোক্তার জন্য কোন অর্থ ব্যয় করছে না। নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ হিসাবে বিটিআরসি ও এনবিআরকে এখানে আরো সতর্ক হওয়া দরকার। কারন তারা যে পরিমান রাজস্ব সরকারকে দেয় তার পুরোটাই ভোক্তারা যোগান দেয়। তারা শুধু বাহবা নেন এবং জনগনের প্রদত্ত অর্থে ভাগ বসান।

বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেন তারা হলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটি সদস্য এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসসিন সুলতানা পারু, সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু প্রমুখ।