নড়াইলে গণমানুষের সুলতানের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

258

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইলে নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে আর্ন্তজাতিক খ্যাতি সম্পন্ন চিত্রশিল্পী গণমানুষের এসএম সুলতানের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল কোরআন খানি, শ্রদ্ধাঞ্জলি, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) মৃত্যুবার্ষিকী এসএম সুলতান ফাউন্ডেশন ও নড়াইল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকালে বরেণ্য এই চিত্র শিল্পীর সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। নড়াইল জেলা প্রশাসন, এসএম সুলতান ফাউন্ডেশন, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, এসএম সুলতান বেঙ্গল চারুকলা মহাবিদ্যালয়, এসএম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশন, মুর্ছনা সঙ্গীত নিকেতন, নড়াইল প্রেসক্লাব, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।
এ সময় শিল্পীর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় শিল্পীর লালিত স্বপ্নের শিশুস্বর্গে শতাধিক শিশুর অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতা অংশগ্রহণকারী নড়াইলের ক্ষুধে শিল্পীদের রঙ তুলিতে বিভিন্ন দৃশ্য ফুটে ওঠে।
পরে শিশুস্বর্গ হলরুমে শিল্পীর কর্মময় জীবন নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসএম সুলতান ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোঃ এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন নড়াইলের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজী মাহাবুবুর রশিদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ ইয়ারুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালমা সেলিম, এসএম সুলতান বেঙ্গল চারুকলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ অশোক কুমার শীল, চারণ কবি রওশন আলী, বীরমুক্তিযোদ্ধা সাইফুর রহমান হিলু, নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাডভোকেট মোঃ আলমগীর সিদ্দিকী প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিবৃন্দ।
কর্মসূচিতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নের্তৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ ও সুলতান ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য যে, বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগষ্ট তৎকালিন মহকুমা শহর নড়াইলের চিত্রা নদীর পাশে সবুজ শ্যামল ছায়া ঘেরা, পাখির কলকাকলীতে মুখরিত মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম মোঃ মেছের আলী এবং মাতার নাম মাজু বিবি। বাবা মা আদর করে নাম রেখেছিলেন লাল মিয়া।
শিল্পীর জীবদ্দশায় তুলির আঁচড়ে দেশ, মাটি, মাটির গন্ধ আর ঘামে ভেজা মেহনতী মানুষের চিত্র তুলির আঁচড়ে চিত্র ফুঁটিয়ে তুলেছেন । শিল্পীর আঁকা চিত্রকর্ম দেশবিদেশে প্রদর্শনী করেছেন।
বরেণ্য এই শিল্পীর কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্সিয়াল আর্টিষ্ট হিসেবে স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা এবং ১৯৯৩ সালে রাষ্টীয় ভাবে স্বাধীনতা পদক পেয়েছিলেন।