জঙ্গি নেতা মারজানের বোন খাদিজার আত্মসমর্পণ

197

নড়াইল কণ্ঠ : যশোরে শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া সড়কে জঙ্গি সন্দেহে ঘেরাও চারতলা থেকে শীর্ষ জঙ্গি নুরুল ইসলাম মারজানের বোন তিন শিশু সন্তানসহ আত্মসমর্পণ করেছেন।
সোমবার (০৯ অক্টোবর) বেলা তিনটা পাঁচ মিনিটের দিকে পুলিশ খাদিজার মা-বাবাকে সেখানে হাজির করলে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। তার সঙ্গে তিন শিশু সন্তান রয়েছে। খাদিজা, তার মা-বাবা ও তিন সন্তান বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজমল হুদা বলেন, খাদিজার শর্ত অনুযায়ী তার বাবা মাকে হাজির করা হয়। এক পর্যায়ে খাদিজা আত্মসমর্পণ করেন। বর্তমানে তারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ মাইকে জঙ্গি মারজানের বোন খাদিজাকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানায়।
বেলা পৌনে দু্ইটার দিকে খাদিজা দোতলার ব্যালকনি থেকে পুলিশের প্রতি শর্তারোপ করে জানান, তার বাবা মাকে তার সামনে হাজির করলে তিনি সন্তানসহ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন। পুলিশ সে সময় জানান, খাদিজার শর্তানুসারে তার বাবা-মাকে বগুড়া থেকে যশোরে আনার চেষ্টা চলছে। এর পর তার বাবা-মাকে বেলা পৌনে তিনটার দিকে ঘটনাস্থলে হাজির করা হয়।
ঘটনাস্থলে যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, খাজিদার বাবা মাকে পাবনা পুলিশের সহযোগিতায় যশোরে আনা হয়েছে। খাজিদা বলেছিল, তার বাবা মায়ের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত দিবে। এজন্য তাকে কথা বলার সুযোগ করা দেওয়া হচ্ছে। এটা পুলিশের সর্বশেষ ধাপ। আত্মসমর্পণ না করলে পরবতী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে মাইক দিয়ে ঘোষণা দিয়ে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান। ছবি: সংগৃহীত
কোতয়ালী থানার অফিসার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজমল হুদা জানান, পুলিশ সুপার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খাদিজাকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। এরপর পৌনে দুইটার দিকে খাদিজা ভবনের ব্যালকোনিতে এসে পুলিশকে শর্ত দিয়েছে। তার বাবা মাকে এনে দিতে হবে। তারপর তিনি কথা বলবেন। এরপর তিনি আবার ভেতরে চলে যান।
এদিকে, সোমবার বেলা ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান হাত মাইকে খাদেজা ও তার পরিবারের সদস্যদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। তিনি মাইকে বলেন, খাদিজা আপনি বেরিয়ে আসেন। আপনার সঙ্গে আমরা কথা বলতে চাই। আপনার সঙ্গে শিশুরাও রয়েছে। তাদের কথা চিন্তা করে আপনি বেরিয়ে আসনে, আমরা কথা বলব। আপনি আত্মসমর্পণ করেন। আমরা আপনার সকল সহযোাগিতা করব। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পুলিশ সুপারের আহ্বানে সাড়া দেয়নি জঙ্গিরা।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে ব্রিফিং এ পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, ওই বাড়িতে পাঁচটি পরিবার ছিল। তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাড়িটির দ্বিতীয়তলায় জঙ্গি মারজানের বোন খাদিজা রয়েছে। তার সঙ্গে একাধিক শিশু রয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছি। আমরা আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছি। শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোড এলাকার ওই বাড়িটি রোববার মধ্যরাত থেকে ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সোয়াটের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জঙ্গি আটকে এ পদক্ষেপ নিয়েছিল।
ঘোপ নওয়াপাড়া রোড মসজিদের পেছনের বাড়িটি মালিক যশোর জিলা স্কুলের শিক্ষক হায়দার আলী জানান, চারতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া মশিউর রহমান স্থানীয় একটি হারবাল কোম্পানিতে চাকরি করেন। তিনি তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে প্রায় এক বছর আগে ওই বাড়িটি ভাড়া নেন। মশিউরের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌতলপুরে। তিনি গতকাল রাতে জানতে পারেন মশিউর ও তার স্ত্রী জঙ্গি। পুলিশ রাত থেকে বাসাটি ঘিরে রেখেছে। পরে তিনি সকালে নিজ বাড়িতে ঢেকার চেষ্টা করেন কিন্তু পুলিশি বাঁধার কারণে তিনি ঢুকতে পারেননি।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আজমল হুদা জানিয়েছেন, রাত দুইটা থেকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ওই এলাকায় অবস্থান নিয়ে বাড়িটি ঘিরে রাখে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাইমুর রহমান (ক সার্কেল) সকালে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সোয়াটের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িটি ঘিরে রাখে। তাদের ধারণা এই বাড়িতে জঙ্গি অবস্থান করছে।
সোমবার (০৯ অক্টোব) ভোর পাঁচটার দিকে এএসপি মাহবুবের নেতৃত্বে সোয়াটের একটি টিম যশোরে এসে পৌঁছায়। পর পরই র‌্যাবের একটি বিশেষ টিম আসে ঘটনাস্থলে। পুলিশের খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তিন সন্তানসহ জঙ্গি খাদিজাকে আত্মসমর্পনের প্রক্রিয়াটির সমন্বয় করেন।
এদিকে তিন শিশু সন্তানসহ জঙ্গি মারজানের বোন খাদিজা আত্মসমর্পণ করলেও তার স্বামী মশিউরকে পায়নি পুলিশ। ধারনা করা হচ্ছে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রাতেই মশিউর পালিয়ে গেছে। এদিকে তিন সন্তানসহ খাদিজা আত্মসমর্পণ করার পর পরই তাদেরকে একটি কালো গ্লাসে ঢাকা মাইক্রোবাসে করে তুলে পুলিশ লাইনের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। আত্মসমর্পণকারী খাদিজা বা তার মা-বাবাকে মিডিয়ার সামনে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। পুলিশ বলছে তাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে দ্রুত তাদেরকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অপরদিকে আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পরই পুলিশের সোয়াট টিমের সদস্য ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা ওই ফ্লাটে প্রবেশ করে ব্যাপক তল্লাসী শুরু করে। তবে বিকেল চারটা পর্যন্ত ওই বাড়ি থেকে পুলিশ কী কী উদ্ধার করেছে তা জানা সম্ভব হয়নি।