রোহিঙ্গা বহর নৌকাডুবি : মরদেহ ১১, জীবিত উদ্ধার ৮

144

নড়াইল কণ্ঠ : বৈরী আবহাওয়ায় কক্সবাজারের টেকনাফসংলগ্ন উত্তাল সাগরে ফের রোহিঙ্গাবাহী একটি নৌকা ডুবেছে। এ ঘটনায় ১১টি মরদেহ ও আট রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরও অন্তত ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করেছেন উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা।
রবিবার ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার শাহপরীর দ্বীপের নাফ নদের ঘোলার চর পয়েন্টে উত্তাল সাগরে প্রবল ঢেউয়ের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের বরাত দিয়ে টেকনাফ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, ৩০ থেকে ৩৫ জন রোহিঙ্গাকে নিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় ঘোলার চর পয়েন্টে নৌকাটি ডুবে যায়। ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও শাহপরী দ্বীপে দায়িত্বরত স্টেশন কোস্টগার্ড।
এসআই আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশের সদস্যরা ঘোলারচর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালান। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে অন্তত আটজনকে। আরও অন্তত ১৫ রোহিঙ্গা নিখোঁজ রয়েছেন।
এর আগে গত ৩০ আগস্ট বুধবার রাতে নাফ নদীতে রোহিঙ্গাবোঝাই নৌকাডুবির ঘটনায় ১৯ নারী ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আর ৩০ আগস্ট বুধবার ভোরেও নাফ নদীতে নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে। তখন চারটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল।
গত ০৩ সেপ্টেম্বর রোববার টেকনাফের নাফ নদী থেকে গুলিবিদ্ধ নারী-শিশুসহ ০৭ রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ০৬ সেপ্টেম্বর বুধবার বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদীর মোহনায় রোহিঙ্গাদের ১১টি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
টেকনাফের সমুদ্র উপকূলে রোহিঙ্গাবাহী আরও দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় ০৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ভোররাত ৪টা থেকে সকাল সাড়ে আটটার মধ্যে টেকনাফের বিভিন্ন উপকূল থেকে নারী-শিশুসহ ১০ রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে নাফ নদীতে রোহিঙ্গা বোঝাই একটি নৌকা ডুবে যায়। এ ঘটনায় ১৩ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে পাঁচ শিশু ও দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে কক্সবাজারের উখিয়া সমুদ্র উপকূলে রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবির ঘটনায় ১৪ রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবির এ ঘটনায় ৬০ জনেরও বেশি প্রাণহানি ঘটেছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।