মুশফিকের প্রশ্ন, আমি কেন সরে যাব?

129

পচেফস্ট্রুমে সিরিজের প্রথম টেস্টে টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়ে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন মুশফিকুর রহিম। ব্লুমফন্টেইন টেস্টেও একই পথে হাঁটেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। আবারও সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এমনকি দেশটির গণমাধ্যমও সমালোচনা করেছে মুশফিকের এই সিদ্ধান্তের। বাদ যাননি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও। তার দাবি, তিনিও এই সিদ্ধান্তে অবাক হয়েছেন। পরবর্তীতে ব্লুমফন্টেইন টেস্টের প্রথম দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের বাজে পারফরম্যান্স ও সংবাদ সম্মেলনে কোচকে নিয়ে মন্তব্য করে বসেন মুশফিক।
যা তার অবস্থানকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। এরপর থেকেই জোর গুঞ্জন শুরু হয়, ব্লুমফন্টেইন টেস্ট শেষেই অধিনায়কত্ব ছাড়ছেন মুশফিক। তবে তা হচ্ছে না। ইনিংস ও ২৫৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারের পর ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক বলেছেন, ‘আমি কেন সরে যাব? এটা তো ব্যক্তিগত কোনও খেলা না, দলীয় খেলা। অবশ্যই অধিনায়ক হিসেবে সব ব্যর্থতার দায় আমার দিকেই আসবে। আমি সেটা নিচ্ছিও। দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া আমার জন্য অনেক সম্মানের। আমি গর্বিত। এটা হবে বোর্ডের সিদ্ধান্ত। কারণ, তারাই আমাকে এনেছে।
ব্লুমফন্টেইন টেস্টের প্রথম দিন শেষে মুশফিক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে চেষ্টা করছি সততার সঙ্গে সব পালন করতে। গত ১২ বছর এই চেষ্টাই করেছি। এ দুই টেস্টে মনে হচ্ছে টস হারলে ভাল হয়। আগে কখনও এটা মনে হয়নি! এটা হয়তো আমার ব্যক্তিগত ব্যর্থতা। হয়তো দলকে ওভাবে উৎসাহিত করতে পারছি না বা বোলারদের দিক নির্দেশনা করতে পারছি না। কোচরা চেয়েছেন আমি যেন বাইরে বাইরে ফিল্ডিং করি। কারণ, সামনে থাকলে আমার কাছ থেকে নাকি রান হয়ে যায়। আমার হাতে ক্যাচট্যাচ আসলে নাকি ধরার সুযোগ থাকে না। টিম ম্যানেজমেন্ট যেটা আপনাকে বলবে সেটা তো আপনার করতে হবে।
মুশফিকের এমন মন্তব্য ভালভাবে নেয়নি বোর্ড। বাংলাদেশ অধিনায়কের এমন মন্তব্যের জবাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একজন পরিচালক বলেছিলেন, ‘অধিনায়ক প্রকাশ্যে এভাবে বোলারদের সমালোচনা করতে পারেন না। টস জিতে ভুল হয়েছে, এটাই বা কেমন কথা! তার এমন মন্তব্যে বোর্ড সন্তুষ্ট নয়।’ মুশফিক এর প্রতি উত্তরে জানালেন, তার কোন মন্তব্যে বোর্ড যদি খুশি না হয় সেক্ষেত্রে বোর্ড যে কোনও সিদ্ধান্তই নিতে পারে।
এ প্রসঙ্গে মুশফিকের ভাষ্য, ‘যা ঘটেছে আমি প্রথম দিনের খেলা শেষে কথা বলতে এসে কেবল তারই বর্ণনা দিয়েছি। যদি কেউ আমার মন্তব্যে খুশি না হয় তাদের অধিকার আছে আমার বা দলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। আমাকে সরানো হবে কি না এই সিদ্ধান্তের ভার বোর্ডের ওপর। তারাই আমাকে এই সম্মান, দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছে। আমি সততার সঙ্গে আমার সেরা চেষ্টা করেছি। তারা যদি সন্তুষ্ট না হয় তাহলে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
মুশফিকের দুর্ভাগ্যই বলা যায়, দুই ম্যাচের এই টেস্ট সিরিজের সব কিছুই তার প্রতিকূলে গেছে। দুই টেস্টেই দলের ব্যাটিং-বোলিং পড়েছে চরম দুর্দশায়। প্রথম টেস্টে ৩৩৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারের পর দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ২৫৪ রানের ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার কাছে ইনিংস ও ২৪৮ রানে হারার পর এবারই প্রথম ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ। তার নিজের ব্যাট থেকেও যেন হারিয়ে গেছে সাবলীল ছন্দ। প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসে যথাক্রমে ১৬ এবং ৪৪ রান করেন মুশফিক। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে সাত এবং দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ২৬ রান।
২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে সাকিব আল হাসানকে সরিয়ে তিন ফরম্যাটেই অধিনায়ক করা হয় মুশফিককে। তবে চাপ কমাতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে মুশফিককে সরিয়ে মাশরাফি বিন মুর্তজার কাঁধে তুলে দেওয়া হয় নেতৃত্বভার। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব ছাড়লেও টেস্টের নেতৃত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন মুশফিক। তার অধীনে এখন পর্যন্ত খেলা ৩৪ টেস্টে ৭টিতে জয়, ৯টি ড্র ও ১৮টিতে হেরেছে বাংলাদেশ।