নড়াইলে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় এসপি’র উদ্যোগে থানায় মামলা

1152

নড়াইল কণ্ঠ : লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের মাঝিপাড়ার রাজবংশী পরিবারের শারীরিক নির্যাতিত শিক্ষক মনি কুমার বিশ্বাস ৪দিন অবরুদ্ধ থাকার পর হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স ফোরাম (এইচআরডিএফ)’এর নেতৃবৃন্দের তৎপতায় ও নড়াইলের এসপি সরদার রকিবুল ইসলামের সরাসরি হস্তক্ষেপে লোহাগড়া থানায় মামলা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাকে গত শুক্রবার (৬ অক্টোবর) রাত ১২টায় নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সরেজমিন গিয়ে জানাযায়, উপজেলার মরিচপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ডেমোনেস্টেটর ও মাঝিপাড়া পূজামন্ডব কমিটির সভাপতি মনি কুমার বিশ্বাস গত ২ অক্টোবর রাতে লাহুড়িয়া বাজার থেকে বাড়ী ফেরার পথে একই গ্রামের রোস্তম মিয়ার ছেলে মনিরুল ইসলাম, আনিচুর রহমান, ডাঃ আমিনুর রহমান, ইউপি মেম্বর লাহুড়িয়া ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আকবর ও তার ভাই আমিনুর ধরে নিয়ে মেহগিনি গাছের সাথে বেঁধে মারপিট করে এবং ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। খবর পেয়ে মনি কুমারকে বাঁচাতে তার স্ত্রী শিক্ষিক বাসনা রানী, প্রতিবেশী ত্রিনাথ ও পরিমল স্বর্ণকার নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং সাড়ে ৪ লাখ টাকার একটি চেক ও একটি ফাঁকা ষ্ট্যাম্প দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনে। বাকী সাড়ে ৪ লাখ টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে দিতে না পারলে এবং এ নিয়ে বেশী বাড়াবাড়ি করলে হত্যা ও দেশ ছাড়ার হুমকিও দেয় ওই সন্ত্রাসীরা।
বাসনা রানী ও প্রতিবেশী গৌরাঙ্গ বিশ্বাস জানান, মাঝিপাড়া গ্রামের রোস্তম মিয়ার ছেলে মনিরুল ইসলাম,আনিচুর রহমান ,ডাঃ আমিনুর রহমান, ডহরপাড়া গ্রামের আকবর মেম্বর ও তার ভাই আমিনুর দীর্ঘদিন ধরে আমরা কোটিপতি হয়ে গেছি বলে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবী করে আসছিলো। পরিকল্পিতভাবে তারা আমার স্বামীর নামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে গত ২ অক্টোবর রাতে লাহুড়িয়া বাজার থেকে বাড়ী ফেরার পথে ধরে নিয়ে মনিরুলদের বাড়ী পার্শ্বের বাগানে মেহগিনি গাছের সাথে বেঁধে বেধড়ক মারপিট করতে থাকে এবং ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। খবর পেয়ে আমি প্রতিবেশী দুইজনকে সাথে নিয়ে বাড়ী থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং সাড়ে ৪ লাখ টাকার চেক তাদের দিয়ে স্বামীকে ছাড়িয়ে আনি। ওই সন্ত্রাসীদের ভয়ে আহত স্বামীকে হাসপাতালে নিতে ব্যর্থ হয়ে গ্রাম্য ডাক্তারের চিকিৎসা দিয়ে বাড়ীতে রাখা হয়েছে। তাদের হুমকিতে মামলা করতে সাহস পাচ্ছি না,্ মামলা করলে হত্যা এবং দেশ ছাড়ার ভয় দেওয়া হচ্ছে।
অবশেষে নড়াইলের পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলামের সরাসরি হস্তক্ষেপে লোহাগড়া থানায় মনি কুমার বিশ্বাসের স্ত্রী বাসনা রানী বাদি হয়ে একটি মামলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ডহরপাড়া গ্রামের নবম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে ইভটিজিং করার অভিযোগ রয়েছে। লাহুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দাউদ হোসেন জানান, আমার এলাকায় এরকম একটি ঘটনা হয়েছে শুনেছি। লোহাগড়া উপজেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের সভাপতি প্রবীর কুমার কুন্ডু জানান, শিক্ষককে মারপিট এবং চাঁদার ব্যাপারে আইনের আশ্রয় নেব।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে নির্যাতিত মনি কুমার বিশ্বাসের স্ত্রী বাসনা রানী বাদি হয়ে মনিরুল ইসলাম, আনিচুর রহমান, ডাঃ আমিনুর রহমান, ইউপি মেম্বর লাহুড়িয়া ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আকবর ও তার ভাই আমিনুর নামে একটি মামলা করেছে।