নড়াইল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দুদক মামলায় জামিন ॥ পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত

3189

নড়াইল কণ্ঠ : সাজাপ্রাপ্ত দুদক মামলার আসামী মো: সোহরাব হোসেন বিশ্বাস জামিন পেয়েছেন। অপরদিকে এ মামলায় আদালত সাজা দেয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নড়াইল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদ থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
গত বৃহস্পতিবার (০৫ অক্টোবর) বিকালে নড়াইল জেলা পরিষদে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি এসে পৌঁছে। নড়াইল জেলা প্রশাসক মোঃ এমদাদুল হক চৌধুরী বৃহস্পতিবার (৫অক্টোবর) এই মর্মে একটি প্রজ্ঞাপন প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত সোমবার (২ অক্টোবর) দুপুরে দুদকের একটি মামলায় যশোর স্পেশাল জজ আদালতে হাজির হলে বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আঞ্জুমান আরা স্বাক্ষরিত জারীকৃত প্রজ্ঞাপনে অনুযায়ী জেলা পরিষদ আইন ২০০০ এর ১০/১(গ) ধারা অনুযায়ী ফৌজদারী মামলায় দন্ডিত হওয়ায় তাকে অপসারনের কার্যক্রম আরম্ভ হওয়ায়, তার দ্বারা সাধারণ ক্ষমতায়ন প্রয়োগ জনস্বার্থের পরিপন্থি বলে সরকার মনে করে। সেহেতু জেলা পরিষদ সংশোধন আইন ২০১৬ ১০(গ) ধারা অনুসারে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব মোঃ সোহরাব হোসেন বিশ্বাসকে সাময়িকভাবে বরখান্ত করা হলো।
এদিকে আদালত সূত্রে জানাগেছে, এই মামলায় মহামান্য হাইকোর্ট মো: সোহরাব হোসেন বিশ্বাসসহ মামলার সকল আসামীকে অন্তর্বতিকালিন জামিন দিয়েছে।
২৬ সেপ্টেম্বর একই মামলায় আদালত নড়াইল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, (সাবেক পৌর মেয়র) বর্তমান পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাসসহ ৮ জনকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬’শ ৬৫ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদন্ডের রায় দেওয়া হয়। এর মধ্যে এ মামলার অন্যতম আসামী মো: মতিয়ার রহমান রায়ের কয়েক বছর আগেই মারা গিয়েছেন।
উল্লেখ্য, নড়াইল পৌরসভার রূপগঞ্জ পশুরহাটের ২০০৯ সালে হাট বাজার ইজারা নীতিমালার শর্ত ভঙ্গ করে ৩ সনের ইজারা মূল্য ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬’শ ৬৫ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ২০০৮ সালের ৭ আগস্ট নড়াইল থানায় মামলা হয়। বিজ্ঞ স্পেশাল জজ আদালত দন্ডবিধি ৪০৯/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এ শাস্তি দেন। দন্ডবিধি ৪০৯ ধারায় প্রত্যেকে ৩ বছর এবং ৫(২) ধারায় ৪ বছর করে শাস্তি প্রদান করে এবং প্রত্যেকে ১ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকার জরিমানা করে।