নড়াইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কারাগারে

496

নড়াইল কণ্ঠ : দুর্নীতি মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত নড়াইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বিশ্বাসকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত সোমবার ( ২ অক্টোর) সকালে তিনি যশোরের বিশেষ জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর নড়াইলের রূপগঞ্জ পশুহাট ইজারাসংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় যশোরের স্পেশাল জেলা জজ আদালত সোহরাব হোসেন বিশ্বাসসহ ৮ আসামির প্রত্যেককে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও আত্মসাৎ করা টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। এর মধ্যে দন্ডপ্রাপ্ত মতিয়ার রহমান কয়েক বছর আগেই মারা যান।
দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য ব্যক্তিরা হলেন নড়াইল পৌরসভার তৎকালীন কমিশনার শরফুল আলম লিটু, মুশফিকুর রহমান বাচ্চু, আহম্মদ আলী খান, রফিকুল ইসলাম ও তেলায়েত হোসেন। ওই দিন সোহরাব হোসেন আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। মামলার অপর আসামিদের ওই দিনই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পাবলিক প্রসিকিউটর) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে আসামি সোহরাব হোসেন নড়াইল পৌরসভার মেয়র ছিলেন। ওই সময় রূপগঞ্জ পশুহাট ইজারার দরপত্র আহ্বান করা হয়। এইচ এম সোহেল রানা পলাশ নামের এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৬৫ হাজার ৫৫৫ টাকায় ওই হাটের ইজারা পান এবং তিনি দরপত্রের নিয়ম অনুযায়ী বিডি হিসেবে ৩৩ হাজার টাকা জমা দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দরপত্র মূল্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে ইজারা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন এবং মেয়র হিসেবে সোহরাব হোসেন তা মঞ্জুর করেন। এরপর ইজারাদাতাকে তাঁর জমাকৃত টাকা ফেরত দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নতুন করে ইজারা আহ্বান না করে সবাই অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে ওই হাট তিন বছর ধরে খাস দেখিয়ে এক লাখ ৯৬ হাজার টাকা আদায় করেন এবং অর্থ আত্মসাৎ করেন।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন সমন্বিত কার্যালয় যশোরের সহকারী পরিচালক ওয়াজেদ আলী ২০০৯ সালের ৭ আগস্ট ৮ জনকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন। মামলার বিচার চলাকালীন মতিয়ার রহমান নামের এক আসামি মৃত্যুবরণ করেন।
সরকারি কৌঁসুলি সিরাজুল ইসলাম বলেন, মামলার দুটি ধারায় আদালত সবাইকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন। এর একটি ধারা হচ্ছে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরটি অর্থ আত্মসাৎ।