নড়াইলে পুলিশের বিরুদ্ধে বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ

1794

বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইল সদর উপজেলার চাকই গ্রামে পুলিশের বিরুদ্ধে তিনটি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে সোমবার (০২ অক্টোবর) দুপুরে চাকই বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের নারী ও শিশুরা। এদিকে, পুলিশের ভয়ে পুরুষেরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এছাড়া পুলিশ ক্ষতিগ্রস্থদের বাড়ি থেকে তিনটি মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসি ও ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, রবিবার (০১ অক্টোবর) দুপুরে নড়াইলের সীমান্তবর্তী যশোরের অভয়নগর উপজেলার নিমতলা এলাকায় মির্জাপুর গ্রামের জুয়েল শেখকে দুর্বৃত্তরা মারধর করে। জুয়েল নড়াইলের বিছালী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলামের সমর্থক। ভূক্তভোগীদের অভিযোগ জুয়েলকে মারধরের ঘটনায় রবিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে অতর্কিতভাবে পুলিশ এসে তাদের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়। চাকই গ্রামের ইদ্রিস শেখের স্ত্রী বলেন, ১০ থেকে ১২জন পুলিশ এসে আমাদের ঘরে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। ঘরের চেয়ার, বাক্স, ফ্যান, হাড়ি-পাতিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর চালায়। ইদ্রিস শেখের মেয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বর্ণালী অভিযোগ করে বলেন, বিছালী পুলিশ ক্যাম্পের এসআই খায়রুলের নেতৃত্বে আমাদের বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়েছে। আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি রান্নাঘরের চুলা ও চালের পাতিল ভেঙ্গে ফেলেছে। ঘরের বাক্স ভেঙ্গে ৫০হাজার টাকাও নিয়ে গেছে। আমার বাবাকে গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়েছে পুলিশ। স্বর্ণালী প্রশ্ন রেখে বলেন, আমাদের কেউ অপরাধী হলে, তার বিচার হোক। কিন্তু, পুলিশ কেন বাড়িঘর ভাঙচুর করবে। চাকই গ্রামের হেমায়েত বিশ্বাসের স্ত্রী সালমা বেগম বলেন, পুলিশ এসে আমাদের চেয়ার, শো-কেসসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এছাড়া অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে ভয়-ভীতি দেখায়। এলাকার দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিয়ে পুলিশের এ ধরণের ভূমিকায় আমরা হতবাক ! এর রহস্য কী? সদর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ রিয়াজ আলী দাবি করে বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে না থাকায় তাদের বাড়িতে পুলিশ দিয়ে হামলা ও লুটপাট করা হয়েছে।
বিছালী ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদকে কেন্দ্র করে এলাকায় বেশ কিছুদিন যাবত উত্তেজনা চলছে। আমি এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। তবে, এ ঘটনায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
বিছালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই খায়রুল বলেন, আমার বিরুদ্ধে বাড়িঘর ভাংচুরের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে ওসি স্যারের নির্দেশে আমি ঘটনাস্থলে যাই। যদিও চাকই এলাকাটি বিছালী পুলিশ ক্যাম্পের মধ্যে পড়ে না; এলাকাটি মির্জাপুর পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন। ক্ষতিগ্রস্থদের বাড়ি থেকে তিনটি মোটরসাইকেল ছিনিয়ে আনার ব্যাপারে এসআই খায়রুল বলেন, মোটরসাইকেলের ব্যাপারে মির্জাপুর ফাঁড়ি পুলিশ বলতে পারবে। এ ব্যাপারে মির্জাপুর ফাঁড়ি ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনটি মটরসাইকেল জব্দ করে পুলিশ হেফাজোতে রাখা হয়েছে।