বিজয়া দশমীতে নড়াইলে বিভিন্ন এলাকায় মেলা

193

নড়াইল কণ্ঠ : হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজার বিজয়া দশমীতে নড়াইলের বিভিন্ন স্থানে মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিসর্জনকে ঘিরে মেলায় হাজার হাজার দর্শকদের ভীড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে।
সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত দেবী দূর্গার বিসর্জনের মধ্যদিয়ে এসব মেলার সমাপ্তি ঘটে। জানাগেছে, নড়াইল শহরের আলাদাতপুর, জমিদারবাড়ি বাধাঁঘাট সহ সদর উপজেলার গোবরা, শেখহাটি, কুরুলিয়া, সিঙ্গাশোলপুর, দেবভোগ, লোহাগড়া উপজেলার লোহাগড়া শহর, নলদী, রায়গ্রাম, কলাগাছি, চালিঘাট, এড়েন্দা, দিঘলিয়া, চরদিঘলিয়া, বড়দিয়া, ইতনা, রাধানগর, লুটিয়া, কালিয়া উপজেলার কালিয়া শহর, পাটনা, মহাজন, গাজীরহাট, চাঁচুড়ী, বনগ্রাম, জুশালা সহ বিভিন্ন এলাকায় মেলা বসে।
এসব মেলায় হরেক প্রকারের মিষ্টি, হস্তশিল্প, কারুশিল্প, কসমেটিকস সহ নানা ধরনের পণ্যসামগ্রী জমজমাট বিক্রিতে খুশি দোকানীরা।নড়াইল শহরের আলাদাপুর এলাকার তাপসী দাস জানান, মা এসেছিলেন আমাদের মাঝে। বিসর্জনের মধ্যদিয়ে বিদায় নিয়েছেন। আসছে বছর আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন।
মাকে বিদায় জানানোর পাশাপাশি মেলা থেকে বিভিন্ন প্রকারের মিষ্টি কেনা হয়েছে। লোহাগড়া উপজেলার রায়গ্রামের নিখিল বিশ্বাস বলেন, ‘কলাগাছি বাজারে প্রতিবছরের মতো এবারও মেলা বসে। মেলায় বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দু-মুসলমান সবাই এসেছেন। বিজয়া দশমীর দিনে মেলায় হাজার হাজার মানুষের ভীড় জমে এবং আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে সকলে একসাথে।

এটি আমাদের এলাকার একটি সংস্কৃতিতে রূপ নিয়েছে’।জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অশোক কুন্ডু জানান, এ বছর নড়াইল জেলায় মোট ৫৯৭টি পূজা মন্ডপে শারদীয় উৎসব উদযাপিত হয়েছে। এর মধ্যে নড়াইল সদর উপজেলায় ২৬৬টি, লোহাগড়া উপজেলায় ১৬৯টি এবং কালিয়া উপজেলায় ১৬২টি। নড়াইলের চিত্র, মধুমতি, নবগঙ্গা, কাজলা নদী, বিভিন্ন বিলে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বির্সজন দেয়া হয়। বিকাল থেকেই পূজামন্ডপ থেকে প্রতিমা বিভিন্ন পয়েন্টে বিসর্জনের জন্য নেয়া হয়। যেসব এলাকায় বিসর্জন দেয়া হয়, মূলত: সেখানেই মেলা বসে। এসব মেলায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের ঢল নামে। এটি আমাদের এলাকার একটি সংস্কৃতিতে রূপ নিয়েছে’।জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অশোক কুন্ডু জানান, এ বছর নড়াইল জেলায় মোট ৫৯৭টি পূজা মন্ডপে শারদীয় উৎসব উদযাপিত হয়েছে। এর মধ্যে নড়াইল সদর উপজেলায় ২৬৬টি, লোহাগড়া উপজেলায় ১৬৯টি এবং কালিয়া উপজেলায় ১৬২টি।
নড়াইলের চিত্র, মধুমতি, নবগঙ্গা, কাজলা নদী, বিভিন্ন বিলে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বির্সজন দেয়া হয়। বিকাল থেকেই পূজামন্ডপ থেকে প্রতিমা বিভিন্ন পয়েন্টে বিসর্জনের জন্য নেয়া হয়। যেসব এলাকায় বিসর্জন দেয়া হয়, মূলত: সেখানেই মেলা বসে। এসব মেলায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের ঢল নামে।
প্রতিবছরই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব শেষ হয়। এবছরও শান্তিপুর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিকাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়। তবে রাতের দিকেই অধিকাংশ প্রতিমা বির্সজন দেওয়া হয়। নড়াইলের পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম জানান, শারদীয় উৎসবকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
পূজামন্ডপে নিরাপত্তার জন্য তিন শতাধিক পুলিশ, ৩হাজার ৩শত আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। এ বছর প্রতিটি পূজামন্ডপে পুলিশ, আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি পূজা কমিটির পক্ষ থেকে একটি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী নিরাপত্তার জন্য দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া সাদা পোষকধারী পুলিশ, টহল পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে।