ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার বাড়িভাঙ্গা খালের অবৈধ বাধ উচ্ছেদ!

801

নড়াইল কণ্ঠ : অবেশেষ উচ্ছেদ করা হলো নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের বাড়িভাঙ্গা খালের অবৈধ মাছ ধরার বাঁধ। লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মনিরা পারভীনের নের্তত্বে এসব বাধ উচ্ছেদ করা হয়। এসময় উদ্ধারকৃত কারেন্ট জাল জনগনের সামনেই পুড়িয়ে দেয়া হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযানকালে বেশ কয়েকটি আড়াআড়ি বাঁধ ও ভেশাল জাল উচ্ছেদ করা হয়। এসময় মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ ভেঙ্গে দেয়া হয়।
অভিযানকালে নলদী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ সায়েদুজ্জামান সহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভিন বলেন, ‘বাড়িভাঙ্গা খালের অবৈধ পাটা ও কারেন্ট জালের বাধ উচ্ছেদ করা হয় এবং কারেন্ট জাল পুড়িয়ে দেয়া হয়। খালে যাতে অবৈধ বাধ না থাকে সে ব্যাপারে আগামীতেও বাড়িভাঙ্গা খালের দিকে নজর থাকবে’।
জানাগেছে, লোহাগড়া উপজেলার সর্ববৃহত বিল ইছামতি। এই বিলের সাথে নবগঙ্গা নদীর সংযোগ স্থাপন করেছে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ বাড়িভাঙ্গা খাল। দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎস্য হিসেবে খ্যাত খালটি স্থানীয় কতিপয় স্বার্থান্বেষী মানুষ আড়াআড়ি বাধ দিয়ে এবং বিভিন্ন কৌশলে ডিমওয়ালা মাছ, ছোট আকৃতির মাছ নিধন করে আসছে। যার কারনে দেশীয় প্রজাতির পুটি, স্বরপুটি, শোল, টাকি, কৈ, শিং, পাবদা, ফলই, গুইতে, বাইন, টেংরা, কাকলে সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ হারিয়ে যেতে বসেছে।বিগত কয়েক বছর ধরে নবগঙ্গা নদীতে পাট পচানোর কারনে নদীর সব মাছ মরে যাবার কারনে দেশীয় প্রজাতির মাছ হারিয়ে যেতে বসেছে।যার কারনে কয়েকশত মৎস্যজীবি বাড়িভাঙ্গা খালটি সারা বছর উন্মুক্ত রাখার দাবিতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বরাবর আবেদন করেন।ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নের্তত্বে বাঁধগুলি অপসারণ করা হয়।

কলাগাছি গ্রামের মৎস্যজীবি নিখিল বিশ্বাস, চিত্ত সিকদার, সুব্রত সরকার, নিরাপদ সরকার সহ বেশ কয়েকজন মৎস্যজীবি জানান, বাড়িভাঙ্গা খালটি সারা বছর জুড়ে উন্মুক্ত থাকলে ডিমওয়ালা মাছ বিলে গিয়ে ডিম ছাড়তে পারবে। বড় হয়ে বর্ষার শেষ দিকে অবাধে নদীতে নেমে আসলে পাট পচে যে মাছ মারা যায়, সে ক্ষতি পুষিয়ে যাবে এবং নদীতে আবারও মাছে ভরপুর হয়ে উঠবে।এদিকে এবছর বৈশাখ মাসে মা মাছ নিধন বন্ধে নড়াইলের পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলামের মহতি উদ্যোগে মা মাছগুলি রক্ষা পায়। আশ্বিন কার্ত্তিক মাস জুড়ে খালটি উন্মুক্ত থাকলে মাছগুলি নদীতে নেমে আসতে পারবে বলে মনে করছেন মৎস্যজীবিরা।