নড়াইলে নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার বেবী গাজী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

124

নড়াইল কণ্ঠ : লোহাগড়া ধলইতলা গ্রামের গাজী রইজুর রহমান ওরফে বেবী গাজীর হত্যা মামলার এজহারভুক্ত আসামীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও মিথ্যা হয়রানীমূলক মামলা থেকে অব্যহতির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহত পরিবার। শনিবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে নিহতের নিজ বাড়িতে আহুত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান নিহত বেবী গাজীর মেজ পুত্র মো: রাজিব গাজী। এ সময় নিহত পরিবারের সকল সদস্য ও স্বজনরাসহ গ্রামবাসি উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মো: রাজিব গাজী তার লিখিত বক্তব্যে জানান, গত ২৮ নভেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে লোহাগড়া থেকে বাড়ি ফেরার পথে তার গ্রামের বাড়ির নিকটকে  রওশের শেখের বাড়ি ও মোর্শেদ গাজীর বাড়ির মাঝামাঝি পাকা রাস্তায় পৌঁছাবার মাত্রই আসামী লাকী বেগম, তুষার গাজী, কুটি মিয়া, শাইন গাজী সহ মামলায় উল্লেখিত আসামীরা ও অজ্ঞতা ৩৫/৪০ জন সন্ত্রাসীরা আগ্নে ও ধারাল অস্ত্র লাঠি-সোঠা পথ রোধকরে দাড় করিয়ে কুপিয়ে ও পিঠিয়ে হাত-টপায়ের রগ কেটে হত্যা করে।

গত ৩০ নভেম্বর লোহাগড়া থানায় এব্যাপারে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। মামলা নং-২০।

এ হত্যাকান্ডের ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়া ও নিজেদের রক্ষার জন্য লোহাগড়া থানায় ৩ ডিসেম্বর নিহত পরিবারসহ নিরীহ শান্তিকামী মানুষদের আসামী করে একটি মিথ্যা লুটপাট ও ভাংচুরের মামলা করে। মামলা নং-৬।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পুত্র জানান, আমার পিতা নিহতের পর থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সার্বক্ষনিক লোহাগড়া থানার পুলিশ মোতায়ন ছিল। গ্রামে কোন ভাংচুর ও লুটপাট ঘটে নাই।

তিনি নড়াইল জেলা সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের সভাপতির দায়িত্ব পালনসহ  বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন। এলাকায় একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তিনি বেশ পরিচিত ছিলেন।

জানাগেছে, লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীম আরা সুলতানা লাকির বাড়ি ধলইতলা গ্রামে। এলাকায় আধিপত্য নিয়ে বেবী গাজীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে একাধিক সূত্র মনে করছেন।

লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ কামরুজ্জামান হত্যাকান্ডের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।