গোপালগঞ্জে ব্যক্তি উদ্যোগে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস

110

গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার রামদিয়া এলাকায় সম্পুর্ন ব্যক্তিগত আর্থিক সাহায্যে গড়ে উঠেছে রামদিয়া সাব রেজিস্ট্রি অফিসটি।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ১৯৯২ সালে বেথুড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন মিয়া সাব রেজিস্ট্রি অফিস তৈরীর জন্য ৪৬ শতাংশ জমি সরকারকে দানপত্র করে দিয়ে দেয়। ১৯৯২ সাল থেকেই জমিটিতে কোন ভবন নির্মান না হওয়ায় জমিটি পরিত্যাক্ত ও বেদখল হয়ে পড়ে। তখন রেজিস্ট্রি অফিসটি চলতো একটি পরিত্যাক্ত ভাড়ার বাড়ীতে। সরকারি বরাদ্দ না থাকায় তখন দলিল লেখকরাই অফিস ভাড়া প্রদান করে আসছিল।

কাশিয়ানী উপজেলা ও রামদিয়া সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সাব রেজিস্টার প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার বিশ্বাস কাশিয়ানীতে যোগদানের পর থেকে রামদিয়াতে নিজস্ব জমিতে অফিস নির্মানের চিন্তা ভাবনা শুরু করে। প্রথমে তিনি বেদখল হয়ে যাওয়া জমিটি উদ্ধার করে। এরপর তার চিন্তা চলে আসে নিজস্ব ভবন তৈরীর।

সাব রেজিস্টার প্রদীপ কুমার বিশ্বাস ওই সরকারি জমিতে নিজম্ব ভবন তৈরীর ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সরনাপন্ন হলে তারা তেমন কোন আগ্রহ প্রকাশ না করার পরেও থেমে থাকেনী প্রদীপ কুমার বিশ্বাস। তিনি নিজে উদ্দোগী হয়ে এলাকাসহ গোপালগঞ্জ জেলা শহরের দাতা ব্যাক্তিদের সরনাপন্ন হন অফিস তৈরীর ব্যাপারে।
দাতাদের আশ্বাস পেয়ে প্রথমে তিনি ওই জায়গায় বালি ভরাট কাজে হাত দেন। তিনি প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ১ লাখ ২০ হাজার ঘনফুট বালি ভরাট করেন ওই জায়গায়।

এ সময় তিনি সরকারি ভাবে বরাদ্দ পান প্রায় ১১ মেট্রিক টন চাউল। এ ছাড়াও সাব রেজিস্টার প্রদীপ কুমার বিশ্বাস দলিলের ফি থেকে উপজেলা পরিষদের ১% ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের ১% হারে টাকা ওই অফিস তৈরীর জন্য বরাদ্দ চাইলে উপজেলা পরিষদ এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ এ রকম প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ দেয়া যাবে না বলে জানিয়ে দেয়।

তখন সাব রেজিস্টার প্রদীপ কুমার বিশ্বাসের অনুরোধে বৃটেন প্রবাসী এফ আর খান, গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মাসুদ রানা, মন্ডল গ্রুপের মালিক রবিউল সরদার, কেএম মাসুদসহ বেশ কয়েকজন দাতা ব্যক্তি এগিয়ে এসে তাদের হাতকে প্রসারিত করে দাড়ান সাব রেজিস্টার প্রদীপ কুমার বিশ্বাসের পাশে। তাদের দানে ও সহযোগিতায় গড়ে উঠে রামদিয়া সাব রেজিস্ট্রি অফিস।

ওই ভবনে বর্তমানে ৩টি রুম, ২টি বারান্দা, ২টি বাথরুম তৈরী করা হয়েছে। এ ছাড়াও দলিল লেখকদের জন্য ২টি শেড ইতিমধ্যে তৈরী করা হয়েছে এবং আরো ১টি শেড তৈরী হবে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে সাব রেজিস্টার প্রদীপ কুমার বিশ্বাসের সাথে কথা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি এই ভবন নির্মানের জন্য দাতা এফ আর খানের কাছে চির কৃতজ্ঞ তিনি প্রথমে এগিয়ে আসেন এবং আমাকে অনেক সাহায্যো করেন। তিনি ঘরের জানালার গ্রিল, লোহার দরজাসহ অনেক মালামাল দিয়েছেন এছাড়াও প্রথমেই তিনি ভবন নির্মানের জন্য ১০ হাজার ইট প্রদান করেন। তিনি আরো বলেন, আমি সকল দাতাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ যে তাদের আর্থিক সাহায্যে সহযোগীতায় এই সরকারি ভবনটি তৈরী হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমার কাজ করার প্রতি আগ্রহ আছে আমি সারা জীবন কাজ করে যেতে চাই। তিনি আরো বলেন, আমাদের এ অফিসের মাধ্যমে ৭টি ইউনিয়নের সাধারন মানুষ তাদের জমিজমার দলিল করতে আসে ইউনিয়ন গুলো হল, ফুকরা ইউনিয়ন, বেথুরী ইউনিয়ন, পুইসুর ইউনিয়ন, শিংগা ইউনিয়ন, উড়াকান্দি ইউনিয়ন, নিজামকান্দি ইউনিয়ন ও হাতিয়াড়া ইউনিয়ন। বর্তমানে এ অফিসে প্রায় ৩২ জন দলিল লেখক নিয়মিত কাজ করেন।

উল্লেখ্য বৃটেন প্রবাসী দাতা এফ আর খানই প্রথম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন ভবনটি নির্মানের জন্য তিনি শুধু ওই ভবনই নয় বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, মক্তবসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দান করেছেন। এফ আর খান গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরা গ্রামের হাজী কাঞ্চন আলী খানের পুত্র। তিনি দীর্ঘ দিন যাবত বৃটেন প্রবাসী।