খুলনা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

106

নড়াইল কণ্ঠ : খুলনা ‘জেলা আইনশৃঙ্খলা’ এবং ‘সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ’ কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার ( ১০ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মোঃ আমিন উল আহসান’র সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গৃহীত পদক্ষেপ, স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইয়াবা আসক্তি, কোচিং বাণিজ্য, হাসপাতালগুলোতে দালাল চক্রের উপদ্রব, মহানগরীতে অবৈধ যান চলাচল, হকার্স উচ্ছেদসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ সুপার বিভিন্ন পূজা মন্ডবে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটির একটি স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠনের পরামর্শ দেন। এসময় জেলা প্রশাসক ধর্মীয় সংবেদনশীল বিষয়ে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সংবাদকর্মীদের আরো সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
মাদক সংক্রান্ত আলোচনায় প্রেসক্লাব সভাপতি বলেন, মাদকের মামলা বৃদ্ধি পেলেও মাদক ব্যবসার মূল হোতারা ধরা পড়ছেনা, রাজনৈতিক নেতারা যদি সদিচ্ছা পোষন না করেন তবে কেবল পুলিশ দিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।
সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শহরে ট্রাক প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে এবং খুলনা মহানগরীকে একটি পরিছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে নগরীর অভ্যšতরের সকল প্যানা ও তোরন আগামী ১৫দিনের মধ্যে অপসারণ করবে সিটি কর্পোরেশন।
সভাপতির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক বলেন, খুলনার সার্বিক আইন পরিস্থিতি ভালো আছে কিন্তু জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে এরকম জায়গাগুলোতে আমাদেরকে বেশি নজর দিতে হবে। গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নে তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
জেলা সন্ত্রাস ও নাশকতা কমিটির সভায় জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে যেন জঙ্গিবাদ সৃষ্টির ক্ষেত্র তৈরি না হয় সেদিকে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ প্রদান করেন জেলা প্রশাসক।
সভায় খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ, পুলিশ সুপার, উপজেলা চেয়ারম্যান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যগণ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় আইনশৃঙ্খলা প্রতিবেদনে জানানো হয়, খুলনা মহানগরীর আটটি থানায় গত আগস্ট-১৭ মাসে চুরি ৫টি, খুন ১টি, অস্ত্র আইন ৪টি, দ্রুত বিচারে ১টি, ধর্ষণ ২টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ১৪টি, মাদকদ্রব্য ১৭৫টি এবং অন্যান্য ২৮টিসহ মোট ২৩০টি মামলা দায়ের হয়েছে। গত জুলাই-১৭ মাসে এ সংখ্যা ছিল ২৪৭টি।
জেলার নয়টি থানায় গত আগস্ট-১৭ মাসে রাহাজানি ১টি, চুরি ৪টি, খুন ৬টি, অস্ত্রআইনে ৪টি, ধর্ষণ ৪টি, অপহরণ ১টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ১৯টি, নারী ও শিশু পাচার ১টি ও মাদকদ্রব্য ১০৭টি এবং অন্যান্য আইনে ৬৭টিসহ মোট ২১৪টি মামলা দায়ের হয়েছে। গত জুলাই -১৭ মাসে এ সংখ্যা ছিল ২২৪টি।