মাশরাফির ১১তম বিবাহ বার্ষিকী

257

নড়াইল কণ্ঠ : ৭ সেপ্টেম্বর মাশরাফি বিন মোর্তজার ১১তম বিবাহ বার্ষিকী। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মোর্তজা এ দিনে ২০০৬ সালের নড়াইলের মেয়ে সুমির সঙ্গে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এ দম্পতি দির্ঘ ১১টি বছর পার করে আজ ৭ সেপ্টেম্বর ১২ বছরে পা রাখলেন।
মাশরাফি বিন মোর্তজার ডাক নাম কৌশিক। কৌশিক নড়াইল শহরের মহিষখোলা (বয়েজ স্কুল মাঠের উত্তরপাশে) এলাকার গর্বিত পিতা গোলাম মোর্তজা স্বপনের বড় ছেলে মাশরাফি। পৈত্রিক গ্রামের বাড়ি নড়াইল সদরের চারিখাদা গ্রামে। তার মায়ের নাম হামিদা বেগম বলাকা। মাশরাফির ছোট ভাইয়ের নাম সিজার মাহমুদ।
কৌশিকের স্ত্রী সুমনা হক সুমি নড়াইল শহরের আলাদাতপুর এলাকার স্কুল শিক্ষিকা হোসনে আরা সিরাজের মেয়ে। সুমি তিন বোনের মধ্যে ছোট।
মাশরাফি-সুমির বিয়ে হয় ২০০৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ এলাকায় উৎসব কমিউনিটি সেন্টারে। নড়াইলের গর্ব নড়াইল এক্সপ্রেস বাংলাদেশ ক্রিকেটের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মোর্তজা ঠিক দুপুর ১টার পর বিশাল গাড়িবহরে বর বেশে প্রবেশ করেন কমিউনিটি সেন্টারে। ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক দু’জনের বিবাহ সম্পন্ন হয়। পরদিন নড়াইল শহরের গা ঘেসে চিত্রাপাড়ে রিসোর্টে বৌভাতের আয়োজন করা হয়। তবে বৌ-ভাতের দাওয়াতপত্রে লেখা ছিল উপহার বর্জনীয়। সেদিন জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়সহ ক্রীড়াঙ্গনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া নড়াইলের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক হাজার মানুষ নিমন্ত্রণ পেয়েছিলেন।
এদিকে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাশরাফি জন্মদিন বা বিবাহ বার্ষিকী কখনোই পালন করেন না। তাই এ বছরও বিবাহ বার্ষিকীতে কোনো আয়োজন নেই।
ঈদ শেষে বৃহস্পতিবার ভোরে মাশরাফির প্রাকটিসের কারণে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। যাত্রাপথেই বিবাহ বার্ষিকীর আনন্দটা উপভোগ করতে চান মাশরাফি দম্পতি।
মা হামিদা বেগম বলাকা ১১তম বিবাহ বার্ষিকীতে মাশরাফি, তার ছেলে, বৌমা ও মাশরাফির ছেলে মেয়ের জন্য দোয়া চেয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের সব খেলোয়াড়ের জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
দাম্পত্য জীবনে মাশরাফি-সুমির দুই সন্তান রয়েছে। প্রথম সন্তান মেয়ে। নাম হোমায়রা। তার বয়স এখন সাড়ে ৬ বছর। ছোট সন্তান ছেলে। তার নাম সাহেল। মাশরাফির জন্মদিনেই সাহেল পৃথিবীর আলো দেখেছে। সাহেলের বয়স এখন আড়াই বছর।
উল্লেখ্য, এবার ঈদ করতে মাশরাফি ৩১ আগস্ট বাড়িতে আসেন। বাড়ি আসার পর থেকে তার ব্যস্ত সময় কেটেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসা ভক্তদের সন্তুষ্ট করতে তাদের সঙ্গে সেলফি তোলা, গল্প করা, কুশল বিনিময়ে অধিকাংশ সময় কেটেছে। এ ছাড়া নড়াইলের উন্নয়নে রান ফর নড়াইল এ অংশগ্রহণ করেছেন। এ উপলক্ষে গত ৪ সেপ্টেম্বর পদযাত্রাও করেছেন।
এ ছাড়াও বাড়ির সামনের মাঠে তার প্রতিষ্ঠিত শুভেচ্ছা ক্লাবের বন্ধুদের নিয়ে প্রীতি ফুটবলও খেলেছেন। প্রতিদিনই নড়াইলে ক্ষুদে ক্রিকেটারদের প্রাকটিস করিয়েছেন। এ ক্রিকেট তারকাকে শুভেচ্ছা ক্লাবের পক্ষ থেকে ২০১৭ সালে সেরা বাঙালি নির্বাচিত হওয়ায় সম্মানা প্রদান করা হয়।