নড়াইলে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের ৪৬তম শাহাদৎ বার্ষিকী পালিত

249

বীরের নামে কলেজটি দ্রুত এমপিওভুক্তির দাবি

নড়াইল কণ্ঠ : নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জন্মস্থান নড়াইলে বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের ৪৬তম শাহাদৎ বার্ষিকী পালিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল মাজার জিয়ারত, কোরানখানি, র‌্যালি, শহীদের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, রাষ্ট্রীয় সম্মানা প্রদান, চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত।
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহম্মদ শেখ ট্রাষ্ট ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় নূর মোহাম্মদ নগরে একটি র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদের জন্মভিটায় নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহম্মদ শেখ ট্রাষ্ট, জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বীরশ্রেষ্ঠ নূূর মোহাম্মদ মহাবিদ্যালয়, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান।
শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে পুলিশের একটি চৌকষ বাহিনী রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গার্ড অব অনার প্রদান করেন।
পরে বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ স্মৃতি যাদুঘর ও পাঠাগার মিলনায়তনে আলোচনা সভা দোয়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহম্মদ শেখ ট্রাষ্টের সভাপতি ও নড়াইল জেলা প্রশাসক মোঃ এমদাদুুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন পুলিশ সুপার সরদার রকিবুুল ইসলাম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এম এম গোলাম কবীর, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালমা সেলিম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার এ্যাডভোকেট এস এ মতিন, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ট্রাষ্টের সদস্য সচিব ও চন্ডিবরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুর রহমান ভূইয়া, ট্রাষ্টের সদস্য মোল্যা কওছার উদ্দিন, নড়াইল কন্ঠের সম্পাদক কাজী হাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ তারিকুল ইসলাম, শিক্ষক নেতা মোঃ কামরুজ্জামান মুকুল, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী মোঃ রাহাত উল্লাহ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ বাংলাদেশের গর্ব। তিনি সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের মহিষখোলা গ্রামে (বর্তমান নূর মোহাম্মদ নগর) জন্মগ্রহণ করায় আমরা গর্ববোধ করি।
সরকার এই বীরের প্রতি সম্মান দেখিয়ে জন্মস্থানে একটি যাদুঘর ও একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
তবে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের নামে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি ১২ বছর অতিবাহিত হলেও এখনও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকরা বিনা বেতনে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছে। এই বীরের নামে প্রতিষ্ঠিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে এখনও এমপিও ভুক্তি হয়নি।
পাশাপাশি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হলেও সেখানে কোন গেষ্ট হাউজ ও টয়লেট না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা বিশ্রাম করতে পারেন না এবং অন্যের বাড়িতে গিয়ে শোচাগারের কাজ করতে হয়।
বক্তারা নূর মোহাম্মদ নগরের উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান।
আলোচনা সভা শেষে চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিবৃন্দ।
পরে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের বিদেহী আত্মার কামনা করে দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, ছাত্র-ছাত্রী সহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক শেখ নূর মোহাম্মদ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার (মহিষখোলা) বর্তমান নূর মোহাম্মদ নগরে জন্মগ্রহণ করেন। দরিদ্র পিতা মোঃ আমানত শেখ ও মাতা মোসাঃ জেন্নাতা খানমের আশা ছিল ছেলে বড় হয়ে লেখাপড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হয়ে দেশের মুখ উজ্জল করবে। কিন্তু ডানপিটে নূর মোহাম্মদ আর বেশিদুর এগোতে পারেননি।
স্থানীয় বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত অবস্থায় তাঁর শিক্ষা জীবনের অবসান ঘটে। এরপর ১৯৫৯ সালের ১৪ মার্চ নূর মোহাম্মদ তৎকালীন ইষ্ট পাকিস্থান রেজিমেন্টে যোগদান করেন এবং কৃতিত্বের সঙ্গে প্রশিক্ষণ শেষে একই বছরের ৩ ডিসেম্বর দিনাজপুর সেক্টরে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ১৯৭০ সালের ১ জুলাই যশোর সেক্টর হেড কোয়ার্টারে বদলি হয়ে আসেন।
১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধকালে ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ ৮ নং সেক্টরে সাবেক ইপিআর ও বাঙ্গালি সেনাদের নিয়ে গঠিত একটি কোম্পানীতে যোগদান করেন। ১৯৭১ এর ৫ সেপ্টেম্বর নূর মোহাম্মদ যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গোয়ালহাটি গ্রামের সম্মুখ যুদ্ধে নিহত হন তিনি। যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর গ্রামে তাকে দাফন করা হয়।