সরকারি অফিসে সক্রিয় দালালদের তালিকা চাইলেন দুদক

147

নড়াইল কণ্ঠ : সরকারি অফিসে সক্রিয় দালালদের তালিকা করে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্থাটির কমিশনার নাসির উদ্দিন আহমেদ। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ‘গণশুনানি বিষয়ক মতবিনিময়’ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
চট্টগ্রামের বাঁশখালী, আনোয়ারা, লোহাগাড়াসহ কয়েকটি উপজেলায় ইতিপূর্বে হওয়া দুদকের গণশুনানি বিষয়ে মতবিনিময় করতে এ সভার আয়োজন করা হয়। যৌথভাবে সভার আয়োজন করে দুদক, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও টিআইবি চট্টগ্রাম মহানগর।
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে নাসির উদ্দিন বলেন, দালালদের তালিকা করুন। রাজনৈতিক ছত্রছায়ার অসুবিধা থাকলে গোপনে আমাদের দেন। আপনাদের নিয়োগ-পদোন্নতির অসুবিধা আছে, আমাদের নেই। রাজনৈতিক বিষয় যদি মনে করেন হ্যান্ডেল করা কঠিন, আমাদের দেন; সে যত বড়ই হোক ব্যবস্থা নেব। আইসিটি অ্যাক্ট অনুসারে কথা যদি মোবাইলে রেকর্ড করেন সেটাও এভিডেন্স। গোপনে রেকর্ড করে আমাদের দিন।
সভায় দুদক কমিশনার সরকারি কর্মকর্তাদের ১৫ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। এর মধ্যে আছে হেল্প ডেস্ক চালু, দফতর প্রধানদের সঙ্গে সেবাগ্রহীতাদের সরাসারি কথা বলার ব্যবস্থা করা, প্রতি সপ্তাহে গণশুনানির ব্যবস্থা করা, তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ, ইউনিয়ন পর্যায়ে সিটিজেন চার্টার টাঙানো, সিটিজেন রিপোর্ট কার্ড চালু করা, মোবাইল ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেবা প্রদান ইত্যাদি। দুদক কমিশনার নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, নভেম্বর মাসে সময় নিয়ে চট্টগ্রামের অফিসগুলো ভিজিট করব। শুরু করব মেডিক্যাল কলেজ দিয়ে। সেখানে সাধারণ মানুষের চলাচল বেশি। ওয়াসা বা আরো কিছু জায়গায় যেখানে সাধারণ মানুষের অংশীদারিত্ব আছে সেখানে যাব। জনগণের কাছে যাব। জনগণ সন্তুষ্ট হলে আমরাও সন্তুষ্ট। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি যদি হয়, তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
সভায় দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য এ বি এম খালেকুজ্জামান বলেন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের পরিবেশ অমানবিক। সেখানে রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। ময়লা আর্বজনা এবং অব্যবস্থাপনা চরমে। সেখানে মানুষও থাকে, কুকুরও থাকে। কুকুরের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে, মানুষের সঙ্গে না।
দুদক চট্টগ্রামের পরিচালক আবু সাঈদের সভাপতিত্বে সভায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), পল্লী বিদ্যুৎ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার বিষয়ে অভিযোগ করেন সনাক, টিআইবি এবং চট্টগ্রাম মহানগর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির নেতারা।