সাবেক সাংসদ খান টিপু সুলতানের ইন্তেকাল

148

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : যশোর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা খান টিপু সুলতান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি কয়েক দিন ধরে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন। শনিবার রাত সাড়ে নয়টায় চিকিৎসকরা তার লাইফ সাপোর্ট খুলে দিয়ে মৃত ঘোষণা করেন।
টিপু সুলতানের ছেলে সাদাব হুমায়ুন সুলতান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত বোর্ড লাইফ সাপোর্ট খুলে দেন। এরপর পরই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
টিপু সুলতান মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে গত মঙ্গলবার থেকে রাজধানীর ধানমন্ডির সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার থেকে তাকে নিবিড় তত্ত্বাবধানে (সিসিইউ) রাখা হয়। শুক্রবার সকাল থেকে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি মিডিয়ায় এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনও প্রচারিত হয়।
ছেলে সাদাব জানান, রবিবার বেলা ১১টায় সাবেক এই সাংসদের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। এরপর মরদেহ নেয়া হবে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে। সেখানে বাদ জোহর জানাজা শেষে তাকে হেলিকপ্টারে যশোরে আনা হবে। বাদ আসর যশোর শহরে জানাজা শেষে মরদেহ নেয়া হবে সংসদীয় এলাকা মণিরামপুরে। সেখানে বাদ মাগরিব জানাজা শেষে জন্মস্থান খুলনার ডুমুরিয়ায় নেয়া হবে। বাদ এশা ডুমুরিয়ায় শেষ দফা জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।
খান টিপু সুলতান যশোর-৫ আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ বৃহত্তর যশোর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্যের দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ
খান টিপু সুলতানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, এই জননেতার মৃত্যুতে দেশ ও জাতি হারালো একজন দক্ষ সংগঠক ও জনপ্রিয় নেতাকে।
প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

জীবনী:
খান টিপু সুলতান ১৯৫০ সালের ১৩ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন তিনি। খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়ার জমিদার বাড়ী অর্থাৎ মামার বাড়ীতে তাঁর জন্ম। দাদার বাড়ী নড়াইল জেলার নড়াইল থানার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের গোয়াল বাতান গ্রামে। দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়াকালীন বাবা ক্যান্সারে মারা গেলে টিপু সুলতান অভিভাবকহীন হয়ে পড়েন। এসময় লেখাপড়ার জন্য তাঁকে যশোরের লোনঅফিস পাড়ায় মামা বাড়ী চলে আসতে হয়।
১৯৬৬ সালে যশোর সম্মিলনী স্কুলে ১০ম শ্রেণীতে পড়াকালীন তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। এসময় তিনি অনেক ছাত্রকে ছাত্রলীগের সদস্য করেন এবং ছাত্রলীগকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করেন। এতে জেলা ছাত্রলীগের নেতারা খুশি হয়ে ঐ সময়েই তাঁকে যশোর শহর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেন। ১৯৬৮ সালে ছাত্রলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি পুনঃনির্বাচিত হন তিনি। ১৯৬৯ সালে ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে যশোর অঞ্চলের নেতৃত্ব দেন খান টিপু সুলতান এবং ১৯৬৯ সালে অনুষ্ঠিত জেলা ছাত্রলীগ সম্মেলনে তিনি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে ১৯৭০ সালের নির্বাচন ও ১৯৭১ এর সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়ার মাধ্যমে যশোর জেলার আপামর জনগণের কাছে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
আইয়ুব খানের পতন এবং ইয়াহিয়া খানের ক্ষমতা গ্রহণের পর জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা আসে। এর কিছুদিন পর যশোরে মুসলিম লীগের নেতা নূরুল আমিনের আগমন নিয়ে গণপ্রতিরোধ সৃষ্টি করেছিলেন। এ ঘটনায় খান টিপু সুলতানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে সামরিক আদালতে মামলা হয়।