নড়াইল উন্নয়নে মাশরাফি ॥ ৪ সেপ্টেম্বর ‘রান ফর নড়াইল’ পদযাত্রা

499

নড়াইল কণ্ঠ : বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নড়াইলের সন্তান মাশরাফি-বিন-মুর্তজা নড়াইলের সার্বিক উন্নয়নের সাথে সামিল হলেন। এর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মাশরাফি গত বুধবার (১৬ আগষ্ট) রাত ৮টায় নড়াইল জেলা পাবলিক লাইব্রেরীতে এক মতবিনিময় সভায় আগামি ঈদুল আজহার দু’দিন পর ৪ সেপ্টেম্বর ‘রান ফর নড়াইল’ নামে শহরে একটি পদযাত্রার ঘোষণা দেন। শহরের রুপগঞ্জে NK_August_2017-02577ঐতিহাসিক বাঁধাঘাট চত্বর থেকে নড়াইল চৌরাস্তা পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার এ পদযাত্রায় তিনি নেতৃত্ব দিবেন। এ সভায় মাশরাফিকে সামনে রেখে ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ নামে একটি ফাউন্ডেশনের প্রস্তাবনা এবং নড়াইলের সার্বিক উন্নয়নের দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সভায় মূখ্য আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন, মাশরাফি-বিন-মুর্তজা। ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ নামে ফাউন্ডেশনের অন্যতম উদ্যোক্তা তরিকুল ইসলাম অনিক ‘নড়াইল হবে প্রজন্মের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাসস্থান’ শীর্ষক উন্নয়নের ১১টি দিক সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন।
মাশরাফি তার বক্তব্যে বলেন, নড়াইল আমার জন্মস্থান। নড়াইলকে অত্যন্ত ভালোবাসি। তাই সুযোগ পেলেই জন্মস্থানে ছুটে আসি। আপনারা সাথে থাকলে দলমত নির্বিশেষে জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন এবং সমস্যার সমাধান সম্ভব। তিনি তার বক্তব্যে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন, শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অটোকিক্সা, রিক্সা-ভ্যান চালকদের ফ্রি পানির ব্যবস্থা করা, ক্রিকেট, টেবিল-টেনিস, ভলিবল খেলার উন্নতি, পরিচ্ছন্ন শহর করতে তার যা যা করা উচিত তা করবেন বলে উপস্থিত সকলকে কথা দেন।
বুধবার রাতে মাশরাফির কয়েক বন্ধু এবং শুভাকাংখির আয়োজনে এ মতবিনিময় সভায় নড়াইলের উন্নয়নে মাশরাফির এগিয়ে আসাকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন প্রবীন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রফেসর মুন্সি হাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শরীফ হুমায়ুন কবির, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের ডেপুটি কমান্ডার অ্যাডভোকেট এস.এ মতিন, নড়াইল কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক কাজী হাফিজুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুর রহমান হিলু, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শরীফ মুনীর হোসেন, নড়াইল প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক মীর্জা নজরুল ইসলাম, নড়াইল পৌর কাউন্সিলর, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শরফুল আলম লিটু, সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম তুহিন প্রমুখ।
এছাড়া অঅওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় ৮টি বিষয়ে লক্ষ্য অর্জনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো হলো ঃ উন্নত নাগরিক সুবিধা, বিশেষায়িত শিক্ষা ব্যবস্থা, বিভিন্ন স্কুলে নৈতিকতা ও মানবিক শিক্ষার প্রচলন, বেকারতœ দূর করার জন্য কর্মস্থান সৃষ্টি, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড বৃদ্ধি এবং খেলাধুলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রশিক্ষন প্রদান, চিত্রা নদীকে ঘিরে আকর্ষনীয় পর্যটন এলাকা করা, আইসিটি শহরে রুপান্তরিত করা এবং পরিবেশকে সম্পৃক্ত রেখে বিনোদন বান্ধব শহর করা।