যশোরে কুরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে প্রস্তুত খামারিরা; জেলায় ৫৫ হাজার গরু ছাগলের চাহিদা

145

নড়াইল কণ্ঠ : যশোর সদরের গোপালপুর গ্রামের আলমগীর সিদ্দিক। এবারের কোরবানী ঈদকে লক্ষ্য করে নিজস্ব খামারে ১৪টি দেশি গরু লালন পালন করছেন। প্রতিদিন এশটি গরুর পেছনে তার ব্যয় হয় ১২৫ টাকা করে। গরুকে তিনি খেতে দেন খৈল, ভুসি, কুড়া ও কাঁচা ঘাস। গতবার ভারত থেকে গরু আসায় তিনি লোকসানের কবলে পড়েছিলেন। এবারও সেই আশংকা করছেন তিনি।
গরু খামার ব্যবসায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অনেকেই এ পেশায় আসতে উৎসাহিত হবেন। পশুর উপযুক্ত দাম পাওয়া গেলে ভারত থেকে গরু আনার দরকার হবে না। স্থানীয় খামারিরাই দেশের মাংসের জোগান দিতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি।
পাশের খামারি টনি মাহমুদ। তিনিও ১৮টি গরু দিয়ে খামার গড়ে তুলেছেন। আশা করছেন, ভারত থেকে গুরু না এলে তিনি তার খামারের গরুর দাম ভালো পাবেন। গরু বিক্রির টাকায় আরও বড় খামার করার স্বপ্ন দেখছেন এ দু’জন খামারি।
শুধু ওই দুই খামারি নয়, যশোর জেলায় এবার কুরবানি উপলক্ষে ১৪ হাজার ৫৩০টি খামারে ৬৮ হাজার ১২৮টি গরু-ছাগল মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে।্ এর মধ্যে গরু রয়েছে ৩৫ হাজার ৭৫২টি এবং ছাগল ও ভেড়া আছে ৩২ হাজার ৩৭৬টি। গত বছর যশোরে ১১ হাজার ২১২টি খামারে ৭০ হাজার ২৫৭টি গরু-ছাগল মোটাতাজা করা হয়েছিল।
জানা গেছে, অধিকাংশ খামারি নিজেদের গচ্ছিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পুঁজি বিনিয়োগ করে কুরবানির পশু পালন করছেন। ভারতে গরু আমদানি কমলে দেশীয় গরু পালন বৃদ্ধি পাবে, খামারিরাও লাভবান হবে বলে দাবি করেছেন খামারি ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা।
জেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, এবারের কুরবানিতে জেলায় ৫৫ হাজার গরু ও ছাগলের চাহিদা রয়েছে। সেই হিসেবে জেলার ৮ উপজেলায় ৬৮ হাজার ১২৮টি পশু কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। চাহিদার চেয়ে প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি গরু ও ছাগল রয়েছে।
একজন আদর্শ খামারি হিসেবে শার্শার ত্রিমোহিনী শ্যামলাগাছির আসাদুর রহমান। তিনি নিজ উদ্যোগে গরুর খামার করেছেন। খামারে যেয়ে দেখা যায় গরুর মাথার উপর ঘুরছে বৈদ্যুতিক পাখা, নিচে কার্পেট বিছানো। মশা মাছির উৎপাত থেকে রক্ষার জন্য টাঙ্গানো রয়েছে মশারি। খাবারের তালিকায় আছে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য আর সার্বক্ষণিক চলছে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরণের পরিচর্যা। ২৪ ঘণ্টা এমন পরিচর্যা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এসব খামারে বেড়ে ওঠা গরুগুলোও হয়ে উঠছে হৃষ্টপুষ্ট ও সুন্দর।
খামার ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, ভারতীয় গরুর চাপে অন্তত পাঁচ বছর তারা এই খাতে কোন সুফল পাননি। অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন তবে এবার সুফল আসতে শুরু করেছে বলেন খামারিরা।
এদিকে স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীরা জানান, যেখানে আগে পুটখালি সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার গরু আসতো। কিন্তু ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ ও বিজিবি‘র কড়াকড়িতে এখন গরু আসছে না। চুরি করে আসলেও তা নগণ্য। এতে পূর্বে যে গরুর দাম ৪০ হাজার টাকা ছিল এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে লাখ টাকারও বেশি।
সদর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা তপনেশ্বর রায় বলেন, উপজেলার খামারগুলো কুরবানীতে পশু বিক্রি করতে প্রস্তুত রয়েছে। এখান থেকে ৫ হাজার ৭৫৮টি গরু এবং ৪৫৬৬টি সুস্থ সবল ছাগল ও ভেড়া এবারের কুরবানি ঈদে বাজারজাত করতে পারবে খামারিরা। তিনি জানান তার নিয়ন্ত্রণে খামারগুলোতে সকল গরু সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান।
এব্যাপারে যশোর জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার ভবতোষ কান্তি সরকার জানান, এবারের কুরবানির ঈদে চাহিদা মিটিয়েও অতির্কি প্রায় ১৩ হাজার ১২৮টি গরু ও ছাগল উদ্বৃত্ত থাকবে। আমরা খামারিদের সাথে সব সময় যোগাযোগ রাখছি। কেউ যাতে পশুর শরীরে ক্ষতিকারক ইনজেকশন পুশ না করে সেদিকে বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে। এমনকি প্রতিটি হাটে আমাদের মেডিকেল টিম থাকবে। ভারতীয় গরু না আসলে আমাদের কোনো প্রভাব পড়বেনা জানিয়ে তিনি বলেন, ভারতীয় গরু আসা বন্ধ হলে খামারিরা লাববান হবেন।