নড়াইলে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী পেটানোর অভিযোগ, মামলার প্রস্তুতি চলছে

604

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইল টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ফার্ম ম্যাশিনারী (ড্রইং) বিভাগের খন্ডকালিন শিক্ষক মো: হাসানুর রহমানের বিরুদ্ধে নবম শ্রেণির ছাত্রী ইশরাত জাহান উর্মিকে ষ্টীলের স্কেল দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটি বর্তমানে খুলনা মেডিক্যাল কলেজের ৩য় তলার কোরিডোরে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভূক্তভোগির পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
নড়াইল পৌর এলাকার দক্ষিণ নড়াইল গ্রামের ছাত্রী ইসরাত জাহান উর্মির বাবা আহাদ দাহার ফোনে জানান, শনিবার (৫ আগষ্ট) স্কুলের শিক্ষক হাসানুর রহমান ক্লাসে প্রশ্ন করেন, ড্রইং মানে কি? এর উত্তর ঠিকমতো দিতে না পারায় উর্মিকে ষ্টিলের স্কেল দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এ সময় সে বেঞ্চের নীচে পড়ে জ্ঞান হারায়। এ ঘটনার পর উমির্কে আঘাতজনিত অবস্থায় নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে নিউরো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখানোর পরামর্শ দিলে গত শুক্রবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, উর্মির অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। মাঝে মাঝে সে জ্ঞান হারাচ্ছে। কিছু মনে রাখতে এবং ঠিকমতো কথা বলতে পারছে না। গত রবিবার (১৩ আগস্ট) উর্মির এক শিক্ষক ৫ হাজার টাকা দিতে খুলনায় এসেছিলেন। এ অর্থ গ্রহণ করেন নি বলে জানান। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করবেন।
টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ সূত্রে জানা গেছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী জানায়, ফার্ম ম্যাশিনারী বিভাগের ড্রইং ক্লাসের শিক্ষক হাসানুর রহমান সব ছাত্র-ছাত্রীদের স্টিলের স্কেল দিয়ে পেটান। ঐদিন আমাকেও পিটিয়েছিল; মাঝে মধ্যেই তিনি ক্লাসে শিক্ষার্থীদের স্কেল দিয়ে মারধর করে থাকে। উর্মিকে মারার সময় স্যারকে বলেছিল আমাকে মারবেন না, আমি মাইর সহ্য করতে পারি না। তাকে স্কেল দিয়ে মারার সাথে সাথে বেঞ্চের নীচে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যায়।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক ফার্ম ম্যাশিনারী বিভাগের খন্ডকালীন শিক্ষক হাসানুর রহমান। মারধোরের ঘনাটি একবারে অস্বীকার করেন। উর্মি আঘাতের পর ফেসবুকে কান্নাকাটি চিৎকারের ভিডিও দেখিয়ে শিক্ষককের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আপনাদের (সাংবাদিক) বানানো ও কল্পিত, আমি এর কিছুই জানি না। আর এমন কোন ঘটনাই কলেজে ঘটেনি।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান (বিভাগীয় প্রধান ইলেকট্রিক) জানান, হাসানুর রহমান এই কলেজে একটি প্রজেক্টে চাকুরী করতেন। সেই প্রজেক্টের মেয়াদ প্রায় দুই বছর হলো শেষে হয়ে গেছে। তিনি মূলত: এ কলেজে অফিসিয়ালি আর নেই। মেয়েটির অসুস্থ্যতা ছাড়া ঘটনার ব্যাপারে তেমন কিছুই জানেন না বলে জানান।
কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোঃ ছানোয়ার হোসেন বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে যতটুকু শুনেছি তাতে মনে হয়েছে, স্কেল দিয়ে কোনো আঘাতের ঘটনা ঘটেনি। আর লাগলেও তা সামান্য। তবে এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী মীর মোস্তাক মাহমুদকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে এ ব্যাপারে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।