সংখ্যালঘু নির্যাতনকারী প্রার্থীদের সংসদ নির্বাচনে ভোট বয়কট করা হবে -রানাদাশ গুপ্ত

223

নড়াইল কণ্ঠ : দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চলছে। আগামি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলির নিকট আমরা অনুরোধ করেছি, সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করেছে এমন কোন ব্যক্তিকে যেন প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন না দেয়। যদি কোন দল এমন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয় তাহলে আমরা ঐ ব্যক্তিকে ভোট দেবো না এবং সব প্রার্থীই যদি ঐ আসনে সংখ্যালঘু নির্যাতনকারী প্রার্থী হয় তাহলে সেখানে সংখ্যালঘুরা ভোট বয়কট করবে। আমরা জেনেছি গত ৬ মাসে নড়াইল হত কমপক্ষে ১২টি পরিবার দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে। দিন দিন ভোটার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ জমি দখল, নিরাপত্তাহীনতা, বিচার না পাওয়া ও বিচার দৃশ্যমান না হওয়া।
রবিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে নড়াইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলার সিঙ্গা – শোলপুর গ্রামের মৃত নির্মল রায়ের বাড়িতে তার পরিবারের লোকদের সাথে কথা বলে এসে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানাদাশ গুপ্ত এসব কথা বলেন। অবিলম্বে নিহত নির্মল রায়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
এ সময় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম-সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জি, জেলা পূজা উদযাপন পর্ষদের সভাপতি অশোক কুমার কুন্ডু, যুগ্ম-সম্পাদক বাবুল কুমার সাহা, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নড়াইল জেলার সভাপতি মলয় কান্তি নন্দী প্রমুখ।
এর আগে রানাদাশ গুপ্ত নিহত নির্মলের স্ত্রীর সাথে একান্ত পরিবেশে কথা বলেন। পরে এ ব্যাপারে প্রেসবিফ্রিং শেষে নড়াইলের পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলামের সাথেও তিনি একান্তভাবে কথা বলেন।
উল্লেখ্য, দির্ঘদিন যাবৎ সিঙ্গা-শোলপুর গ্রামের মিল্টন প্রতিবেশী নির্মল রায়ের জমি-জমা দখল এবং দেশ ছাড়া করতে নানা কৌশল ও ষড়যন্ত্র করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিঙ্গাশোলপুর গ্রামের প্রভাবশালী মিল্টন কাজী ও তার লোকজন তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী সিঙ্গাশোলপুর হাই স্কুল মাঠের মধ্যে বেধড়ক মারধর করে।
পরে চিকিৎসার অভাবে ৩০ জুলাই রাতে তার মৃত্যু হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২ আগস্ট রাতে সদর থানায় সাতজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে।