শীর্ষধনী বাফেটের বাড়ি মাত্র আড়াই লাখ ডলার

166

নড়াইল কণ্ঠ : পারতেন বিলাসবহুল অট্টালিকা নির্মাণ করতে। যেখানে সবকিছু থাকবে স্বপ্নের মতো। এই ধরুন ১০-১২টি ডাইনিং রুম, ১৪-১৫টি ড্রয়িং রুম, একাধিক লিফট সম্বলিত আভিজাত্যময় ফ্ল্যাট; যেখানে থাকবে কয়েক হাজার মানুষের অনুষ্ঠান করার বন্দোবস্ত; পারিবারিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য পৃথক পৃথক কক্ষ; আরাম ফূর্তির জন্য আলাদা পানশালা। বাড়িতেই ২-৪টি রঙ্গিন সুইমিং পুল।
কিন্তু না, সেটা করেননি বর্তমান সময়ের দ্বিতীয় শীর্ষধনী ওয়ারেন বাফেট। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ঠিক এখনই তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার ৫৬০ কোটি ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ লাখ কোটি টাকার বেশি, বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের প্রায় দেড়গুণ। সেই বাফেট কি-না থাকেন ছোট্ট এক বাড়ি। ছোট্ট বাড়ি বলছি এজন্য, তার বাড়ির দাম তার মোট সম্পদের ১হাজার ভাগের একভাগেরও কম বলে।
ওয়ারেন বাফেটকে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে কোম্পানির প্রধান নির্বাহী। তাকে পুঁজিবাজারে একবিংশ শতকের সবচেয়ে সফল বিনিয়োগকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি খুবই দূরদৃষ্টিসম্পন্ন বিনিয়োগকারী। তিনি সম্ভাবনাময় কোম্পানি চিনে বিনিয়োগ করেন। সেখানে নতুন ও উঠতি কোম্পানি যেমন থাকে, তেমনই থাকে সাময়িক সংকটে পড়া কোম্পানি, যার বেশিরভাগকে পরে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াতে দেখা যায়। বাজারে যখন মন্দা নামে, সবাই শেয়ার বিক্রির জন্যে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তখন বাফেট হয়ে উঠেন সবচেয়ে বড় ক্রেতা।NK_July_2017_02532
বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ওমাহার নেবরাস্কায় এই ছোট্ট বাড়িতে জীবনযাপন করছেন ওয়ারেন বাফেট। তাও আবার ৫৯ বছর ধরে। ১৯৫৮ সালে তিনি এই বাড়িটি মাত্র ৩১ হাজার ৫০০ ডলার দিয়ে কেনেন। বর্তমান বাজার অনুযায়ী, যার ক্রয়মূল্য পড়ে আড়াই লাখ ডলার (প্রায় ২ কোটি টাকা)। অবশ্য এখন তিনি চাইলে বাড়িটি সাড়ে ৬ লাখ ডলারে বিক্রি করতে পারবেন।
বাফেট মনে করেন, তিনি এখন পর্যন্ত যত বিনিয়োগ করেছেন, এই বাড়িটি কেনাই তারমধ্যে তৃতীয় সেরা বিনিয়োগ।
বাড়িটির আয়তন ৬ হাজার ৫৭০ বর্গফুট। এতে রয়েছে ৫টি বেডরুম; ৩টা মোটামুটি আকারের বাথরুম। নিরাপত্তার জন্য চারপাশে বেড়া ও ক্যামেরার ব্যবস্থা।
ওয়ারেন বাফেট বলেন, আমি এখানেই সুখী। অন্য কোনো জায়গা যদি আমাকে এর চেয়ে বেশি সুখ এনে দিতে পারে, তবেই কেবল আমি জায়গা বদল করার চিন্তা করতে পারি।
খারাপ ছিল না। অভিজাত পরিবারের সন্তান হয়েও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর একটা বাসনা ছোটবেলা থেকেই ছিল। সেজন্যই কিশোর বাফেট টাকা আয়ের জন্য বাড়ি বাড়ি চুইংগাম, কোল্ড ড্রিংকস এমনকি সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনও বিক্রি শুরু করেন। আরও টাকা আয়ের জন্য দাদার মুদি দোকানে কাজ শুরু করেন তিনি। একদিকে দোকানে কাজ অন্যদিকে পত্রিকার হকারি, গলফ বল বিক্রি।
অবাক হওয়ার মতো বিষয়, হাজার হাজার কোটি ডলারের মালিক হয়েও বাফেট এখনো সাদামাটা জীবন যাপন করেন। প্রতিদিন তার সকালের নাস্তায় সর্বোচ্চ ২৫০ টাকার মতো খরচ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মত দেশে মাত্র ২৫০ টাকায় বাফেটের মতো একজন ধনকুবের নাস্তা করেন, ভাবা যায় কি! যে যাই ভাবুন না কেন, এটিই সত্য।
ব্যক্তিগত গাড়ি চালানোর জন্যও তার কোনো চালক নেই, তিনি নিজেই ড্রাইভ করেন। বিমানে চড়েন ইকনোমিক ক্লাসে।