মেক্সিকোর কারাগারে বন্দী বহু বাংলাদেশি

127

নড়াইল কণ্ঠ : মেক্সিকোর কারাগারগুলোয় অবৈধ পথে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রত্যাশী বাংলাদেশির সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রত্যাশী বাংলাদেশি লাতিন আমেরিকা, বিশেষ করে মেক্সিকোয় ২০১৩ সালে আটক হয়েছিলেন ৩২৮ জন, ২০১৪ সালে ৬৯০, ২০১৫ সালে ৬৪৮ ও ২০১৬ সালে ৬৯৭ জন। তবে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১২০ জন আটক হওয়ার কথা জানা গেছে। এরা সবাই বর্তমানে মেক্সিকোর কারাগারে বন্দী অবস্থায় রয়েছেন।
সম্প্রতি ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন এজেন্সি-এর থেকে এ সব তথ্য পাওয়া গেছে।
খাত-সংশ্লিষ্টরা জানান, অভিবাসন প্রত্যাশীদের যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে পাচারকারীরা সাধারণত জনবহুল এলাকা এড়িয়ে মরুভূমি, পাহাড় কিংবা জঙ্গলপথ বেছে নেয়। কারণ এসব স্থানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি কম। দুর্গম এসব পথ পাড়ি দিতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন অনেকেই। কেউ কেউ অসুস্থও হয়ে পড়েন। এছাড়া ১৯৯০ সালের পর থেকে শুধু মেক্সিকোর সীমান্ত এলাকায়ই ছয় হাজারের বেশি মরদেহ উদ্ধার করেছে মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এর মধ্যে কতজন বাংলাদেশি, তার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যানও নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) পরিচালক ড. সি আর আবরার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে গিয়ে প্রতি বছরই বিভিন্ন সীমান্তে বাংলাদেশিরা ধরা পড়ছেন। কিন্তু বিষয়টি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। ল্যাটিন আমেরিকার কারাগারগুলোয় যারা বন্দী অবস্থায় রয়েছেন, তাদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। একইসঙ্গে তাদের সঙ্গে কথা বলে দালাল চক্রকে শনাক্ত করতে হবে। না হলে এ ধরনের ভয়ঙ্কর যাত্রা চলতেই থাকবে।
এদিকে স্থানীয় বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে মেক্সিকোর জাতীয় অভিবাসন সংস্থা আইএনএম-এর কর্মকর্তারা এক বৈঠকে বসেন। বৈঠকে এ বিষয়ে সে দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইএনএম।
বৈঠকে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়া থেকে মেক্সিকোয় অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এসব অভিবাসীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছেন, যাদের মূল লক্ষ্য হলো সুযোগ বুঝে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি জমানো অভিবাসন প্রত্যাশীরা আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের কবলে পড়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে তারা মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছেন। এছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রত্যাশীদের জিম্মি করে মোটা অংকের অর্থ আদায় করা হয়।