সুন্দরবনের নদীতে দু’নৌযান দূর্ঘটনা, জাহাজের সিডিউল বাতিল

141

মোঃ কামরুজ্জামান বাগেরহাট প্রতিনিধি : পূর্ব সুন্দরবনের এমভি শোভন নামের একটি কার্গো জাহাজ ৭৪৫ মেট্রিকটন ফ্লাই আ্যাশ (সিমেন্ট তৈরীর কাচামাল) নিয়ে শরণখোলা রেঞ্জের মরাভোলা চরে আটকা পড়েছে। বুধবার রাতে ঘন কুয়াশায় দিক হারিয়ে ঢাকার মেসার্স আলমগীর নেভিগেশন কোম্পানির ওই জাহাজটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। গত শুক্রবার কার্গো থেকে মালামাল উদ্ধারের কথা থাকলেও কোন উদ্ধার ততপরতা দেখা যায়নি। তবে আশংকা করা হচ্ছে কার্গোটির তলা ফেঁটে যে কোন সময়ে নদীতে ডুবে যেতে পারে। এদিকে বনবিভাগ ও এলাকাবাসীর আশঙ্কা, আটকে পড়া জাহাজটি দ্রুত উদ্ধার করা না হলে যে কোনো সময় সেটি ডুবে গিয়ে সুন্দরবন আবার বড় ধরণের বিপর্যের সম্মুখীন হবে। এই একই চরে চলতি বছরের জুন মাসে দুই হাজার মেট্রিকটন সার নিয়ে এমভি জাবালে নূর নামের জাহাজটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল।

মংলা বন্দরের হারবার বিভাগ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে বন্দরের পশুর চ্যানেলের হাড়বাড়িয়ার ৫নং বয়ায় থাকা বিদেশী জাহাজ এম,ভি ইয়ানচুন পণ্য খালাস শেষে বন্দর ত্যাগ করে। এ সময় আল হেলাল-১ নামক একটি নৌযানে (ভলগেট) করে ওই জাহাজ থেকে গ্রাফ (পণ্য ওঠা-নামানো ও খালাসের যন্ত্র) নিয়ে মংলায় আসার পথিমধ্যে দুপুর ২টার দিকে নৌযানটি তলা ফেটে মুল চ্যানেলে ডুবে যায়। এরপর থেকে বন্দর চ্যানেলের ওই অংশ চরমভাবে ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। নৌপথটি ঝুকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় হাড়বাড়িয়ার ৫ নম্বর বয়াতে এম,ভি ফনিক রাইজিং নামক অপর একটি বিদেশী জাহাজ ভিড়ার সিডিউল থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়। হারবার বিভাগ আরো জানায়, ডুবন্ত নৌযানটি উদ্ধার না করা পর্যন্ত হাড়বাড়িয়ার ৫ নম্বরে নতুন করে কোন জাহাজ ভেড়ানো যাবে না।

এ ব্যাপারে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাষ্টার কমান্ডার মো: হাসান বলেন, নৌযান ডুবির কারনে মংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের ওই স্থানে একটি জাহাজ ভেড়ার কথা থাকলেও ঝুঁকি এড়াতে সেটির আগমন ও অবস্থান বাতিল করা হয়। মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (পরিচালন) আলতাফ হোসেন জানান, নৌযানটি উদ্ধারে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দূর্ঘটনাস্থল ছাড়া বন্দরের চ্যানেলের অন্য অংশ নিরাপদ রয়েছে।

গত ২৭ অক্টোবর রাতে বন্দরের পশুর চ্যানেলের জয়মনি এলাকায় কয়লা নিয়ে ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজ এম,ভি জিয়া রাজ এখনও পর্যন্ত উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি।