নড়াইলে পুলিশ কর্মকর্তার নির্যাতনে স্ত্রী হাসপাতালে

549

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার কুন্দসী গ্রামের এক পুলিশ কর্মকর্তা সৈয়দ আল-মামুন NK_July_2017_02517উজির আলী (খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কোর্ট ইন্সপেক্টর) তার স্ত্রীর ফাতেমা আক্তার শিখার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় ফাতেমা আক্তারকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
জানা গেছে, লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নান শরীফের মেয়ে ফাতেমা আক্তার শিখার (২৫) সাথে লোহাগড়া পৌরসভার কুন্দসী গ্রামের সৈয়দ সিরাজ আলীর ছেলে পুলিশ কর্মকর্তা সৈয়দ আল-মামুন উজির আলীর (৩৫) সাথে প্রায় ৫ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আরাফাত নামে তিন বছরের একটি ছেলে রয়েছে।
নির্যাতিতা গৃহবধু ফাতেমা আক্তার শিখা বলেন, ‘‘আমার স্বামী সৈয়দ আল-মামুন উজির আলী খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কোর্ট ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি প্রায় বাড়িতে এসে নতুন ভাল থানায় বদলীর কথা বলে আমার কাছে পিতার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতেন। কিন্তু আমার পিতা এতো টাকা দিতে অপরগতা প্রকাশ করলে গত শুক্রবার রাতে ও শনিবার সকালে ঘরের দরজা বন্ধ করে দু‘দফায় আমার হাতমুখ বেঁধে কিলঘুষি মারে, দুইটা মোবাইল ফোন ভেঙ্গে ফেলে গালিগালাজ করে এবং লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন যায়গায় ক্ষত করে। এসময় আমাকে তালাক দেওয়ার কথা বলে।’’
ফাতেমার পিতা আব্দুল মানাœা শরীফ জানান, তার মেয়ের মাধ্যমে জামাই ১০ লক্ষ টাকা দাবি করেন। কিন্তু এতো টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার মেয়ের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের খবর তাদের প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জানতে পেরে গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় মেয়ে ফাতেমাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবুল হাসনাত বলেন, ‘‘ফাতেমা আক্তারের চোখে, হাতে ও শরীরের নিচের অংশে আঘাতের চিহ্ন আছে।’’
এদিকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী পুলিশ কর্মকর্তা সৈয়দ আল-মামুন উজির আলী হাসপাতালে গেলে আধা ঘন্টা জনরোষের সম্মুখীন হয়। পরে লোহাগড়া থানা ওসি জাহাঙ্গীর আলম এবং এএসআই তানভীরের সহযোগীতায় পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা উজির আলী নির্যাতন ও যৌতুকের ব্যাপারে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন ‘‘ আপনারা যা পারেন লেখেন’’।
লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’