খুলনায় ‘সমৃদ্ধ রাজনৈতিক পরিবেশ’ শীর্ষক সম্মেলন

128

নড়াইল কণ্ঠ, খুলনা প্রতিনিধি : ‘সমৃদ্ধ রাজনৈতিক পরিবেশ’ শীর্ষক এক সম্মেলন খুলনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে জেলা ও মহানগরের মুখ্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশে সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশের বিকাশের পক্ষে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন। সম্মেলনে একই মঞ্চে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ অবস্থান করেন। অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির চর্চা এবং সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেকার দূরত্ব হ্রাসে করণীয় সম্পর্কে তাদের মতামত প্রকাশ করেন।
শনিবার (২২ জুলাই) সকালে ডেমক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের আয়োজনে নগরীর হোটেল ক্যাসেল সালামে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে বক্তৃতা করেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ খুলনা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান- এমপি, খুলনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ খুলনা জেলা শাখার সভাপতি শেখ হারুন অর রশিদ, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আমির এজাজ খান, খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুবির রায় ও ডেমক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল-এর চিফ অব পার্টি কেটি ক্রোক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রূপান্তর-এর নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম খোকন।
অনুষ্ঠানে মিজানুর রহমান মিজান-এমপি বলেন, শান্তি রক্ষায় রাজনৈতিক সহাবস্থান গুরুত্বপূর্ণ আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সহনশীলতা ও পরমত সহিষ্ণুতা প্রয়োজন। গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সুষ্ঠু, অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন জরুরী। প্রশাসন যেন সব রাজনৈতিক দলের প্রতি সমান আয়োজন করে তা’নিশ্চিত করবে। সারা দেশের মধ্যে খুলনায় রাজনৈতিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান অন্যন্য এলাকার জন্য উদাহরণ। সারা দেশে এমন ধারা বজায় রাখতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে ভূমিকা পালন করতে হবে।
শেখ হারুন অর রশিদ বলেন, দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিৎ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা পালন করা। আমরা একে অপরের প্রতি কাদা ছোড়াছুড়ি না করে গণতন্ত্রের ভিত্তিকে মজবুত করার জন্য কাজ করতে পারি।
মনিরুজ্জামান মনি বলেন, রাজনীতিকে অবৈধ অস্ত্র, কালোটাকামুক্ত করার জন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে অঙ্গীকার করতে হবে। নির্বাচন যাতে প্রভাবমুক্ত থাকে, সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকে তা নিশ্চিত করা জরুরী।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এ ধরণের আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মাঠ পর্যায়ে শুরু হওয়া প্রধান রাজনৈতিক দলের ভেতর এমনিতর সংলাপ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারলে তা’ এ দেশের গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গলময় হবে। মাদক ব্যবসায়ী এবং সন্ত্রাসীরা যাতে কোন রাজনৈতিক দলের আশ্রয় প্রশ্রয় না পায় সে ব্যপারে রাজনৈতিক দলগুলোর কঠোর অঙ্গীকার দরকার। দুই নেত্রীকে এক টেবিলে আনা সম্ভব হলে সব সমস্যারই সমাধান সম্ভব।
আমির এজাজ খান বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে গেলে নির্বাচন কমিশনকে স্বচ্ছ হতে হবে। গণমাধ্যম যাতে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারে তা’ নিশ্চিত করা জরুরী।
সুবীর রায় বলেন, জাতি সঠিক, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করে। আর এ কাজে নির্বাচন কমিশনকে সবার সহযোগিতা করা প্রয়োজন। গণমাধ্যম কর্মীরা দলবাজ হলে প্রকারান্তরে গণতন্ত্রই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ডিআই-এর চিফ অভ পার্টি কেটি ক্রোক তার বক্তব্যে বলেন, “জনসম্পৃক্ত ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অভাবনীয় অগ্রগতি সাধনে আমি রোমাঞ্চিত। আমাদের নতুন প্রকল্প এসপিএল এই অগ্রগতি চলমান রাখবে বলে আমি আশাবাদি।”
এবছরের এপ্রিল মাসে ডিআই এর নতুন প্রকল্প ‘স্ট্রেনথদেনিং পলিটিকাল ল্যান্ডস্কেপ ইন বাংলাদেশ’ (এসপিএল) এর উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। এই প্রকল্প পূর্ববর্তী ডেমক্রেটিক পার্টিসিপেশন এন্ড রিফর্ম (ডিপিআর)প্রকল্পের ভিত্তিকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমন্ডলে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতির বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বিগত ছয় বছরে ডিপিআর কার্যক্রমের মাধ্যমে ডি.আই. বাংলাদেশের ৬২ টি জেলায় ২,৫০,০০০ এরও বেশি তৃণমূল রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও সংস্কার কর্মকান্ডে যুক্ত করেছে। ডি.আই এর ‘নারীর জয়ে সবার জয়’ নেটওয়ার্ক এ সারা দেশের ৩০ হাজারেরও বেশি নারী নেতৃবৃন্দ যুক্ত ও তাদের মধ্যে পাঁচ হাজারেরও বেশি নারী রাজনৈতিক দলসমূহের মূল কমিটিগুলোতে ইতিমধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এছাড়াও সারা দেশ থেকে ২০৭ জন যুব নেতা ডিআই -এর “ইয়ং লিডারস ফেলোসিপ প্রোগ্রাম” থেকে চার মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ডিআই ফেলোরা ১৫ হাজারেরও বেশি তৃণমূলের যুব রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদেরকে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং তাদের সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে সংযুক্ত করেছে। ডিপিআর ও এসপিএল উভয় কার্যক্রমই ইউএসএআইডি ও ইউকেএইডের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত।