ফেস ট্রান্সপ্লান্ট মাত্র ২১ বছর বয়সে !

183

নড়াইলকণ্ঠ : কিডনি বা লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করা হয় বলে আমরা জানি কিন্তু ফেস ট্রান্সপ্লান্ট এর কথা আমরা খুব কমই শুনেছি। সম্প্রতি একজন মানুষের সম্পূর্ণ মুখমন্ডল প্রতিস্থাপন করেছেন আমেরিকার একটি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। চলুন তাহলে এই বিষয়ে জেনে নিই।
আমেরিকার ২১ বছরের একজন নারী গুলিবিদ্ধ হন তার মুখমন্ডলে। তারপর তার ফেস ট্রান্সপ্লান্করাহয়।
এই নারী মুখমন্ডলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আঘাত পান। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকে ৩১ ঘন্টার অপারেশনের পর তার ফেস ট্রান্সপ্লান্ট করা হয় বলে হাসপাতালের এক বিবৃতিতে জানানো হয়। একজন নারী দাতার মুখের ১০০% টিস্যুই প্রতিস্থাপন করা হয় সেই নারীর মুখে। এই প্রক্রিয়াটিকে ‘ফুল ফেস ট্রান্সপ্লান্ট’ বলা হয়। এই অপারেশনের ফলে রোগী স্পষ্টভাবে কথা বলতে, ভালোভাবে শ্বাস নিতে, চিবাতে, ভালোভাবে ঢোক গিলতে সক্ষম হবেন এবং তার চেহারার আবেগের প্রকাশও ভালো ভাবেই করতে পারবেন।
প্লাস্টিক সার্জন ডা. ব্রেইন গেস্টম্যান যিনি এই সার্জারির সময় ছিলেন তিনি বলেন, ‘এই রোগীকে দেখার পর এখন এটা বিশ্বাস করা যায় যে ফেস ট্রান্সপ্লান্ট সেই রোগীর জন্য সবচেয়ে বড় উপহার, কারণ সে এখন সক্রিয় জীবনযাপন করতে পারবে’। তিনি বিবৃতিতে আরো বলেন, এখন নতুন নাক, ঠোঁট, চোখের পাতা এবং চোয়াল তার, সে এখন সমাজে পুরোপুরি মিশতে পারবে এবং একজন সাধারণ তরুণীর মতোই তার ভবিষ্যৎ হবে।
হাসপাতালটি দাতা এবং রোগীর পরিচয় প্রকাশ করেনি তাদের গোপনীয়তা রক্ষা করার জন্য। কিন্তু তারা রোগীর কাছ থেকে একটি বিবৃতি রাখে। রোগী যা বলেন তা হল, ‘আরোগ্য লাভ করার এই সময়টি ছিল খুবই কঠিন, কিন্তু উপায় খুঁজে পাওয়ায় আমি কৃতজ্ঞ। এই হাসপাতাল আমার প্রতি যে যত্ন নিয়েছে এবং আমার নিরাময় লাভ করার এই ভ্রমণে যে সর্বাঙ্গিন সহযোগিতা দিয়েছে তার জন্য আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। দাতা এবং তার পরিবারের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ। আমি যে অসাধারণ উপহার পেয়েছি তার উপলব্ধি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। যারা আমার জন্য এটা সম্ভব করেছেন তাদেরকে কৃতজ্ঞচিত্তে ধন্যবাদ জানাই’।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রোগিটি ভালোভাবে আরোগ্য লাভ করছে এবং তাকে নিবিড় রিহ্যাবিলিটেশন থেরাপি, ফিজিক্যাল থেরাপি, স্পীচ এন্ড সোয়ালোইং থেরাপি এবং অকুপেশনাল থেরাপি দেয়া হবে। অন্য সকল ট্রান্সপ্লান্ট রোগীদের মতোই এই রোগীর সারাজীবন ঔষধ গ্রহণ করতে হবে যাতে তার শরীর এই ট্রান্সপ্লান্টকে প্রত্যাখ্যান না করে।
এটি ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের ৩য় ফেস ট্রান্সপ্লান্ট এবং ফুল ফেস ট্রান্সপ্লান্টের এটাই প্রথম ঘটনা এই হাসপাতালের। ফেস ট্রান্সপ্লান্ট করা হয় আমেরিকার এমন ৬ টি হাসপাতালের একটি এই হাসপাতালটি। সারা পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত মাত্র তিন ডজনেরও কম ফেস ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়েছে।