নড়াইলে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই কমিটির সভাপতির জানাযায় কমান্ডার বাকি না যাওয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ

227

নড়াইলকণ্ঠ : নড়াইল সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি মো: হাবিবুর রহমান এর গার্ড অব অনার এবং জানাযায় অংশ নেননি সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল্লাহ হেল বাকি এবং তার কয়েকজন অনুসারী। এ ঘটনায় জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।
গত মঙ্গলবার ( ১৮ জুলাই ) রাত সাড়ে ৯টায় নড়াইলের ভওয়াখালী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা এবং সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান ক্যান্সার আক্রান্ত অবস্থায় নিজ বাড়িতে মারা যান। এর পরে বুধবার ( ১৯ জুলাই ) দুপুরে বাদ যোহর ঐ মুক্তিযোদ্ধা নেতাকে তাঁর গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার রামেশ্বরপুর গ্রামের বাড়িতে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনারসহ দাফন কার্য সম্পন্ন করা হয়। নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ গার্ড অব অনার শেষে জানাযায় অংশ নেন। এর আগে নড়াইল শহরের ভওয়াখালীতে মরহুম মুক্তিযোদ্ধার প্রথম নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। দুই স্থানে জানাযা এবং গার্ড অব অনারে সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল্লাহ হেল বাকি অংশ না নেয়ায় কমান্ডার সহ মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
রামেশ্বরপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মাহাবুবুর রহমান বাদশা বলেন, ভওয়াখালী গ্রামে প্রথম জানাযা পরে একই এলাকায় অবস্থিত রূপগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে অবস্থান করছিলেন সদর উপজেলা কমান্ডার আব্দুল্লাহ হেল বাকি, ডেপুটি কমান্ডার তবিবুর রহমান সহ আরো কয়েকজন, তারা ঐ যানাজা এবং পরবর্তীতে গার্ড অব অনারে অংশগ্রহণ করেনি।
হাবিবুর রহমান এর ছোটভাই মুক্তিযোদ্ধা মোঃতবিবর রহমান খান আক্ষেপ করে বলেন, যাচাই বাছাই নিয়ে দ্বন্ধ থাকতেই পারে কিন্তু একজন মুক্তিযোদ্ধা মারা গেলে আরেক সহযোদ্ধা যাবেন না এটা মানতে কষ্ট হচ্ছে। মানুষ তো মারা গেলেই সব রাগ ভুলে যায়। আমি ছোট ভাই হিসেবে তার কাছে ক্ষমা চেয়েও গার্ড অব অনারে নিতে পারিনি।
মুক্তিযুদ্ধচলাকালীন সময়ে পলিটিক্যাল মটিভেটর সিনিয়র আইনজীবী ফজলুর রহমান জিন্নাহ (সদর উপজেলা বাছাই কমিটির মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মনোনীত সদস্য) ক্ষোভের সংগে বলেন, সদর উপজেলা কমান্ডার হিসেবে সহযোদ্ধার গার্ড অব অনারসহ দাফনে তার অগ্রণী ভুমিকা থাকার কথা। কিন্তু তার এই আচরণ আমাদের ব্যাথিত করেছে, সমগ্র মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যথিত করেছে।
যাচাই বাছাই কমিটির সদস্যসচিব নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিমা খাতুন জানান, কে যাননি সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। হাইকোর্টে নির্দেশনা অনুযায়ী আমি সদর উপজেলা কমান্ড কাউন্সিলের প্রশাসক, আমরা যথাযথভাবে দ্বায়িত্ব পালন করেছি।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য সদর উপজেলা কমান্ডার আব্দুল্লাহ হেল বাকি এর সাথে তার মোবাইল (০১৭১৮৯২৬৪৬৭) ফোনে যোগাযোগ করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
নড়াইল জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এম এম গোলাম কবীর জানান, আমি সহযোদ্ধা হাবিবুর রহমানের প্রথম জানাযা পড়ে এসে দেখলাম সদর উপজেলা কমান্ডার বাকি সাহেবসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের নীচে দাড়িয়ে আছেন। তিনি ( আব্দুল্লাহ হেল বাকি ) জানাযায় গেছেন কিনা এটা আমার জানা নেই। তবে প্রত্যেক যোদ্ধারই সহযোদ্ধাকে সম্মান দেখানো উচিত, না হলে অন্যরা আমাদের সম্মান দেখাবেন কেন?