নড়াইলে পুলিশের এসআই’র বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

506

নড়াইলকণ্ঠ : বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলা ও নারীর অসম্মতিতে গর্ভপাত ঘটানোর অবশেষে ধর্ষণের অভিযোগে নড়াইলের শেখহাটি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (আইসি) এসআই আবদুল করিমের (বর্তমানে বরখাস্ত) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নির্যাতিত এক নারী। সোমবার (১৭ জুলাই) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-এর (জেলা ও দায়রা জজ) বিচারক বাশার মুন্সীর আদালতে এই মামলা দায়ের করা হয়। ওই নারীর পক্ষে মামলাটি দায়ের করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট রোকেয়া বেগম। আগামী ৩ আগস্টের মধ্যে কালিয়া ও নড়াগাতি থানার দায়িত্বে থাকা ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ হাসানকে জুডিশিয়াল তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর আগে গত জুনে প্রতারণা ও ধর্ষণের শিকার ওই নারীর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নড়াইলের পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলামের নির্দেশে ওই এসআইকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, নির্যাতিত নারীর স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ায় সে কালিয়া থানার পাশে নিজ পিত্রালয় বসবাস করেন। প্রায় ৭ মাস আগে কালিয়া থানায় তৎকালীন কর্মরত এসআই আব্দুল করিম তার পরিবার পরিজন অন্যত্র রেখে ওই নারীর বাড়ীতে যাওয়া-আসা করতেন। এক পর্যায় এসআই করিম সুকৌশলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীর সঙ্গে অনৈতিক ও অবৈধভাবে গত বছর ১৬ ডিসেম্বর তার (বাদিনীর) পিত্রালয়ে তাকে ধর্ষণ করে। ফলশ্রুতিতে ওই মহিলার গর্ভে সন্তান আসে। তখন মহিলা তাকে বিয়ে সম্পন্ন করার কথা বললে তিনি এড়িয়ে যান। এরপর এসআই করিম চিকিৎসার নাম করে তাকে ইনজেকশন ও খাওয়ার বড়ির মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটান। পরে ভুক্তভোগী নারী নড়াইল পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। প্রাথমিকভাবে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এসআই করিমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
বাদীনির পক্ষে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট রোকেয়া বেগম জানান, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই আব্দুল করিম বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নানাভাবে প্ররোচিত করে বাদিনীকে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ধূর্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তা বিয়ে করবে বলে তাকে আজকাল করে ঘোরাতে থাকেন। আসামীর মিথ্যা প্রলোভনে বাদিনীর সরলতার সুযোগে অবৈধভাবে ধর্ষণ করার প্রতিবাদ করলে উল্টো বাদিনীকে মিথ্যাভাবে ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন। অবশেষে অসহায় নিরুপায় নির্যাতিত নারী সোমবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মামলা দায়ের করেছেন। যার মামলা নং এমপি-৪৮/১৭,তাং-১৭.০৭.২০১৭ইং।